এহসানুল হক, বসিরহাট, আপনজন: ইছামতী নদীর বিসর্জন ঘিরে সেই জৌলুস ও উন্মাদনা নেই, বিসর্জনের সকাল থেকেই দুই চারটে নৌকা ছাড়া কিছুই নদীতে দেখা যায়নি,দুর দুরান্ত থেকে যেসব পর্যটক এসেছিলেন তারা এক কথায় হতাশ হলেন৷যদিও অন্যদিকে সক্রিয় পুলিশ- প্রশাসন। ভৌগোলিক অবস্থানে ইছামতীর অবস্থান বেশ আকর্ষণীয়। একদিকে কিছুটা গেলেই ভারতের সুন্দরবন অঞ্চল৷ আর অন্যপাড়ে পড়শি বাংলাদেশ।এই ইছামতীতেই বিসর্জন হয় উমার। এবারেও বিসর্জন নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ছিল। ইছামতী নদী ও টাকি এলাকায় ছিল কড়া পুলিশের নজরদারি। বসিরহাটের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী নীরাঞ্জনের প্রস্তুতিও চলেছে সকাল থেকে বিভিন্ন ঘাটে, নৌকা,বসিরহাটের বোর্ড ঘাটে এসে জড়ো হয়।টাকির একাধিক ক্লাব ও বাড়ির পুজোর প্রতিমা এই নৌকায় তুলে ইছামতি নদীর মাঝ বরাবর নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু সেই ছবি এবার চোখে পড়েনি। মাঝনদীতেই বিসর্জন দেওয়া হয়। এই ইছামতী নদীর এই বৈশিষ্ট ছিল। একদিকে ভারতের টাকি। অন্যদিকে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা রয়েছে।
আগে এই বিসর্জনের সময় দুই বাংলার মানুষ একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা করতে পারতেন। সেইসময় প্রশাসনিক চাপ ছিল না। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক চোরাচালান হত। বেশ কয়েক বছর এই বিসর্জনের সময় আরো নজরদারি বেড়েছে।জলপথেও সীমানা করা থাকে। আর নৌকা এপার, ওপার করতে পারে না। আগে ইছামতী নদীতে বিসর্জনের সময় প্রচুর মানুষ উপস্থিত হতেন। দুই বাংলার দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন উৎসব দেখার জন্য প্রচুর ভিড় হত৷ এখন কড়া নজরদারিতে সেই জৌলুস আর তেমন নেই।
এপারে বসিরহাটের ইছামতীর ঘাট। পুলিশ - প্রশাসন বসিরহাট শহর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে রেখেছে এই কয়েকদিন যেহেতু পাশে রয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার, অন্যদিকে রয়েছে সুন্দরবন। তার মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতি নদী। তাই নজরদারি অনেক বেশি। তার পাশাপাশি বাংলাদেশের যে অস্থিরতা সেই অস্থিরতার কারণেই বিশেষ প্রশাসনিক নজরদারি করা হয়েছে । দশমীর দিনে এক পর্যটক বলেন আমরা দূর থেকে এসেছি সুযোগ টাকের বিসর্জন দেখতে কিন্তু এবার এসে দেখলাম কোন নৌকায় প্রতিমা নেই আমাদের আমাদেরকে নিরাশ করলো। এদিনের এই বিসর্জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী, টাকি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজী, টাকি টাউন কংগ্রেসের সভাপতি প্রদ্যুৎ দাস সহ একাধিক বিশিষ্ট জনেরা।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct