আপনজন ডেস্ক: ব্লেসি পরিচালিত সিনেমা ‘আদুজীবিতম'-এর ট্রেলার সম্প্রতি মুক্তি পেল। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন পৃথ্বীরাজ সুকুমার। বেনিয়ামিন ড্যানিয়েল রচিত একই নামের বই থেকে নেওয়া হয়েছে এ সিনেমার কাহিনী। সিনেমাটির গল্প আধুনিক যুগের দাস ব্যবস্থার বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত। সিনেমাটির ইংরেজি নাম ‘দ্য গোট লাইফ'। একটি বাস্তব ঘটনার নিরিখেই এটি নির্মিত। এতে নাজিব নামে কেরালার এক যুবক কেমন করে মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে গিয়ে একটা অন্য জীবনে পৌঁছে যায়, সে গল্পটি বলা হয়েছে। এ সিনেমা নির্মাণে সময় লেগেছে ১৪ বছর। নানা কারণে সিনেমাটি শুরু করেও তিনি অল্প সময়ে শেষ করতে পারেননি। এই সিনেমার গল্পে নাজিবকে পার করতে হয় নানা রকম প্রতিকূলতা। সিনেমাটি নিয়েও পরিচালককে ততটাই প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ব্লেসি কাজ শুরু করেন ২০০৮ সালে। তার শর্ত ছিল মূল চরিত্রকে এ সিনেমার জন্য অন্তত দেড় বছর সময় দিতে হবে। রাজি হয়েছিলেন পৃথ্বীরাজ সুকুমার। কিন্তু মূল বইটিতে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমি, মরুঝড়ের কথা। যে ধরনের বর্ণনা ছিল আর প্রকৃতি ও পরিস্থিতির সে রকম ভিজুয়াল তৈরির জন্য যে বাজেট প্রয়োজন ছিল, তা দেওয়ার মতো প্রযোজক পাওয়া যায়নি। এক সাক্ষাৎকারে ব্লেসি বলেছিলেন, ‘আমি বইয়ে পড়া ভিজুয়ালের কারণেই সিনেমা নির্মাণের কথা ভেবেছি।’কিন্তু সে মাত্রার ভিজুয়াল তৈরি সম্ভব না হওয়ায় সিনেমা পিছিয়ে গিয়েছিল। সাত বছর পর আবার কাজ শুরু করেন ব্লেসি ও সুকুমার। কিন্তু হাতে যা বাজেট ছিল, তা অল্প দিনেই শেষ। ব্লেসি শুরু করলেন একটি তথ্যচিত্রের কাজ। সেখান থেকে অর্থ জুটিয়ে আদুজীবিতমে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। ২০১৭ সালে কাজ শুরু করে একটু এগোলেন, কিন্তু তারপর কোভিড-১৯ এসে থামিয়ে দিল। ২০২০ সালে মহামারীর কারণে সিনেমার পুরো ক্রুকে জর্ডানে আটকে থাকতে হয়েছিল প্রায় ৭০ দিন। থ্রিডিতে শুট করা আদুজীবিতমের কাজ শেষ হয় ২০২২ সালে। ব্লেসির সঙ্গে সুকুমারও লেগে ছিলেন ১৪টি বছর। আসলে এ সিনেমা সুকুমারের জন্যও বিশেষ হয়ে উঠেছিল। ওজন কমিয়েছিলেন প্রায় ২৪ কেজি। আলজেরিয়া, জর্ডানের মরুভূমিতে শুট করতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন অনেকবার। ট্রেলার আসার পরপর নিজের ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ’১৪ বছর হাজারটা বাধা, লাখ লাখ চ্যালেঞ্জ, অতিমারী—এ তিন ধাক্কা একটি কল্পনা।’
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct