আপনজন ডেস্ক: নির্বাচনের আগে বড়সড় বিপাকে পড়লেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ভোটের আগে তার দলের ৭৮ জন এমপি জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আগামী নির্বাচনে লড়বেন না। এমন সিদ্ধান্ত নেয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও।জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে ৪ জুলাই সাধারণ নির্বাচন। সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক প্রথম শনিবারটি কাটিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ পরামর্শকদের সঙ্গে। নির্বাচন ঘিরে পার্লামেন্ট থেকে তার দল কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের গণপদত্যাগের মধ্যেই কিছুটা ব্যক্তিগত সময় সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটালেন ৪৪ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ নেতা।যুক্তরাজ্যের আইন অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন সেরে ফেলতে হবে। কিন্তু সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যেই দাবি উঠছিল, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হোক। কারণ গত কয়েক মাসে দলটির নেতাদের প্রতি ভোটারদের আস্থা প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। একের পর এক জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করতে পারে কনজারভেটিভ পার্টি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে হার অবধারিত বলেই মত দলের একটি বড় অংশের।
তবে দলের মত কার্যত উড়িয়ে দিয়ে দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ঋষি সুনাক। জানিয়েছেন, আগামী ৪ জুলাই হবে দেশটির সাধারণ নির্বাচন। সেখানে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি। দলীয় মতের ‘বিরোধিতা’ করে দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণায় তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ বেছে নেয়ার সময় এসেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তার নেতৃত্বেই আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পাবে দেশ।তবে নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক কনজারভেটিভ এমপি জানিয়ে দেন, আসন্ন নির্বাচনে তারা লড়তে চান না। এই তালিকায় রয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস, সাবেক চ্যান্সেলর নাদিম জাহাউই, গৃহায়নমন্ত্রী মাইকেল গোভ ও আন্দ্রে লিডসমদের মতো নেতারা।গোভের পদত্যাগের ঘোষণার চিঠিটি শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে পার্লামেন্টারি আসনগুলোতে টোরি পার্টির চ্যালেঞ্জের মধ্যেই এমনটি ঘটলো। এরপর লিডসম তার চিঠিটি প্রকাশ করেন। সুনাকের উদ্দেশে তিনি লেখেন, গভীর চিন্তার পর আমি আসন্ন নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কনজারভেটিভ পার্টির নামি নেতারা ধরেই নিয়েছেন, ভোটে তাদের হার নিশ্চিত। তাই লজ্জা এড়াতে আগে থেকেই নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct