এম মেহেদী সানি, কলকাতা, আপনজন: সম্প্রতি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ভর্তির ক্ষেত্রে ওবিসি সংরক্ষণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। এবার কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রী এবং চাকরি প্রার্থীদের ওবিসি এনসিএল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না, অভিযোগ উঠল প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা সমাধানে ‘প্রগ্রেসিভ ইন্টেলেকচুয়াল অফ বেঙ্গল’-এর পক্ষ থেকে বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইমেইল মারফত চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২২শে মে ওবিসি সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হয়। কেসে হারে রাজ্য সরকার। যে রায়ে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, ‘২০১০ সালের পর থেকে জারি করা রাজ্যের সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করা হলেও এই সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই চাকরি পেয়ে গিয়েছেন বা চাকরি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কোনও প্রভাব ফেলবে না।’ যদিও ‘এই রায় মানি না’ বলেও মন্তব্য করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এরপর নানা সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাইকোর্টের ওবিসি রায়ের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় ৷ বসিরহাটে নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদর্পে ঘোষণা করেন ‘রাজ্যে ওবিসি’দের সংরক্ষণ কিছুতেই কাটতে দেব না ৷’ পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার ৷ একুশে জুলাই-এর মঞ্চ থেকেও মমতা ঘোষণা করেন ‘ওবিসি সংরক্ষণ উঠবে না, আইনি লড়াই করছি, করে যাব ৷’
রাজ্যের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য আবেদনের শুরুতে রাজ্যে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে বার্তা দিয়েছিলেন, ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয় সে বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হবে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ওবিসি এনসিএল সার্টিফিকেট পাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে ‘প্রোগ্রেসিভ ইন্টেলেকচুয়াল অফ বেঙ্গল।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, ‘ওবিসি এ/বি ক্যাটেগরিতে ভর্তি হওয়া প্রার্থীদের অবশ্যই ১০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে একটি অঙ্গীকার জমা দিতে হবে, যাতে উল্লেখ করা হয় যে যদি ভবিষ্যতে তাদের ওবিসি শংসাপত্র অবৈধ হয়ে যায় তাহলে তাদের ভর্তি বাতিল করা হবে। এবং ওবিসি এ/বি ক্যাটেগরিতে ভর্তি হওয়া প্রার্থীদের অবশ্যই একটি নন-ক্রিমিলেয়ার (এনসিএল) শংসাপত্র জমা দিতে হবে।’
সাকিরুল ইসলাম নামে এক ছাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে জার্নালিজম এন্ড মাস কমিউনিকেশন বিষয়ে ভর্তির জন্য বারুইপুর এসডিও অফিসে নন-ক্রিমিলেয়ার শংসাপত্রের জন্য গেলে তাকে সংশ্লিষ্ট শংসাপত্র প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন। সাকিরুল জানান, ‘এসডিওর আধিকারিকরা বলেছেন, আমরা যদি এনসিএল শংসাপত্র প্রদান করি কোর্ট আমাদেরকে তলব করবে, তাই আমরা দিতে পারব না।’ বাস্তবে তাই ওবিসি সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে সমস্যায় পড়েছে বহু সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রী। বিশেষ করে ওবিসির এনসিএল সার্টিফিকেট পাওয়া নিয়ে। এসডিও অফিস থেকে এনসিএল শংসাপত্রে না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু দফতরের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে ফোন করা হলে, ‘আপনজন’ প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, ‘কোনও ছাত্র-ছাত্রী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা নির্দেশিকা দিয়ে দেব। তবে বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
এ বিষয়ে ‘প্রগ্রেসিভ ইন্টেলেকচুয়াল অফ বেঙ্গল’-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোনাজাত আলি বিশ্বাস বলেন, ‘বিগত ২২শে মে ২০২৪ তারিখে ওবিসি সংক্রান্ত মামলায় মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিম শিক্ষিত সমাজে আশঙ্কার কালো মেঘ জমা হয়েছে। বিভিন্ন কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সেশন শুরু হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা ওবিসি এনসিএল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করার জন্য এসডিও অফিসে গেলে সেখান থেকে তাদেরকে ওবিসি এনসিএল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। ছাত্র-ছাত্রী এবং চাকরি প্রার্থীরা ওবিসি এনসিএল সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য হন্য হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে আজ আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে ইমেল মাধ্যমে চিঠি করেছি।’ এসডিও’দের নিকট ওবিসি এনসিএল সার্টিফিকেট প্রদানের সুনির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা জারি করার অনুরোধের পাশাপাশি কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির তারিখ বর্ধিত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোনাজাত।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct