আপনজন ডেস্ক: হাইতিতে সংঘবদ্ধ চক্রের ধ্বংসাত্মক সহিংসতায় চলতি বছর তিন হাজার ৬৬১ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনার (ওএইচসিএইচআর) এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হাইতি নৈরাজ্যের মধ্যে নিমজ্জিত। অপরাধী চক্র রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ওএইচসিএইচআর জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হাইতিতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলা-সংঘাতে নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৬৬১ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০০ শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরো ১২৮০ জন গ্যাং সহিসংতায় পঙ্গুত্ববরণ বা আহত হয়েছে। এছাড়াও ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে ৬ লাখের বেশি মানুষ। ওএইচসিএইচআর প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, গত বছরের মতোই তীব্র মাত্রার সহিংসতা বজায় রয়েছে দেশটিতে। এই নির্বুদ্ধিতার সহিংসতায় আর কোনো মানুষের প্রাণ যাওয়া উচিত নয়। হাইতি বেশ কয়েক বছর ধরে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্যে দিয়ে চলছে। এসব সশস্ত্র গ্যাংগুলো দেশটির রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাদের প্রভাব বিস্তার ও অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে মারা পড়ছে শত শত মানুষ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে দেশটিতে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে খারাপ হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি কেনিয়া সফরে গেলে রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্স জুড়ে কারাগার ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব চালায় গ্যাংরা। তখন কারাগাার ভেঙে চার হাজারের বেশি বন্দি বেরিয়ে যায়, যারা বেশির ভাগই সন্ত্রাসীগুলোর সঙ্গে জড়িত। গ্যাংগুলোর চাপে এক পর্যায়ে পদত্যাগে বাধ্য হন দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতায় আসে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct