আপনজন ডেস্ক: চেন্নাইয়ে কাজ না পেয়ে অভুক্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরার চেষ্টায় অনেকেই ভিড় জমাচ্ছিলেন বিভিন্ন স্টেশনে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এমজিআর চেন্নাই সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছিলেন এমনি পাঁচজন বাংলার শ্রমিক। কিন্তু বেশ অভুক্ত থাকার কারণে এমনই অসুস্থ হয়ে পড়েন এক কৃষি শ্রমিক যে তাকে রাজীব গান্ধী সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সামার খান (৩৫) নামে বাংলার ওই শ্রমিকের কাছে খাবার কেনার কোনও টাকা না থাকায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি। সোমবার রাতে মারা যান। এ ব্যাপারে চেন্নাই কর্পোরেশনের এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন,
ছ’দিন ধরে না খেয়ে ছিলেন সামার খান নামে ওই পরিযায়ী শ্রমিক। আর এক খেতমজুর সত্য পণ্ডিত এখনও হাসপাতালে ভর্তি। আরও ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ওই আধিকারিক আরও জানান, চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে তিরুভাল্লুর জেলার পোন্নেরিতে বাংলা থেকে আগত ১২ জন কৃষকের একটি দলের সঙ্গে কৃষিকাজের জন্য গিয়েছিলেন সামার খান। তাদের দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তিরুভাল্লুর জেলায় চাষের কাজ না পেয়ে তারা পশ্চিমবঙ্গে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। খাবার কেনার টাকা না থাকায় চেন্নাই সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনে কয়েকদিন অবস্থান করেন তারা। সামার খান-সহ পাঁচজন রেল স্টেশনেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন তাদেরকে কয়েকদিন আগে রাজীব গান্ধি সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি বলেন, এই খেতমজুররা খুব ভালো মানুষ, সৎ, নিরীহ। দুঃসময়ে তারা সিদ্ধান্ত নেন, তারা ক্ষুধার্ত থাকলেও ঋণের টাকা দিয়ে তারা বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটবেন। চেন্নাই কর্পোরেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট হেলথ অফিসার বাসুদেবন বলেন, পশ্চিমবঙ্গগামী ট্রেনে ওঠার আগেই তারা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সামার খানের মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে রাতে পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়নে বোর্ডের চেয়ারম্যান সাংসদ সামিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct