আপনজন ডেস্ক: মঙ্গলবার হায়দরাবাদের জিএমসি বালাযোগী স্টেডিয়ামে ৭৮তম সন্তোষ ট্রফির ফাইনালে কেরালাকে ১-০ গোলে হারিয়ে রেকর্ড ৩৩ বারের মতো শিরোপা জিতল পশ্চিমবঙ্গ।
দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বক্সের মধ্যে মনোতোষ মাঝির হেড দেওয়া বল পান রবি হাঁসদা। আর তারপর সোজা শটে তিনি বল জড়িয়ে দেন গোল পোস্টের জালে।
দুর্দান্ত স্ট্রাইকার হাঁসদা টুর্নামেন্টে নিজের ১২তম গোল করে ফাইনালের নায়ক হয়েছেন। জালে বল জড়ানোর পর আনন্দে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন রবি হাঁসদা এবং নিজের জার্সি খুলে উদযাপন করেন তিনি।
রবি হাঁসদাকে টুর্নামেন্টের দুটি শীর্ষ ব্যক্তিগত পুরস্কার - তুলসীদাস বলরাম প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার এবং পিটার থঙ্গরাজ প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। টুর্নামেন্টের প্রথম দিন থেকেই হাঁসদা যেভাবে দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছিলেন, তাতে পুরস্কারের জন্য আর কোনও দাবিদার ভাবা বোধহয় অসম্ভব।
ম্যাচটি যখন আস্তে আস্তে পেনাল্টির মাধ্যমে ফল নির্ধারিত হওয়ার দিকে এগোচ্ছিল, তখন হাঁসদা গোল করেন।
বাংলার এই সন্তোষ ট্রফি জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘দীর্ঘ ৮বছরের অপেক্ষার পর, মর্যাদাপূর্ণ সন্তোষ ট্রফি পুনরুদ্ধার করে জয়ের ধ্বনিতে ২০২৫ সাল শুরু করল বাংলার ফুটবল দল। এনিয়ে রেকর্ড ৩৩ বার জিতল বাংলা। রবি হাঁসদার আসামান্য গোলে দুরন্ত এই জয় পাওয়া গেছে। ১৩ গোল করে সোনার বুটও জিতে নিয়েছেন রবি হাঁসদা। কোচ সঞ্জয় সেন, অধিনায়ক চাকু মান্ডি, গোটা বাংলা দল, দলের ম্যানেজমেন্ট, কোচিং ও ট্রেনিং স্টাফদের ঐতিহাসিক এই সাফল্যের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। ভারতীয় ফুটবলের কেন্দ্রস্থল হিসাবে জ্বলজ্বল করছে বাংলা। আগামী দিনে আরও অনেক সাফল্য অপেক্ষা করছে।’
বাংলার কোচ সঞ্জয় সেন বলেছেন, সাত বছর পর ট্রফিটি কলকাতায় ফিরিয়ে দিতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। বাংলায় সবটাই সন্তোষ ট্রফি জেতা। রানার্সআপ হওয়া ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই চাপ সম্পর্কে সচেতন ছিলাম, কিন্তু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। আমাদের পুরোপুরি তরুণ একটি দল ছিল, কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে তারা সবচেয়ে অবিশ্বাস্যভাবে পারফর্ম করেছে। এত বড় কাজ করার জন্য আমার ছেলেদের কুর্নিশ।
ম্যাচ উইনার হাঁসদা বলেছিলেন যে রাজ্যের হয়ে ট্রফি জিততে পেরে তিনি খুশি।
ম্যাচ উইনার হিসেবে গোল করতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় বোনাস। আমি এই জয় আমার বাবাকে উৎসর্গ করছি।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct