আপনজন ডেস্ক: জলপাইগুড়ির কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় ১০ জন যাত্রীর মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর, সেখান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলার মানকাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ডিব্রুগড়গামী ১৫৯০৪ চণ্ডীগড়-ডিব্রুগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাইনচ্যুত হলে চারজন যাত্রী নিহত এবং প্রায় ২৮ জন আহত হলেন বৃহস্পতিবার। উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রিজেশ পাঠক, যিনি স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন তিনি নিজেই জানিয়েছেন এই ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিকেল তিনটে নাগাদ গোন্ডা-গোরখপুর সেকশনের ঝিলাহি রেল স্টেশনের কাছে কয়েকটি এসি কোচ-সহ ১২টি কামরা লাইনচ্যুত হয়। আহতদের মানকাপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহতদের সেবায় নিয়োজিত এক চিকিৎসক জানান, আহত ২৮ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে এবং তাদের উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আহত যাত্রীদের বেশিরভাগই এসি কোচে ভ্রমণ করছিলেন বলে জানা গেছে।
রেলওয়ে সূত্রে খবর, অ্যাম্বুলেন্স-সহ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে একটি রিলিফ ট্রেন। রেল ও পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছেন, যারা ঘটনার পরে প্রচুর সংখ্যায় সেখানে জড়ো হয়েছিল। এনডিআরএফের একটি দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রাণ তৎপরতা চালায়, সূত্রের খবর, লাইনচ্যুত কোচে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে গ্যাস কাটার ব্যবহার করা হয়েছিল।
উত্তর-পূর্ব রেলের সিপিআরও পঙ্কজ কুমার জানিয়েছেন, বগিগুলি লাইনচ্যুত হওয়ার আগে ইঞ্জিনো পাইলটরা বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। এই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলের তরফে হেল্পলাইন নম্বরও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ট্রেনটি চণ্ডীগড় থেকে ২৩.৪০ টায় ছেড়েছিল। দুর্ঘটনার পর লাইনচ্যুত কোচগুলি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য হুড়োহুড়ি করতেও দেখা যায়। যাত্রীরা তাদের লাগেজ নিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটতে শুরু করেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, লাইনচ্যুত বগির ভিতরে বেশ কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত চারটি বগি উল্টে যায়। এক যাত্রী জানান, লাইনচ্যুত হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে ট্রেনগুলো কাঁপতে শুরু করে।
গোন্ডার পুলিশ সুপার বিনীত জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ১০-১২টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা লাইনচ্যুত কোচগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। সেখানে কেউ আটকা পড়েনি।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আহতদের সম্ভাব্য সমস্ত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার এবং অবিলম্বে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। রেলের তরফে মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং গুরুতর আহতদের আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, যাত্রীদের সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আটকে পড়া যাত্রীদের আরও পরিবহনের ব্যবস্থা করছি। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অযোধ্যা থেকে বিশেষ ট্রেন পাঠানো হচ্ছে।
রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে আশেপাশের জায়গাগুলিতে যাওয়া যাত্রীদের বাসে করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সূত্রের খবর, এই ঘটনার জেরে ওই অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং রেললাইন সরানোর চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তত দশটি দূরপাল্লার ট্রেনকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। কংগ্রেস গোন্ডায় ট্রেন দুর্ঘটনার সমালোচনা করেছে এবং একে মোদী সরকারের গাফিলতি বলে অভিহিত করেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মোদি সরকারের সমালোচনাও করেন। ইউপিতে চণ্ডীগড়-ডিব্রুগড় এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত হওয়া একটি উদাহরণ যে মোদি সরকার কীভাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রেল নিরাপত্তার সাথে আপস করেছে। ট্রেন দুর্ঘটনায় কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও সুস্মিতা দেবও। উল্লেখ্য, গত এক বছরে তিনটি বড় রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে যাতে প্রায় ৩৫০ জন প্রাণ হারিয়েছে। ২জুন, ২০২৩এ ওড়িশার বালাসোরে সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেসকে ধাক্কা মারলে প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়। ২৯ অক্টোবর, ২০২৩ অন্ধ্রপ্রদেশে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১১ জন প্রাণ হারান। আর গত ১৭ জুন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের সঙ্গে মালগাড়ির ধাক্কায় কমপক্ষে ১০জনের মৃত্যু হয়।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct