ধর্ম, ধার্মিক ও ধর্মস্থান
ইয়েসমিন খাতুন
না, আমার ইসলাম ধর্ম - আমার কুরআন - আমার নবী পরধর্মে - ধর্মস্থানে আঘাত করতে শেখায় না। যদি করতে শেখাতো, তাহলে এই ভারত বর্ষে মোঘল সামাজ্য পৌনে এক হাজার বছর রাজত্ব করেছিলো, এই দীর্ঘ সময়কালে আমার অ- মুসলিম বন্ধু ধর্মাবলম্বী দের একটাও ধর্মস্থান থাকতো না। ধর্ম কি কাকে বলে? ধর্মের সংজ্ঞাই বা কি? এ নিয়ে বলতে গেলে অনেক কথাই বলতে হয়। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে যা দেখছি আমার দেশ ও পৃথিবীর জুড়ে তাতে মনটা খুব একটা ভালো নেই। ধর্ম বলতে এখন সহজেই যেটা অনুমেয় তাও সবার জানা। কেউ বলবেন আমি হিন্দু, কেউ বলবেন আমি মুসলিম- ইসলাম আমার ধর্ম আবার কেউ খ্রীষ্ঠান বৌদ্ধ ইত্যাদি। তবে এটা তো বলতে দ্বিধা নেই যে, সব ধর্মই দেহ ও মনের মধ্যে একাত্ববাদ, এক ইশ্বর বা আল্লাহ বা ভগাবানের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা, ইহকাল ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস, জীবনে যে কয়দিন বেঁচে থাকা যায় সেই কদিন সৎ পথে, সৎ কর্মে বাঁচব, অন্যের ক্ষতি করব না, ব্যাবহারে কথা বার্তায় এমন কিছু করবো না যাতে কেউ আমার ব্যাবহারে দুঃখ কষ্ট আঘাত পায়। পবিত্র কোরআন শরীফও বলে- লাকুম দ্বিনীকুম অলাইয়াদ্দ্বীন। তোমার ধর্ম তোমার কাছে , অন্যের ধর্মও তার কাছে। তবে বলতে গিয়ে- ভাবতে গিয়ে খুব খারাপ লাগে যে, যখন দেখি ধর্ম ও ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ মানুষের বুকে আঘাত হানে। মানুষ মানুষে ধর্ম ও ধর্মস্থানে আঘাত হানে। আমার বাবরি মসজিদ, আমার জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে যা হলো তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। এবং একজন সাধারণ মুসলিম হয়ে আমার মসজিদে যখন কেউ আঘাত হানে, “সত্য - তথ্য - প্রমানের থেকে আবেগ ও বিশ্বাস ( অন্ধ বিশ্বাস) বড় হয়ে দাঁড়ায় আর অন্যের ধর্মস্থানে আঘাত করা সহজ হয় “তখন তা মানতে বড় কষ্ট হয়। কারোর নির্দেশে ( সেই নির্দেশ কতটা সত্যের উপর কে জানে?) কেউ যখন দখল করে নেয় তখন আমরা কি আর করতে পারি? মহান করুনাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে মাথা নত করে চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কি করার আছে? কাকে বলব? কার কাছে কাঁদব? কার কাছে চাইব ন্যায় বিচার। ইহ কালে কে দেবে সত্য আর সত্যের উপর হক আদায় করে? বিশ্ব জুড়ে মুসলিমদের উপর অত্যাচার, অবিচার, নির্বিচারে শিশুদেরও হত্যা, একটার পর একটা মসজিদে আঘাত। এ আঘাত আমার মসজিদে নয়, এ আঘাত শতকোটি মুসলামনের হৃদয় পিঞ্জরে। সে কথাই বা কাকে বলি? আজ চোখের সামনে দেখলাম, বাবরি থেকে জ্ঞানবাপী, আবার মালদার আদিনা তারপর..। এরপর কত দেখতে হবে? কারোর জমি জায়গা জোড় করে দখল করা যেমন বে-আইনী, সেখানে ধর্ম ও ধার্মিকের উপর আঘাত করে জোড় করে ধর্মস্থানে আঘাত করা কতটা ধার্মিকের পরিচয় দেয়? অন্যের ধর্মস্থানে আঘাত করে নিজের ধর্ম ও ধর্মাচারন করা কি প্রকৃতপক্ষে একজন সৎ ধার্মিকের পরিচয় হতে পারে? না, আমার ইসলাম ধর্ম - আমার কোরাণ - আমার নবী পরধর্মে - ধর্মস্থানে আঘাত করতে শেখায় না। যদি করতে শেখাতো, তাহলে এই ভারত বর্ষে মোঘল সামাজ্য পৌনে এক হাজার বছর রাজত্ব করেছিলো, এই দীর্ঘ সময়কালে আমার অ- মুসলিম বন্ধু ধর্মাবলম্বী দের একটাও ধর্মস্থান থাকতো না। হায়রে আমার মাতৃভূমি! আমার জন্ম স্থানে আজ আমার মসজিদে আঘাত? আমার ধর্মে - ধর্মস্থানে যে আঘাত হবে সেটা আমাদের অশ্রুশিক্ত চোখের জলে ভাবতে - ভাবাতে বড় কষ্ট হয়। যে কষ্ট শুধু বলতে হয় আমার মহান করুনাময় কেই। তিনি ছাড়া আর কে শুনবে আমাদের কান্না?
(মতামত লেখকরে ব্যক্তিগত)
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct