দেবাশিস পাল, মালদা, আপনজন: এ যেন সাঁড়াশি আক্রমণ। একদিকে গঙ্গা ভাঙন। অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতি। গঙ্গার জল বাঁধ ভেঙে ভাসিয়ে দিয়েছে মালদার ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকা। বানভাসি বহু মানুষ। জলস্তর ছুঁয়েছে বিপদ সীমা। ফলে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি। গোঁদের উপর বিষফোঁড়ার মত সোমবার দুপুর পর্যন্ত গঙ্গা নদীর জলস্তর আবারও বেড়েছে। ছিল প্রায় ছয় সেন্টিমিটার। বর্তমানে যা দাঁড়িয়েছে ২৫.২০ মিটারে। জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা।এই পরিস্থিতিতে বন্যার জলে জলমগ্ন এলাকা থেকে এলাকাবাসীদের উদ্ধার করে সুরক্ষিত জায়গায় স্থানান্তর করতে তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার সাত সকালে মানিকচকে হাজির হন মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া। এছাড়াও উপস্থিত অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক সহ মানিকচকের ব্লকের বিডিও, আইসি, বিএমওএইচ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁরা এলাকা পরিদর্শন করেন। মথুরাপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফাঁকা ময়দান ঘুরে দেখেন আধিকারিকরা। ব্লক প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয় তড়িঘড়ি ভূতনির জলমগ্ন এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধার করে সুরক্ষিত জায়গায় স্থানান্তরিত করার জন্য।
গঙ্গার জলে প্লাবিত গ্রামগুলির বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর নির্দেশ দেন জেলাশাসক নিতীন সিংহানিয়া। ত্রাণ শিবিরগুলিতে আরও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, সুলভ শৌচাগার ও অস্থায়ী ঘর তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। তিনি বলেছেন, “যে সমস্ত এলাকায় বাঁধে ফাটল ধরেছে, সেগুলিতে কাজ চলছে। ত্রাণ সামগ্রী পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা গ্রামগুলিতে নিয়মিত ঘুরছেন।’ অন্যদিকে সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে,গঙ্গার জল ২৫.৩৫ মিটার উচ্চতা ছুঁয়েছে। যা চরম বিপদসীমার উপরে। সেচ দফতরের কথায়, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct