আপনজন ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের ৮৭ দিন পর প্রধান অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করল কলকাতার শিয়ালদার আদালত। আগামী ১১ নভেম্বর থেকে এই মামলার দৈনন্দিন শুনানি শুরু হবে বলে জানিয়েছে আদালত। রায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (ধর্ষণ) এর ৬৪ ধারা, ৬৬ ধারা (মৃত্যু ঘটানো বা ক্রমাগত উদ্ভিদ অবস্থার শাস্তি) এবং ১০৩ (হত্যার শাস্তি) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার শিয়ালদহ আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সঞ্জয় রায় প্রিজন ভ্যান থেকে সাংবাদিকদের বলেন, আমি কিছুই করিনি। প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষার জন্য এই ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। কেউ আমার কথা শুনছে না। সরকার আমাকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে এবং মুখ না খোলার জন্য হুমকি দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার কক্ষ থেকে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পরের দিন ১০ অগাস্ট সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। গত মাসে জমা দেওয়া প্রাথমিক চার্জশিটে সিবিআই সঞ্জয় রায়কে এই মামলার “একমাত্র প্রধান অভিযুক্ত” হিসাবে চিহ্নিত করেছে। সিবিআইয়ের চার্জশিটে এই অপরাধের পিছনে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের’ সম্ভাবনার কথাও স্বীকার করা হয়েছে।
৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হলে কর্তব্যরত মহিলা ইন্টার্নের দেহ পাওয়া যায়। এর জেরে পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র ডাক্তাররা নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে ‘কর্মবিরতি’আন্দোলেন নামেন। প্রবীণ পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন, সঞ্জয় রায়ের দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত এবং তদন্ত করা উচিত। একজন অভিযুক্তের এ ধরনের দাবি উপেক্ষা করে তদন্তের দাবি জানানো উচিত নয়। আমরা বলে আসছি যে এই জাতীয় অপরাধ কোনও একক ব্যক্তির দ্বারা সম্ভব নয়। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, পুলিশের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার। গত মাসে জমা দেওয়া চার্জশিটে সিবিআই সঞ্জয় রায়কে এই মামলার ‘একমাত্র প্রধান অভিযুক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এদিকে, ওই একই হাসপাতালে দুর্নীতি মামলার শুনানিতে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে সিবিআই জানায়, এই অপরাধের পিছনে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ রয়েছে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আমলে আর্থিক অনিয়মের তদন্তভার এখন সিবিআইয়ের হাতে। সেই ঘটনায় সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতারও করা হয়। এদিকে তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ বলেন, অপরাধ উদঘাটনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। সিবিআই তাদের চার্জশিটে একমাত্র প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করেছে। তাই যখন তদন্ত চলছে, তখন মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct