নিজস্ব প্রতিবেদক, হলদিয়া, আপনজন: এক হাতে কাটারি।অন্য হাতে স্ত্রীর কাটা মুন্ডু।গোটা দেহে কোথাও লেগে আছে চাপ চাপ রক্ত, কোথাও আবার রক্তের ছিটে।চোখে যেন জ্বলছে।রণংহেদি মূর্তিতে এই অবস্থাতেই গোটা গ্রামে ঘুরলেন যুবক।মুখে একটাই কথা,’তুমি আমায় ভুল বুঝো না। আমি তোমায় মুক্তি দিলাম।’ বুধবার স্ত্রী ফুলরানি গুছাইতকে খুন করেন কাটারি দিয়ে এমন মন্তব্য করেন ঐ যুবক, যা দেখে রীতিমতো ভিড়মি খাওয়ার জোগাড় গোটা গ্রামের প্রেমদিবসে হাড়হিম হত্যাকাণ্ড,পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের এক নম্বর ব্লকের চিস্তিপুর গ্রামে ঘটনা,চুয়াল্লিশ বছরের গৌতম গুছাইত পটাশপুরের চিস্তিপুর গ্রামের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা।পেশায় হকার গৌতম। বেশ কয়েক বছর আগে বিয়ে হয়। তবে স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হত না।দাম্পত্য অশান্তি লেগেই থাকত তাদের।তাঁদের এক সন্তান রয়েছে।সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।স্থানীয়দের দাবি,গৌতম মানসিক ভারসাম্যহীন।একবার নাকি আলিপুর চিড়িয়াখানায় সিংহর গলায় মালা পরানোর উপক্রমও করেছিল সে। গৌতমের স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি প্রতিবেশীরা।সে কারণেই স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি লেগেই থাকত।তার জেরেই প্রেমদিবসে স্ত্রীকে গৌতম খুন করে বলেই মনে করা হচ্ছে।অভিযোগ,অশান্তি চলাকালীন কাটারি দিয়ে গলা কেটে সে স্ত্রীকে খুন করে।এর পর স্ত্রীর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে গোটা গ্রামে ঘুরে বেড়ায়।কখনও মুন্ডু হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।আবার কখনও বেঞ্চে কাটা মুন্ডু রেখে বিশ্রামও নেয় সে।হাতে ধরা রক্তমাখা কাটারি।গ্রামবাসীরা গৌতমকে দেখে আঁতকে ওঠেন।খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। তড়িঘড়ি পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।দেহ এবং কাটা মুন্ডু উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ওই যুবককে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct