২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক ও গ্রুপ সি, গ্রপ ডি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক সমর্থক ও ঘুষ দানকারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে একাধিক মামলা দায়ের হয়, যা শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। লিখেছেন পাশারুল আলম।
২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক ও গ্রুপ সি, গ্রপ ডি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক সমর্থক ও ঘুষ দানকারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে একাধিক মামলা দায়ের হয়, যা শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্ট সমস্ত নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের নির্দেশ দেয়। রাজ্য সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও, ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। ফলে ২০১৬ সালের প্যানেলভুক্ত প্রায় ২৫,০০০ শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি চলে যায়।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মূল নির্দেশনা
সমস্ত অবৈধ নিয়োগ বাতিল, তৎসঙ্গে ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন। এই প্যানেল অনুয়ায়ী যারা অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত তারা প্রাপ্ত বেতনের ১২% সুদসহ ফেরত দেবেন।
যারা অন্য সরকারি চাকরিতে ছিলেন, তারা সেখানে ফিরে যেতে পারবেন। পক্ষান্তরে যারা অন্য চাকুরীতে সুযোগ পেয়েছিল যেমন প্রাইমারি, আপার প্রাইমারি, সংস্থা, কিংবা কেন্দ্র বা রাজ্যে সরকারের কোনো চাকুরী সুযোগের পাশাপাশি ২০১৬ সালের টেট পরীক্ষায় পাস করে ছিলেন কিন্তু অন্য চাকুরী না নিয়ে বা সেই সমস্ত চাকুরীর প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহন করেন নি, তাদের জন্য কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
একাধিক মানুষের বক্তব্য একটি কমিটি গঠন করে সমস্ত বিষয়টি তিন মাসের মধ্যে তদন্ত করবেন। এরা কি কি কাজ করতে পারবেন বা এদের ক্ষমতা কি থাকবে ? এরা যোগ্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করতে পারবেন কিনা এবং তাদের নিয়োগ সুনিশ্চিত করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে একটি ভালো দিক নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনার উল্লেখ রয়েছে।
অনিষ্পন্ন প্রশ্ন ও সমাজের উদ্বেগ
সুপ্রিম কোর্টের রায় ন্যায়বিচারের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি বহু প্রশ্ন ও মানবিক সংকট রেখে গেছে:
১. নিরপরাধদের শাস্তি
অনেকেই প্রকৃতপক্ষে পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং কোনো অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু সমগ্র প্যানেল বাতিল হওয়ায় তাদেরও চাকরি গেছে। “একজন নির্দোষকে বাঁচাতে অনেক দোষী ছাড়া পেতে পারে”—এই নীতিটি এখানে প্রযোজ্য হয়নি।
২. ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার শাস্তির বৈষম্য
ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী, ঘুষদান ও ঘুষগ্রহণ উভয়ই অপরাধ। কিন্তু এই রায়ে শুধু নিয়োগপ্রাপ্তদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যারা ঘুষ নিয়েছিলেন (রাজনীতিবিদ, আমলা বা এজেন্ট) তাদের বিরুদ্ধে কোন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার নির্দেশিকার উল্লেখ নেই। তবে সিবিআই ও ইডি এই মামলা গুলি দেখছেন। তা নিজের নিয়মে চলবে বলে মহামান্য আদলত জানিয়েছেন। কিন্তু এদের যে ট্রাক রেকর্ড তাতে সন্দেহ এরা আদৌ শাস্তি দিতে পারবেন কিনা?
চাকুরী হারানোদের টাকা ফেরতের উল্লেখ থাকলেও ঘুষ গ্রহণ কারীর নিকট থেকে টাকা আদায় করে সেই সমস্ত চাকুরীর হারানো পরিবারের হাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়নি।
৩. আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝা
অনেকেই ঋণ করে বা জমি বিক্রি করে ঘুষ দিয়েছিলেন। এখন বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ তাদের জন্য অসম্ভব চাপ সৃষ্টি করবে। টাকা না দিলে জেলের আশঙ্কা, যা একটি মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
৪. পারিবারিক ও সামাজিক সংকট
অনেকের বিয়ে, সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ি কেনা—সবই এই চাকরির ভিত্তিতে হয়েছিল। হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় পারিবারিক ভাঙন, আত্মহত্যা বা সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
৫. রাজ্য সরকারের দায়মুক্তি
সরকার স্বীকার করেছে নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে, কিন্তু কে দায়ী? নথি নষ্ট করা, তদন্তে গড়িমসি—এসবের জন্য কোনো শাস্তি বা জবাবদিহি নির্ধারিত হলে ভালো হত। মূল অপরাধটা উপরের দিক থেকেই হয়েছিল। ঘুষ নিয়ে চাকুরী দেওয়া, ইলেকশন বন্ড কিনে বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার প্রবণতা আমাদের দেশে বিদ্যমান। তাই শেষমেশ হয়তো এক পক্ষের শাস্তি নির্ধারিত হবে আর অপর পক্ষ কোনো না কোনো ভাবে বেরিয়ে যাবে।
৬. পুনরায় পরীক্ষার বাস্তবতা
যারা ২০১৬ সালে পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেরই এখন বয়স বা পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নেই। নতুন প্রজন্মের সাথে প্রতিযোগিতা করে আবার টেট পাস করা কঠিন হবে। এই বিষয়ে বিশেষ ছাড় দিলে ভালো হত। তবে প্রতিবন্ধীদের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেমন নতুন প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত চাকুরীতে বহাল ও বয়সের ছাড় রয়েছে।
৭. বিকল্প চাকরির সুযোগ
যারা প্রাথমিক বা অন্যান্য চাকরির সুযোগ ত্যাগ করে মাধ্যমিকে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি এই রকম অনেকেই অন্য সুযোগ পেয়েও সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি, তাদেরকেই সেই চাকুরীর সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল কিংবা অন্য পরীক্ষার ফলাফল দেখে এদের প্রতি মানবিক হওয়ার আশা অনেকেই করেছিল। যারা জয়েন করে ছিল তারা সুযোগ পাবে কিন্তু যারা জয়েন করেন নি তারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
৮. বয়সসীমা অতিক্রম
২০১৬ সালের প্যানেলের অনেক প্রার্থীর এখন চাকরির বয়স শেষ। তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে এবং যারা দূষিত নয় তারা বয়স সীমায় ছাড় পাবেন কিন্তু যারা পরীক্ষা দিয়ে হয়তো কৃতকার্য কিংবা অকৃতকার্য হয়ে চাকুরী পাননি তাদের ছাড় দেওয়া হয়নি।
মহামান্য আদালতের রায়ের বাংলা অনুবাদ করলে যা পাওয়া যায় তা নিম্ন রূপ।
“সিদ্ধান্ত”
‘১. রিলিফের সংশোধন প্রয়োজন কি না?
আমরা কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ বা ভিত্তি পাইনি যার কারণে হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করা যেতে পারে। যেখানে ‘দূষিত প্রার্থীদের’ (tainted candidates) নিয়োগ হয়েছে, তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে এবং প্রাপ্ত বেতন বা অন্যান্য অর্থ ফেরত দিতে হবে। যেহেতু এই নিয়োগ প্রতারণার মাধ্যমে হয়েছে, এটি আইনত জালিয়াতির (cheating) শামিল। তাই, এই নির্দেশ পরিবর্তনের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।
২. অন্যান্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত
যেসব প্রার্থী সরাসরি ‘দূষিত’ হিসাবে চিহ্নিত হননি, তাদের ক্ষেত্রেও পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বেআইনি ও সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন (সংবিধানের ১৪ ও ১৬ নং অনুচ্ছেদ) হিসেবে বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে, তাদের নিয়োগও বাতিল করা হলো। তবে, যেসব প্রার্থী ইতোমধ্যে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাদের বেতন ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু তাদের চাকরি শেষ হবে। যেহেতু সমগ্র পরীক্ষা ও ফলাফল বাতিল করা হয়েছে, তাই কোনো প্রার্থীকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
৩. পূর্ববর্তী চাকরির ক্ষেত্রে সুযোগ
কিছু নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থী আগে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগ বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তাদের নিয়োগ বাতিল করা হলেও, তারা পূর্ববর্তী কর্মস্থলে পুনরায় যোগদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা সংস্থা তিন মাসের মধ্যে তাদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করবে এবং তারা পুনরায় কাজে যোগ দিতে পারবেন। এই সময়সীমার মধ্যে তাদের চাকরির কোনো ছেদ (break in service) গণ্য হবে না। তাদের পূর্ববর্তী চাকরির জ্যেষ্ঠতা (seniority) এবং অন্যান্য সুবিধা সংরক্ষিত থাকবে, এবং তারা ইনক্রিমেন্ট পাবেন। তবে, বাতিল হওয়া চাকরির সময়কালের জন্য রাজ্য সরকার বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা তাদের কোনো বেতন প্রদান করবে না। প্রয়োজন হলে এই সংক্রান্ত অতিরিক্ত পদ (supernumerary posts) সৃষ্টি করা যেতে পারে।
৪. প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত
আদালতের নজরে আনা হয়েছে যে মামলার রায়ে এক প্রতিবন্ধী প্রার্থী, সোমা দাস, মানবিক কারণে চাকরিতে বহাল থাকার অনুমতি পেয়েছেন। আমরা এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করব না। তবে, অন্য প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা একই সুবিধা পাবেন না, কারণ এটি আইন ও বিধির পরিপন্থী হবে। তবে, মানবিক বিবেচনায় তারা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেতন পাবেন এবং চাকরিতে বহাল থাকবেন।
৫. নতুন নিয়োগে সুযোগ
পূর্বোক্ত প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং তাদের বয়সসীমা শিথিল করা হবে। একইভাবে, যেসব প্রার্থী ‘দূষিত’ হিসাবে চিহ্নিত হননি, তারাও বয়সসীমা শিথিলতার সুবিধা পাবেন এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। আমাদের মতে, এটি ন্যায়সঙ্গত এবং যথাযথ নির্দেশ হবে, যা তাদের জন্য একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
৬. ফৌজদারি মামলার ওপর প্রভাব নেই
আমাদের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত কোনো ফৌজদারি মামলার ওপর প্রভাব ফেলবে না।
৭. সার্বিক সিদ্ধান্ত
আমরা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখছি, যা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাতিল করেছে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে আমরা নির্দেশ সংশোধন করেছি। আপিলগুলো এই সিদ্ধান্ত অনুসারে নিষ্পত্তি করা হলো।
৮. সুপারনিউমেরারি পদ ও CBI তদন্ত
রাজ্য সরকার কর্তৃক অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্তের বিষয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ সংক্রান্ত আপিলগুলো আলাদাভাবে শুনানি হবে। এই বিষয়ে বিশেষ অনুমতি আবেদন (SLP) ০৮.০৪.২০২৫ তারিখে তালিকাভুক্ত করা হবে।
৯. অন্যান্য আবেদন নিষ্পত্তি
সমস্ত মুলতুবি আবেদন, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্তি (impleadment) সংক্রান্ত আবেদন রয়েছে, নিষ্পত্তি করা হলো। কোনো পক্ষের জন্য খরচ নির্ধারিত হলো না।’
মাননীয় বিচারপতি
(সঞ্জীব খান্না)
(সঞ্জয় কুমার)
নতুন দিল্লি, ৩ এপ্রিল ২০২৫
৯. কমিটির ভূমিকা
বিভিন্ন জনের কাছে শোনা যাচ্ছে একটি কমিটি গঠিত হবে। কমিটি কিভাবে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করবে? পুনরায় নিয়োগের সুযোগ আছে কি? যে কমিটি গঠনের কথা বলা হচ্ছে তাদের কর্মপন্থা, অধিকার ও দায়িত্ব কি হবে তার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে। তারা যদি যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীদের চাকুরী অব্যাহত রাখতে পারেন তাহলে এই রায় সকলকেই মেনে নেওয়া উচিত।
১০. রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাব:
এত শিক্ষক একসঙ্গে চলে যাওয়ায় স্কুলগুলিতে শূন্যতা দেখা দেবে, যা শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমনিতে দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ, অবসর হয়েছেন হাজারো শিক্ষক। এদিকে হাজার হাজার শিক্ষকের চাকুরী চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা দেখা দিবে এতে করে শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
রায়ের যৌক্তিকতা ও সমালোচনা
সুপ্রিম কোর্টের রায় শুদ্ধিকরণের দিক থেকে প্রশংসনীয়, কিন্তু মানবিক দিকটি উপেক্ষিত। নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করা যেত:
নিরপরাধ প্রার্থীদের পৃথক তালিকা তৈরি করে তাদের চাকরি বহাল রাখা। এই রকম আশা অনেকেই করে ছিলেন। কিন্তু এরপর কি হবে বলা মুশকিল?
ঘুষ গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করলে ভালো হত। অন্য দিকে চাকুরী হারানোদের টাকা ফেরতের শর্ত শিথিল করে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হলে ভালো হত। কেননা, নিয়োগ কর্তার লোভের কারণে এরা সেই জালে ধরা পড়েছে। টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়ে চাকুরী পাওয়া অনুচিত কিন্তু তারা কাজ করে মাইনা নিয়েছে তাই কিস্তিতে কিস্তিতে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা হলে ভালো হত।
বিকল্প চাকরি বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা যেতে পারত। তবে পুরনো চাকুরীরতে ফেরত যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে মহামান্য আদলত। কিন্তু সেই ডিপার্টমেন্টে ভ্যাকান্সি আছে কিনা? তাদের শূন্য পদে অলরেডি নিয়োগ হয়ে গেছে কিনা? তারা এদের পুনর্বহাল করতে পারবে কিনা? এরা কত সময় লাগাবে? তাদের অর্থ সংকুলান হবে কিনা ? তাও চিন্তার বিষয়। যদিও মহামান্য আদলত ভ্যাকান্সি তৈরির আদেশ দিয়েছেন। তারা যদি কোনো অজুহাতে পুনরায় আদালতে যান তাহলে সেই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, এই রায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে, কিন্তু এটি হাজার হাজার পরিবারের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। সরকার ও আদালতের উচিত ছিল একটি সমন্বিত পুনর্বাসন নীতি ঘোষণা করা। এখন আশা করা যায়, গঠিত কমিটি ন্যায়সংগত ও মানবিক সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসবে। অন্যথায়, এই রায়ের ফলাফল শুধু চাকরি হারানো শিক্ষকদের নয়, সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজের জন্য একটি গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে।
*** মতামত লেখকের নিজস্ব
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct