মাফরুজা মোল্লা, কুলতলি, আপনজন: গ্রাম্য পরিবেশে কৃষক পরিবারে জন্ম।ছোট্ট ফুটফুটে তুহিনা লস্কর।জন্ম থেকেই মূকবধির। গ্রামের কেউ ঘুণাক্ষরে ভাবেনি বড় হয়ে একদিন মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে পরিবারে ছোট্ট মেয়েটি।মেয়ে মূকবধির হওয়ায় বাবা-মা ও বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন।বাবা রাজ্জাক লস্কর পেশায় একজন ক্ষেতমজুর। মা ছুরাইয়া লস্কর গৃহবধু।সুন্দরবনের প্রত্যন্ত কুলতলি ব্লকের জালাবেড়িয়া ২ পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর মধুসূদনপুর গ্রামে বসবাস করেন।ছোট থেকে পড়াশোনার প্রতি বেশ জেদ ছিল। সেই জেদের জন্য লস্কর পরিবার তাদের ছোট্ট মেয়ে মূকবধির তুহিনা কে স্কুলে ভর্তি করেন।বর্তমানে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সবুজ সাথী সাইকেল চড়ে প্রতিদিনই প্রায় ২ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে বন্ধুদের সাথে তুহিনা লস্কর ‘জামতলা ভগবান চন্দ্র হাইস্কুল’ এ পড়াশোনা করতে যায়। স্কুলে বন্ধু দের সাথে হেসে খেলে দিন কাটালে ও মুখে কথা বলতে পারেনা বছর ১৭ বয়সের তুহিনা। ২০২৪ এ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। হাতের লেখা সুন্দর, মেধাবী ছাত্রী বলে জানিয়েছেন জামতলা ভগবান চন্দ্র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। ছোট্ট থেকে বড় হয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছে তুহিনা, লোক সমাজে বাবা মায়ের মুখে হাসি থাকলে ও তাদের হৃদয়ে দুঃখ যন্ত্রণার ঢেউ বইছে। তুহিনার বন্ধুরা যখন পড়তে বা গল্প করতে বসে তখন সে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।মনের জোরে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে। সম্পূর্ণ গাঁটের টাকায় খরচা করে আট কিলোমিটার দূরে সকাল সকাল মাধ্যমিক সেন্টারে পৌঁছাতে হয় তাকে। মাধ্যমিক পরীক্ষার সীট পড়েছে পাঁচুয়াখালী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ঘরামী জানান,তুহিনা লস্করের পরীক্ষা দিতে যাতে করে কোন প্রকার অসুবিধা না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct