আপনজন ডেস্ক: জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৩৪ জন। হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে ইরান। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর ১৫০টির বেশি হামলা হয়েছে। এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক জন সেনা কিছুটা আহত হলেও নিহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।তবে রোববার সিরিয়া সীমান্তের কাছে ওই ড্রোন হামলায় একসঙ্গে তিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি করেছে। সীমাহীন চাপে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হামলার পর বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির অনেক রাজনীতিবিদ ইরানে সরাসরি হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছেন। বৃহত্তর পরিসরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বাইডেন সরাসরি কোনো পাল্টা সামরিক হামলার পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে এতদিন অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে এবারের হামলার ঘটনার পর রোববার সাউথ ক্যারোলাইনায় বাইডেন এক নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে বলেছেন, আমরা এ হামলার জবাব দেব। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জর্ডানে প্রাণঘাতী ওই হামলার জবাবে বাইডেন ইরানের বাইরে এমনকি ভেতরেও ইরানি বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারেন। কিংবা শুধুমাত্র ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে আরো সতর্কতার সঙ্গে প্রতিশোধমূলক হামলার পথও বেছে নিতে পারেন।জর্ডানে ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর দিন বলে উল্লেখ করেছেন রিপাবলিকান দলের সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রতিপক্ষ নিকি হ্যালিসহ আরো কয়েকজন বিশিষ্ট রিপাবলিকান জর্ডানের ঘাঁটিতে হামলার ঘটনার জন্য জো বাইডেনের দুর্বলতা ও তার ইরান নীতিকে দায়ী করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, এ হামলার ঘটনা জো বাইডেনের দুর্বলতা ও আত্মসমর্পণের আরেকটি ভয়ংকর ও দুঃখজনক পরিণতি। ওদিকে হ্যালি বলেন, জো বাইডেন যদি ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে এতটা দুর্বল না হতেন,তাহলে তারা কখনোই মার্কিন বাহিনীকে হামলার নিশানা করতে পারত না।রিপাবলিকানদের অনেকেই বলছে, মার্কিন বাহিনী সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করেছে যখন একটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে এসে সামরিক ঘাঁটির প্রতিরক্ষা ছিন্নভিন্ন করে দেবে।রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন বলেন, তিনি (বাইডেন) আমাদের সেনাদের বসা হাঁসের মতো করে রেখেছিলেন। এই হামলার একমাত্র উত্তর হতে হবে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক সামরিক প্রতিশোধ। রিপাবলিকান নেতা এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি ওভারসাইট কমিটির নেতৃত্বে থাকা মাইক রজার্সও ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ইরান সরকার এবং তাদের চরমপন্থি দোসরদের যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের জবাবদিহি আরও আগেই করা উচিত ছিল বাইডেনের। বাইডেন প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মার্কিন সেনাদের রক্ষায় তার প্রশাসন অনেক চেষ্টাই করে থাকে। তবে গাজায় ইসরায়েল-হামাস সংঘাত নিয়ন্ত্রণে বাইডেনের কৌশল যে ব্যর্থ হচ্ছে তা নিয়ে প্রকাশ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একজন ডেমোক্র্যাট।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct