আপনজন ডেস্ক: বঙ্গ বিজেপির একাধিক নেতা-নেত্রীদের ব্যক্তিগত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহার করে নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদ জন বার্লা সহ রাজ্যের প্রাক্তন সাংসদ দশোহর তিরকে, ছাত্রনেতা শঙ্কু দেব পন্ডা এবং বোলপুরের লোকসভা ভোটে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী প্রিয়া সাহা, ঘাটালের জেলা সভাপতি তন্ময় দাস ও উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ, কোচবিহারের জেলার সাধারণ সম্পাদক তপন দাস এদের সকলেরই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা জওয়ান বুধবার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, অমিত শাহরে দফতর খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে এই ৩২ জন নেতা-নেত্রীরা কেউই জেলায় সফরে জান না বিশেষ একটা। রাজ্যে কর্মীরা যখন আক্রান্ত হয় মার খায় তখন অধিকাংশ নেতা নেত্রীকে নিরাপত্তা রক্ষী নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। সাধারণ কর্মীদের যেখানে নিরাপত্তা নেই সেখানে এই ৩২ জন নেতা নেত্রী কে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া যেমন একটি ব্যয় সাপেক্ষ এবং তা প্রয়োজনহীন বলে মনে করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই অরুণ হালদার, অভিজিৎ বর্মন অভিজিৎ দাস ববি আজব রায়। অরুণ বিশ্বাস, অরুনাদয় পাল চৌধুরী, অরূপ কান্তি দিগার, অশোক কান্ডারী ,অশোক পুরকাইত, মন্দির বাজা ,বাসুদেব সরকার, দেবব্রত বিশ্বাস, দেবাংশু পন্ডা ,দেবাশীষ ধর ধনঞ্জয় ঘোষ ,দীপক হালদার, জয়দীপ ঘোষ, জীবেষচন্দ্র বিশ্বাস ,লোকনাথ চ্যাটার্জি, নির্মল সাহা, নিত্যানন্দ চ্যাটার্জী, পলাশ রানা, প্রণতি মাঝি, তন্ময় দাস, তারিনকান্ত বর্মন ও সন্ন্যাসী চরণ মন্ডলের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই গত লোকসভা নির্বাচনে কেউ উলুবেড়িয়া থেকে কেউ আবার আরামবাগ থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন। এই রাজ্যের দায়িত্বে থাকা একাধিক নেতা এবং জেলার সভাপতিদের বেশ কিছু জনের কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান প্রত্যাহার করা হয়েছে। সম্প্রতি গেরুয়া শিবিরে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি কে হবেন তা নিয়ে জোর জল্পনা কল্পনা চলছে। খুব শীঘ্রই বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা হবে এবং এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ঠিক তার আগে ৩২ জন বিজেপির নেতা-নেত্রীদের এই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান নিরাপত্তা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে দিল্লি বঙ্গ বিজেপিতে যারা সক্রিয় নয় সেই নেতাদের বিশেষ বার্তা দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এই নির্দেশ আসার পর অনেক বিজেপির নিরাপত্তা থেকে বাদ পড়া নেতা নেত্রীরা সরব হয়ে উঠেছেন। অনেকেই শাসকদলের হাতে আক্রান্ত এবং তারা বিশেষভাবে টার্গেট বলে চিৎকার করতে শুরু করেছেন। কিন্তু কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর অর্থাৎ শাহের দফতর সক্রিয় না থাকা নেতা-নেত্রীদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিতে নারাজ।
তাই ৩২ জন সক্রিয় না থাকা বিজেপি নেতা নেত্রীর কেন্দ্রীয় বাহিনী বাতিল করতে কাঁচি চালাতে এক টুকু দ্বিধা করেনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বঙ্গ বিজেপির এক নেতার মন্তব্য এখানে কারা সক্রিয় আর কারা নয় সব তথ্য দিল্লির কাছে আছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, কিছুদিন ধরে এই সব বিজেপি নেতাদের তৃণমূলের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠায় সেটাকেই ঢাল করতে চাইছে বিজেপি। সামনে বছর বিধানসভা নির্বাচন তাই তার আগে দলে নেতৃত্বে রদবদল করে গেরুয়া শিবির বঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে ঝাঁপানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি ক্ষেত্রেও সব দিক দেখে তার হাতেই বঙ্গ বিজেপি ব্রিগেডের ব্যাটন তুলে দেওয়া হবে, যাকে যোগ্য বলে মনে করবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct