সন্ন্যাসী কাউরী , পাঁশকুড়া ,আপনজন: পুজোতে মুখে হাসি নেই মানুষের। জল যন্ত্রনায় নাজেহাল মানুষ। উপযুক্ত নিকাশি ব্যবস্থার পরিকাঠামোর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জল যন্ত্রনায় ভুগছেন মানুষ। কোলাঘাট, পাঁশকুড়া ও শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় জমে রয়েছে জল। ফলে ছড়িয়ে পড়ছে পচা দুর্গন্ধ। জমা জল বের করার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার সোয়াদিঘী থেকে রামতারক হয়ে নারায়ণ পাকুড়িয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ সোয়াদিঘী খাল পরিদর্শন করলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) নেহা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিদর্শনের টিমে অতিরিক্ত জেলা শাসক ছাড়াও ছিলেন মহকুমা শাসক (তমলুক) দিব্যেন্দু মজুমদার , সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত সরকার সহ কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, শহীদ মাতঙ্গিনী তিন ব্লকের বি ডি ও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিগন। উপস্থিত ছিলেন, সোয়াদিঘী খাল সংস্কার সমিতির সম্পাদক মধুসূদন বেরা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক। এদিন অতিরিক্ত জেলা শাসক কোথাও নৌকায় চেপে, কোথাও পায়ে হেঁটে, কোথাও বা টোটোতে চড়ে সোয়াদিঘী থেকে রামতারক হয়ে নারায়ন পাকুড়িয়া পর্যন্ত পূর্নাঙ্গ খাল পরিদর্শন করেন।
আন্দোলনকারী সংগঠন - সোয়াদিঘী খাল সংস্কার সমিতি ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে মধুসূদন বেরা ও নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, চলতি বর্ষায় তমলুক মহকুমার কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের প্রায় শতাধিক মৌজা মাসাধিক কাল ধরে জলবন্দী হয়ে রয়েছে। কাঁসাই নদীর বাঁধ ভেঙে পাঁশকুড়ার বন্যার জল এই খাল দিয়েই রূপনারায়ণে বের হচ্ছে। ওই এলাকার বহু রাস্তা এখনো রয়েছে জলের তলায়। দীর্ঘদিন ওই জল জমে থাকায় আগাছা পচে ওই জল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বর্ষার পরই সংস্কারের বিষয়ে সেচ দপ্তর উদ্যোগী না হলে এলাকার মানুষ আন্দোলনের নামতে বাধ্য হবেন, বলে জানান এলাকার বাসিন্দারা। উল্লেখ্য, জলবন্দী এলাকার জল বের করার দাবিতে উপরোক্ত সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে ৩ রা অক্টোবর জেলা সেচ দপ্তর ও জেলা শাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ দেখান । বিক্ষোভের জেরে ৭ ই অক্টোবর জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি নোনাকুড়ি থেকে রামতারক পর্যন্ত খালটি পরিদর্শন করেন। তিন ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় জমা জল বার করার উদ্দেশ্যে জেলা শাসক সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও, সভাপতি, সেচ দপ্তরের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে একটি মিটিং করেন । জেলা শাসকে নির্দেশ মতো শুরু হয় জেসিবি মিসিন দিয়ে খাল সংস্কারের কাজ। সেই কাজ এদিন পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা শাসক নেহা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, বর্ষার পরই যাতে পূর্ণাঙ্গ খাল সংস্কারের কাজ শুরু করা যায়, সে দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct