সাদ্দাম হোসেন মিদ্দে , বেলডাঙ্গা আপনজন: শিক্ষার্থীদের অভিনব শাস্তি দিলেন শিক্ষক। বিদ্যালয়ে দেরিতে আসায় খেতে হল উপকারী ভেষজ উদ্ভিদ কালমেঘের পাতা। ঘটনা মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গার নওপুকুরিয়া নূতনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুখময় সাহা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ মঙ্গলবার এই সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা গেছে কয়েকজন খুদে পড়ুয়া দেরিতে বিদ্যালয়ে এসেছে। তাদের শাস্তি হিসাবে ঘোষণা করা হয় কালমেঘ গাছের পাতা খেতে হবে। পরে শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর সময় সুখময় সাহা শিক্ষার্থীদের কালমেঘ গাছের পাতা খাওয়ার উপকারিতা বর্ণনা করেন।বিদ্যালয় চত্বরেই রোপণ করা ছিল কালমেঘ গাছ। সেখান থেকে উপকারী এই পাতা ছিড়ে খাওয়ানো হয়। এই “উপকারী শাস্তি” দেখে হেঁসে লুটিয়ে পড়ার উপক্রম হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের। মশকরা করে মন্তব্যের ঘরে নানা প্রকার মন্তব্য করেছেন তারা।উল্লেখ্য স্বাদে তিতো এই কালমেঘ গাছের পাতার উপকারীতা গুলি হল- সর্দি-কাশি-জ্বর, ব্রঙ্কাইটিস, বাত, অর্শ প্রভৃতি রোগ নিরাময়ে কার্যকরী। পাকস্থলী ও যকৃতের শক্তিবর্ধক ও রেচক হিসাবে কাজ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জ্বালা ভাব দূর হয়।এছাড়া আরও নানাবিধ উপকারীতা রয়েছে ভেষজ এই উদ্ভিদের।এমন “অভিনব শাস্তি” বিষয়ে শিক্ষক সুখময় সাহা বলেন, ‘বহুকাল ধরে মানুষ ঔষধ হিসাবে ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে আসছে, এমন অনেক গাছই আমাদের ঘরের আশেপাশে অযত্নে বড় হয়ে উঠছে, কিন্তু সচেতনতা ও সংরক্ষণের অভাবে এই গাছগুলি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে, তাই আমাদের বিদ্যালয়ে ভেষজ উদ্ভিদ সম্পর্কে ধারণা দানের জন্য কালমেঘ, তুলসী, কুলেখাড়া, নিম, পাথরকুচি, বাসক, থানকুনি প্রভৃতি গাছগুলি টবে লাগানো রয়েছে। অন্যদিকে শিশু শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকলে এবং তা যদি আনন্দ পরিসরে হয়, তাহলে সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষা লাভ করে তার স্থায়িত্ব দীর্ঘপ্রসারী হয়। তাই এদিন বিদ্যালয়ে দেরি করে আসা খুদেদের একটা করে কালমেঘ পাতার টুকরো মুখে দিতে বলি।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct