এহসানুল হক, বসিরহাট, আপনজন: এবার লক্ষ্মীপুজোয় লক্ষ্মী ঢুকলো না গ্রামে, হচ্ছে না পুজো, বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটা নাগাদ লক্ষ্মীপূজোর দিনে এলাকায় গিয়ে দেখা মিলল এমনি চিত্র।বাদুড়িয়ার চাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতের সলুয়া গ্রাম সহ ১০ , ৯ , ৮ , ৭ নাম্বার বুথ ও পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন দীর্ঘদিন ধরে। মানুষের সহ জনজীবন বিপর্যস্ত। তাই এইসব গ্রামে এবার লক্ষ্মীপুজোয় লক্ষ্মী ঢুকলো না গ্রামে। এলাকার কোন বাড়িতেই লক্ষ্মীপূজা হল না। বাড়ির ভেতরে জল , এলাকায় জল , চাষের জমি জলের তলায় , লক্ষ্মীপূজো হবে কোথায় ? তাই লক্ষ্মীপূজো বন্ধ এইসব গ্রামে। স্থানীয়দের কথায় জানা যায়,দীর্ঘ এক মাসের বেশি এই সব গ্রামে জল যন্ত্রণায় ভুগছে কয়েক হাজার মানুষ । প্রশাসনের কোনোরকম নজর নেই এইসব এলাকায় এমটাই অভিযোগ তাদের।
গ্রামের মানুষ বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। উল্লেখ্য, প্রায় প্রায় একমাস আগে নিম্নচাপে জেরে বৃষ্টি শুরু হয়, সেই বৃষ্টির জেরে পার্শ্ববর্তী পদ্মা ও জমুনা নদীর জলে প্লাবিত হয়ে যায় বাদুড়িয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। এক মাস হয়ে গেলেও এখনো এলাকা থেকে জল সরেনি। যার ফলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, প্রশাসনের গাফিলতির ফলেই এই এলাকা প্রতিবছর জলভাগ্ন হয়ে যায়, সরকারের তরফ থেকে যদি যমুনা ও পদ্মা নদীর সংস্কারের কাজ না হয় তাহলে আরো এই জল যন্ত্রণায় ভুগতে হবে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, প্রশাসনের তরফ থেকে দুই এক দিন ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কিন্তু বেশিরভাগ দিনে কোন ত্রাণ পাওয়া যায়নি। যদিও এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান আসলাম উদ্দিন বলেন, আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জল কমে গেলে যমুনা ও পদ্মা নদীর সংস্কারের কাজ শুরু হবে। যারা জলবন্দি রয়েছেন তাদের ত্রাণের ব্যবস্থা করেছি, পাশাপাশি তাদের থাকা খাওয়ার ও ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি এলাকা থেকে জল সরানোর। কিন্তু এইসব এলাকা নিচু সেই জন্য বর্ষা হলেই জল আর সরছে না, যার ফলে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এদিন বাদুড়িয়ার কংগ্রেসের সভাপতি অসীম ব্যানার্জি ওরফে রাখাল বলেন, বহুদিন ধরে জল যন্ত্রণায় ভুগছেন ওইসব এলাকার মানুষ। যারা প্রশাসনে রয়েছেন তারা এই নিয়ে নির্বিকার। প্রশাসন যদি পদ্মা এবং যমুনা নদীর সংস্কার না করে তাহলে আরো খারাপ অবস্থার মধ্যে এইসব এলাকার পড়বে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct