রাজু আনসারী , অরঙ্গাবাদ, আপনজন: ফের মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙ্গন। মঙ্গলবার সকাল থেকে ভাঙ্গনের কবলে পড়লো সামশেরগঞ্জের লোহরপুর ও উত্তর চাচণ্ড গ্রাম। ভাঙ্গনের গর্ভে তলিয়ে গেল প্রায় নয়টি বাড়ি। গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক। হাহাকার আর কান্নার রোল। বাড়িঘরের সামগ্রী টানতে পারেননি এলাকাবাসী। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর।তিনটি তাল গাছ এবং ব্যাপক ফাঁকা অংশ। দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কোন রকম উপায় নেই সামশেরগঞ্জের অসহায় পরিবারগুলোর। এলাকায় রীতিমতো শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার রাতের ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙনের পর সোমবার ও মঙ্গলবার সকালেও সেই গঙ্গা ভাঙন প্রক্রিয়া। অন্যদিকে ভিটেমাটি সবকিছুই গঙ্গা বক্ষে তলিয়ে যাওয়া ঠিকানাহীন পরিবার গুলির কান্নায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই ভাঙনে কমপক্ষে ১৩-১৪ টি বাড়ি গঙ্গা বক্ষে তলিয়ে গিয়েছে বলে দাবি এলাকার বাসিন্দাদের।চোখের সামনেই সারা জীবনের সঞ্চয়ে বহু কষ্টে তৈরী করা ঘরবাড়ি ও জমি-জায়গা তলিয়ে যেতে দেখার কষ্ট তারা ছাড়া আর কেউ বুঝবেন না। পরিবার পরিজন নিয়ে যাওয়ার পথ কোথায়। এইসব প্রশ্ন আর হতাশা জন্মেছে নদী পারের বাসিন্দাদের মনে।গঙ্গা ভাঙনের আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালাতে দেখা যায় গ্রামবাসীদের। বাড়িঘর ভাঙার পাশাপাশি বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে অন্যত্র ছুটে যান সাধারণ মানুষ। যেকোনো মুহূর্তে নদী পাড়ে বাড়ি গুলো তলিয়ে যেতে পারেই বলে অনুমান স্থানীয় বাসিন্দাদের। এদিকে বারংবার গঙ্গা ভাঙনের কবলে পড়া মানুষের অসহায়ত্বের চিত্র এবং লাগাতার গঙ্গা ভাঙন নিয়ে ক্ষোভ পরিলক্ষিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। লক্ষ্য করা যেতে পারে গঙ্গ ভাঙন সামশেরগঞ্জের সবচাইতে একটি বড় সমস্যা। কয়েক বছর ধরে বিঘার পর বিঘা কৃষি জমি তলিয়ে যাওয়ার পর কয়েক বছর ধরে সামশেরগঞ্জের একাধিক গ্রামে একের পর এক বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে, লাগাতার কয়েক বছর ধরে গঙ্গা ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে, গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, এভাবে একের পর এক গঙ্গা ভাঙন হয়ে গেলেও কবে মিলবে তার সুরাহা। কবে বন্ধ হবে গঙ্গা ভাঙ্গন। কবে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন এলাকাবাসী। বারংবার গঙ্গা ভাঙনের কবলে পড়া মানুষের অসহায়ত্বের চিত্র এবং লাগাতার গঙ্গা ভাঙন নিয়ে ক্ষোভ পরিলক্ষিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct