সারিউল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ, আপনজন: চাকরির শেষদিনে এসে ঝাড়খণ্ডের বারহাইটে মালগাড়ি দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারালেন জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা গঙ্গেশ্বর মাল (৬৫)। মঙ্গলবার ভোররাতে ঝাড়খন্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার বারহাইট সোনাজোড়িতে লুপ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খালি মালগাড়িতে গোড্ডা জেলার লালমাটি থেকে ফারাক্কা এনটিপিসির দিকে দ্রুতগতিতে যাওয়া অপর একটি কয়লা বোঝায় মালগাড়ি সজোরে ধাক্কা দিলে ইঞ্জিন দুমড়েমুচড়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ডিজেল লোকো ইঞ্জিনের চালক গঙ্গেশ্বর মাল ও তাঁর সহকারী অম্বুজ মাহাতো। জখম হন অনেকেই। গঙ্গেশ্বরবাবুর আদিবাড়ি জিয়াগঞ্জ থানার দেবীপুরে। কর্মজীবন শুরু করেছিলেন পূর্ব রেলের হাওড়া-আজিমগঞ্জ শাখায় লোকো পাইলট হিসেবে। ১৯৯৫ সালে জিয়াগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ২০২০ সালে অবসর নিলেও দু’বছর পর এনটিপিসিতে চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে যোগ দেন। বুধবার ৩রা এপ্রিল ছিল তাঁর অবসরের দিন। শেষ শিফটের কাজে রবিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুসংবাদ পৌঁছাতেই ভট্টপাড়ার মহাজনপট্টি সহ সমগ্র জিয়াগঞ্জ শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্ত্রী রাইমোহিনী মাল স্বামীর মৃত্যুসংবাদ শুনে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। মেয়ে ময়না মাল জানান, “বাবা কাজ পাগল ছিলেন। বলতেন, সুস্থ থাকার উপায় কাজ ও খেলাধুলা।” অন্যদিকে গঙ্গেশ্বরবাবু দক্ষ সাঁতার প্রশিক্ষক ও ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন। প্রবীণ নাগরিক সমীর ঘোষ বলেন, “তাঁর ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান জিয়াগঞ্জবাসী ভুলবে না। তিনি ছিলেন সকলের প্রিয়।”
মঙ্গলবার রাতে মরদেহ জিয়াগঞ্জে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শোকস্তব্ধ জিয়াগঞ্জবাসী। এদিন রাতেই জিয়াগঞ্জ মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct