নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা, আপনজন: ঠিক ১০০ বছর আগের কথা। ২৪ পরগনা জেলায় শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ছিল হাতিয়াড়া। মূলত শিক্ষার পিঠস্থান ছিল এটি। যাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তায় সেদিনের শিক্ষাচিন্তা আজও প্রবাহমান, তিনি হলেন বিশিষ্ট শিক্ষাসাধক মাওলানা এজাহারুল হক। যাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বিভিন্ন এলাকার স্বনামধন্য গুণী ব্যক্তিবর্গ। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, গড়ে তুলেছিলেন একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রবিবার সকালে খুদে পড়ুয়াদের নিয়ে এক আকর্ষণীয় সামার ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল তাঁরই হাতে গড়া বসতবাড়ি হাতিয়াড়ার হক মঞ্জিলে। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় হাতিয়াড়া প্রাইমারি স্কুলের কথা। সে যুগে এর সৌজন্যে কতজন যে শিক্ষার আলো পেয়েছিলেন, তা আজও ভুলতে পারেননি বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্বজনেরা। সেই শিক্ষালয়ের শততম বর্ষের ঘোষণা দিয়ে এদিনের কার্যক্রম শুরু করে গণিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্রী নাফিসা ইসমাত ও ফাহমিদা তৈয়েবা। এদিনের সামার ক্যাম্পে উপস্থিত ছিল ১২ টি স্কুলের ৪৩ জন ছাত্র-ছাত্রী। এদেরকে নিয়ে হাতে-কলমে করে দেখানো হয় মজার মজার অংকের খেলা, সংখ্যার ম্যাজিক, নামতা মুখস্ত না করে মনে রাখার পদ্ধতি, মূলদ সংখ্যার পরিচয়। অংক-বিজ্ঞানের পাশাপাশি ছিল ‘ভুল করো না বাংলা-বানান’ নিয়ে মজার উপস্থাপনা। ছিল নৈতিক ও মূল্যবোধ শিক্ষার আয়োজনও। বিশিষ্ট শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরখেল, সুরাইয়া ইসলাম, মনির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ ছিলেন এদিন প্রশিক্ষকের ভূমিকায়। সমগ্র অনুষ্ঠানে অ্যাক্টিভ পার্টিসিপেশন-এর পুরস্কার জিতে নেয় আতাউল, মিসবাহ, মুসাফির। ক্লাস ফোর থেকে নাইন পর্যন্ত ক্লাসের অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়ি থেকে এঁকে এনেছিল ‘স্কুলের স্পোর্টস ডে’ বিষয়ক আঁকা ছবি। উপস্থিত কতিপয় অভিভাবক এই উদ্যোগে খুবই খুশি। সাধারণ লেখাপড়ার পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মী এই আয়োজনে জ্ঞানের গভীরতার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই গড়ে তুলবে মূল্যবোধ, যা মাওলানা এজাহারুল হকের সুদূরপ্রসারী শিক্ষাচিন্তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করে হক মঞ্জিল পরিবার।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct