এস এম শামসুদ্দিন, আপনজন: রাজ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীন সরকার পোষিত ও সহয্যপ্রাপ্ত ৬১৪ টি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণী পদে হাইকোর্টের নির্দেশে নিয়োগের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে নিয়োগের জন্য মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন নিয়োগের জন্য এই প্রস্তুতি।
২০১০ সালে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন এর তত্বাবধানে সার্ভিস কমিশন রাজ্যের মাদ্রাসগুলির চতুর্থ শ্রেণী পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগ করতে পারেননি। ২০১০ সালে এই পদের জন্য প্রায় ১লক্ষ ৮০হাজারের মতো আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু এর মধ্যে ২৪হাজার এর কিছু বেশি জন আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়। সে সময় আবেদন কারীদের মধ্যে প্রায় ১লক্ষ ১০,হাজার জন্ আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকা হয় নি কেন ? এই অভিযোগে নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন কারীদের মধ্যে বিচার প্রার্থী হয়।
দীর্ঘ ১৪ বছর এই বিষয়ে কোনও হেলদোল ছিল না। ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যদিও রাজ্যের মাদ্রাসা গুলিতে চতুর্থ শ্রেণী পদ চাকুরী জীবীরা আরও অবসর নিয়েছে ফলে আরও পদ শূন্য হয়েছে। বর্তমানে সে সংখ্যা ঠিক কত সে পরিসংখ্যান পাওয়া যায় নি। মাদ্রাসা গুলিতে চতুর্থ শ্রেণী পদে দীর্ঘকাল শূন্য থাকায় এবং নিয়োগ না হওয়ায় এক রকম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। ২০১০ সালে শূন্য পদ ২৯৭ টি হলেও দীর্ঘ ১৪ বছর পর মোট কত শূন্য পদ সৃষ্টি হয়েছে তা যোগ করে মোট শূন্য পদ বলা হয় নি। এই সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করলেও যেহেতু বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং আদালতের নির্দেশ না পাওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারছিলেন না মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই নিয়োগ পক্রিযা শুরু হওয়ায় অসংখ্য আবেদন কারি থেকে মাদ্রাসা গুলো আশার আলো দেখছেন। কিন্তু কিছু কিছু পদপ্রার্থীদের অভিযোগ ও নানান প্রশ্ন শুনে মনে হচ্ছে আবার নিয়োগ আটকে পড়বে না তো আইনের ঘেরাটোপে ?
যদিও আদালতের নির্দেশকে যথাযোগ্য সম্মান জানিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্র নিয়ে সার্ভিস কমিশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং প্রথমবার ২০১০ সালে ২৪ হাজারের কিছু বেশি প্রার্থী সহ এবারে নতুন নোটিফিকেশন দিয়ে প্রায় ৭৩ হাজার পদ প্রার্থী আবেদন কারীকে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৩২৩৩ জনকে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে। গতবার নির্বাচিত ২৪,৫০০র কিছু বেশি ও এবারে ৭৩ হাজারের কিছু বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় গত ১ সেপ্টেম্বর আর ফল প্রকাশ করা হয় ১৩ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোট প্রায় এক লক্ষর বেশি পরীক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষার খাতা মাত্র ১২/১৩ দিনে পরীক্ষা করে মোট ৩২৩৩ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রের খবর। ২৯৭ টি পদের জন্য ৩২৩৩ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য সত্বর ডাকা হবে বলেও জানা গেছে।
মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সুযোগ্য নেতৃত্বে এত কম সময়ে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর খাতা পরীক্ষা করে যে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
রাজ্যের মাদ্রাসাগুলোতে চতুর্থ শ্রেণী পিয়ন পদ ছাড়াও করণিক থেকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতার ফলে মাদ্রাসাগুলো এক চরম অচলাবস্থার সম্মুখীন। মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীদের সাংখ্যালঘু বৃত্তি থেকে বই খাতা,ব্যাগ সাইকেল,স্কুল পোশাক, মিড ডে মিলের খাওয়ার, সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধা প্রদানে সরকার দরাজ দিল, কিন্তু পঠন পাঠনের মান উন্নয়নে যেখানে কর্মী ও সহ শিক্ষক শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ না হওয়ায় পাঠদানে ছাত্র ছাত্রীরা বঞ্চিত। বছরের পর বছর শিক্ষক শিক্ষিকাহীন বিষয়ভিত্তিক ভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকলেও কর্মী ও শিক্ষক বিহীন অচলাবস্থার ফলে প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্যেই ব্যাহত বলে অসংখ্য মাদ্রাসা শিক্ষানুরাগীদের অভিমত। রাজ্যের মাদ্রাসাগুলোর অভাব অভিযোগ ও সমস্যার সমাধানে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা ও উন্নয়ন দপ্তরের আরও বেশি আন্তরিক ও সজাগ থাকা একান্ত আবশ্যক বলে বহু মাদ্রাসার শিক্ষকগণ মনে করেন ।
(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct