আসিফা লস্কর, সুন্দরবন, আপনজন: বিপদ জেনেও বারবার পেটের টানে ছুটে যেতে হয় গভীর জঙ্গলে। জঙ্গলে প্রতি পদে পদে ওত পেতে থাকে সাক্ষাৎ মৃত্যু।সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও বাঘের হানায় প্রাণ গেল এক মৎস্যজীবীর। মৃত মৎস্যজীবীর নাম শ্রীধাম হালদার (৪৬)। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে এই ঘটনা ঘটেছে। অন্যান্য মৎস্যজীবীদের সঙ্গেই মাছ ধরতে গিয়েছিলেন শ্রীধাম। সেই সময় তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঘটি। এরপরে বাঘটি তাঁকে টেনে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে বাঘের মুখ থেকে রক্ষা করা গেলেও প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার গোপালগঞ্জের গায়েন চকের বাসিন্দা শ্রীধাম হালদার চারজন মৎস্যজীবীদের নিয়ে সুন্দরবনের জঙ্গলে নদীতে মাছ ধরার জন্য রওনা দিয়েছিল। এরপর সোমবার কাকভোরে গ্রামের খবর আসে শ্রীধামকে বাঘে নিয়ে গিয়েছে। এরপর গ্রাম থেকে বেশ কিছু নৌকা নিয়ে মৎস্যজীবীরা শ্রীধামের দেহ উদ্ধার করার জন্য জঙ্গলের রহনা দেয়। এরপর জঙ্গল থেকে শ্রীধামের দেহ উদ্ধার করে শ্রীধাম এর সঙ্গী সাথীরা। শ্রীধামের এক সঙ্গী জানান, রবিবার সারারাত ধরে জঙ্গলে মাছ ধরা হয়েছিল। সোমবার ভোররাতে শ্রীধাম নৌকাতে জাল থেকে মাছ ছাড়ানোর কাজ করছিল। সেই সময় জঙ্গল থেকে একটি বাঘ অতর্কিতভাবে শ্রীধামের উপর হামলা করে। এরপর শ্রীধামকে টানতে টানতে জঙ্গলে নিয়ে যায়। আমরা অনেক চিৎকার করি এবং লাঠি দিয়ে বাঘের মুখ থেকে শ্রীধামকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারিনি আমরা। দিনের আলো ফোটার জন্য আমরা অপেক্ষা করি, দিনের আলো ঘুরতেই আমরা শ্রীধামের উদ্ধারের জন্য জঙ্গলে যাই। এরপর শ্রীধামের নিথর দেহ উদ্ধার করে আমরা উদ্ধার করে গ্রামে নিয়ে আসি। পরিবারের একমাত্র রোজগারের ছিল শ্রীধাম বাড়িতে ৪ ছেলে মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র রোজগারের হারিয়ে দিশাহারা হালদার পরিবার। কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবারের সদস্যরা।প্রসঙ্গত, সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মাছ,কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হানায় মৎস্যজীবীদের মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এ নিয়ে প্রশাসনের তরফে সতর্কতামূলক প্রচার চালানো হয়। বিশেষ করে মৎস্যজীবীরা যাতে জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ না করেন তা নিয়ে প্রশাসনের তরফে প্রচার করা হয়ে থাকে। তারপরেও অর্থ উপার্জনের আশায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে যেতে হয় মৎস্যজীবীদের।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct