অমরজিৎ সিংহ রায়, বালুরঘাট, আপনজন: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার অভিযোগ করেছেন বিজেপি তাকে এবং তার ভাইপো তথা তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছে। তাই তারা নিরাপদ বোধ করছেন না। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সোমবার বড় বিস্ফোরণ ঘটাবেন বলে মন্তব্য করার একদিন পরেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার শীর্ষ নেতৃত্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।
বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিপ্লব মিত্রের হয়ে প্রচারে প্রথমে জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকে এবং পরে বালুরঘাটে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বলেন, বিজেপি আমাকে এবং অভিষেককে টার্গেট করছে, আমরা নিরাপদ নই, তবে আমরা গেরুয়া শিবিরের ষড়যন্ত্রেও ভয় পাই না। তৃণমূল নেতাদের এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
শুভেন্দুর চরম সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি দেখছি বিজেপির গাদ্দার গুলো, যাদের কোন দাম নেই। প্রচুর টাকা কামিয়েছে । ইডি’র হাত থেকে বাঁচবার জন্য সিবিআই এর হাত থেকে বাঁচবার জন্য এনআইএ’র হাত থেকে বাঁচবার জন্য বিএসএফের হাত থেকে বাঁচবার জন্য এখন বিজেপির বড় বড় ভাষণদার হয়ে গেছে। সেই ভাষণদাররা বলছেন মমতা ব্যানার্জি কি কাজ করেছে। আমি বলি আগে মোদিকে বলুন তিনি কি কাজ করেছেন। কারণ এটা বাংলার ইলেকশন নয় এটা দিল্লির ইলেকশান। যখন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন আসবে তখন ১০০ বার কৈফিয়ত দেব।’
প্রধানমন্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নিজের চোখে এসে দেখুন বালুরঘাট এয়ারপোর্টের কাজ হয়েছে কিনা। আপনি প্লেন দিচ্ছেন না। তাই প্লেন চালু করা যাচ্ছে না। আপনি গদ্দার দের কথা কেন বিশ্বাস করছেন। নিজের চোখে এসে দেখে নিন।’ নাম না করে সুকান্ত মজুমদারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের লোকেরা বুক চিতিয়ে সংসদে লড়াই করে। আপনাদের সাংসদ ঠান্ডা ঘরে ঘুমায়। কোনও কথা বলে না। বলে, বাংলায় ১০০ দিনের কাজের টাকা দিয়ো না। যে লোক বলে বাংলাকে বঞ্চিত করো, টাকা দিয়ো না, তাঁকে আপনারা ভোট দেবেন? এঁরা বার বার প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বলেছে বাংলাকে টাকা দেবেন না।’ এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাড়ে তিনশো টীম পাঠিয়েছো সেন্ট্রাল থেকে। রোজ জ্বালিয়েছ। গ্রামীন আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের রিপোর্ট এর বিষয়ে আমি দশ দিন ধরে চিৎকার করছি শ্বেতপত্র প্রকাশ করো। বাংলা, বিহার, ইউপি এবং মহারাষ্ট্রের এজি রিপোর্ট সহ আমি দেখতে চাই কে চোর আর কে সাধু। সবচেয়ে বড় ডাকাত তোমরা। বাংলা চোর নয়। বাংলা নামে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। আমরা ৪২ লক্ষ বাড়ি তৈরি করে দিয়েছি। আমরা এক লক্ষ কিলোমিটার এর ওপরে গ্রামীণ রাস্তা তৈরি করেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বাংলার গ্রামাঞ্চলেও বাড়ি বাড়ি এক কোটি ৭৫ লক্ষ লোকের বাড়িতে জল স্বপ্ন প্রকল্পে জল পৌঁছাব। যেহেতু বিজেপির অনেক টাকা রয়েছে রোজ বিজ্ঞাপন দিচ্ছে বড় বড় করে। অথচ ১০০ দিনের কাজের দেবার টাকা নেই।’
শুভেন্দু অধিকারী কে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন ‘জিজ্ঞেস করুন, হরিদাস গদ্দার, কী ছিলে, কী হয়েছ? আঙুল ফুলে কলাগাছ। কেন বিজেপিতে গেলে? টাকা বাঁচাতে? পরিবার বাঁচাতে? বিজেপি কাল থাকবে না, ‘তোমাদের মতো গদ্দারদের জায়গা দেব না।’
মমতা ব্যানার্জি আরো বলেন, ‘বলছে আমি বোমা ফাটাবো। বোমাটা কি মেরে ফাটানোর বোম? আজই ফেলো। লুকিয়ে ছুপিয়ে কেন? নাটকটা তৈরি করতে এত সময় লাগছে? মনে রাখবেন আমরা বোমের বদলে বোম মারি না। আমরা বোমের বদলে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভাষায় বলি...।’
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct