আসিফা লস্কর, ডায়মন্ড হারবার, আপনজন: আসন রফায় অনীহা। তৃণমূল সুপ্রিমোকে লাগাতার আক্রমণ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। উপরন্তু কংগ্রেসের জমিদারি মেজাজ! এই ত্রিফলাই ভেস্তে দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সোমবার কার্যত সেকথাই বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডিয়া জোটের সলতে পাকানো শুরু হতেই কংগ্রেসকে আক্রমণ করা বন্ধ করে দিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চেও হাত শিবিরকে নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। জোটধর্ম পালন করেছিল ঘাসফুল শিবির। অথচ জোট প্রক্রিয়া চলাকালীন গত সাতমাস ধরে মমতাকে লাগাতার নিশানা করেছেন অধীর চৌধুরী। অভিষেকের কথায়,”বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ তাঁকেই বারবার নিশানা করেছেন অধীর। বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন চেয়েছেন। বাংলার বঞ্চনা নিয়ে কতবার সরব হয়েছেন তিনি?” ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের আরও সংযোজন, “ইন্ডিয়া জোট মানুষের জোট। মানুষ ঠিক করুক কাকে ভোট দেবেন।” আসনরফা নিয়েও কংগ্রেসের কোর্টে বল ঠেললেন অভিষেক। আসন সমঝোতা করতে কংগ্রসকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু তাতে আমল দেয়নি কংগ্রেস। তাদের এই আচরণ নিয়ে ‘ক্ষুব্ধ’ অভিষেক। বলেন, “কংগ্রেস আসনরফা নিয়ে আলোচনা করেনি। কার জন্য় আসন সমঝোতা হল না মানুষ বুঝবে।”
অভিযোগ, বারবার তৃণমূলের আসনরফার প্রস্তাব ঝুলিয়ে রেখেছে হাত শিবির। আলোচনায় বসেনি তারা। কংগ্রেসের এহেন জমিদারি মেজাজ কোনওদিন মেনে নেয়নি রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলে নেত্রী শুরু থেকে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, জোট করতে হলে জমিদারি মেজাজ ছাড়বে হবে কংগ্রেসকে। তার পরেও কংগ্রেসের আচরণে বদলায়নি। এর পরই বঙ্গে তৃণমূল একাই ভোটে লড়বে বলে স্পষ্ট করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সে কথাই শোনা গেল তৃণমূলের সেনাপতির গলাতেও।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct