নিজস্ব প্রতিবেদক, অরঙ্গাবাদ, আপনজন: হারিয়ানায় গরীব বাঙালি শ্রমিক সাবির মল্লিককে অপহরণ করে পিটিয়ে খুন-এর প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের কঠিন সাজার দাবিতে এবং উড়িষ্যায় মুর্শিদাবাদ জেলা সহ বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে কাজে যাওয়া বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার, পিটুনি ও তাদের জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যে বিদ্ধ করে ‘বাংলাদেশী’ দাগিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো অন্যায় আক্রমণের প্রতিকার চেয়ে “বাংলা পক্ষ”, ভারতে বাঙালি অধিকার আদায়ের জাতীয় সংগঠন, রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলার অরঙ্গাবাদ শহরের নেতাজি মোড়ে প্রতিবাদ পথসভা কোরে বাইরের রাজ্যে বাঙালি নিরাপত্তার দাবি তুলল এবং একই সঙ্গে আমাদের রাজ্যে “ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন” এনে রাজ্যের যুবকদের হাতে কাজের সুযোগ তুলে দেওয়ার দাবি জানাল।
মূল বক্তা বাংলা পক্ষ’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. গর্গ চট্টোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে উড়িষ্যা ও হারিয়ানায় বাঙালির ওপর আক্রমণের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানান। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন বাংলা পক্ষ উড়িষ্যায় আক্রান্ত অত্যাচারিত বাঙালি শ্রমিকদের পক্ষে দাঁড়িয়ে “উৎকলভবন” অভিযান করেছে। সেখানে উড়িষ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে আর কোনও এরকম বাঙালি ফেরিওয়ালা, শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটবে না, এবং যেগুলো ঘটে গেছে সেগুলির যথাযথ তদন্ত হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই কথার কোনো ফলপ্রসূ প্রতিফলন দেখা যায় নি। অত্যাচার যথারীতি চলছে। বাংলা পক্ষ উড়িষ্যা, হারিয়ানায় বাঙালির ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টে থেকে সারারাত ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। জেলায় জেলায় যেমন আরজিকর-এর নৃশংস হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন চলছে একই ভাবে সাবিরের হত্যার বিচারের দাবিতে সকলে এগিয়ে আসুন।
অপর বক্তা বাংলা পক্ষ মুর্শিদাবাদ জেলা শাখা সম্পাদক অরিন্দম চন্দ্র জানান, ইতিমধ্যেই উড়িষ্যায় গরীব বাঙালি, যারা বেশিরভাগ মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ অত্যাচারিত হয়ে ফিরে আসা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে মুর্শিদাবাদের সালারে ইতিমধ্যেই ১৪ আগষ্ট প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। এবং আজ ঔরঙ্গাবাদে পথসভা হলো। ভবিষ্যতে আরও প্রতিবাদ সমাবেশ হবে। তিনি বলেন - পশ্চিমবঙ্গের শ্রমমন্ত্রীর বিধানসভায় পেশ করা তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে বাইরের রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকের সংখ্যা ১ কোটির অধিক; যেখানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাইরে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ২১ লক্ষ। এই তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাইরে যাওয়া থেকে রাজ্যে আসা শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ। এই তথ্যের প্রেক্ষিতে “পশ্চিমবঙ্গে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন” প্রচলন জরুরি এবং এটা হলে রাজ্যের যুবকদের রাজ্যেই কাজ হবে।
ড. গর্গ চট্টোপাধ্যায় জানান বাংলা পক্ষ চায় বাঙালি যুবকেরা তাদের উৎসবগুলিতে, ঈদে, পূজোতে নিজের পরিবারের সঙ্গে যাতে সময় কাটাতে পারে; তাদের যেন প্রবাসে চোখের জল ফেলতে না হয়; যাতে সাবিরের মতো যুবকদের লাশ হয়ে ফিরতে না হয়, যাতে উড়িষ্যার ঘটনার মতো অবস্থায় মানসম্মান খুইয়ে পালিয়ে আসতে না হয়।তাই বাংলা পক্ষ’র এই আন্দোলন। এই আন্দোলনে সকলে যুক্ত হোন। এই আন্দোলন ভাতের, কাজের অধিকারের।
সভার আরেক বক্তা জাহাঙ্গীর আলী স্থানীয় প্রেক্ষিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশ আরও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন। গরীব টোটোচালক থেকে, ভ্যান চালক, এমনকি দোকানদার, পথচলতি মানুষজন এবং নিরাপত্তার জন্য আসা পুলিশ কর্মীরাদের বক্তব্য শুনতে লক্ষ্য করা যায়। সভায় বাংলা পক্ষ’র শীর্ষ পরিষদ সদস্য মহ: সাহিন, মুর্শিদাবাদ জেলা বাংলা পক্ষ’র সদস্য মহ: নাজির হোসেন, ঈশান দাস, আনজাউল ইসলাম, সামিম পারভেজ, আব্দুর রহমান, মুকলেশ শেখ, আওয়াল শেখ এবং আরো অনেকে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct