গৌড়বঙ্গের বিস্তার মালদা,উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে এবং সাথে মুর্শিদাবাদ যোগ করলে ভারতের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের অন্যতম। তবে ১৯৭১ সালের পর থেকে ভারতের সংসদে ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় গৌড়বঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন ড.মুহাম্মদ ইসমাইল।
গৌড়বঙ্গের বিস্তার মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে এবং সাথে মুর্শিদাবাদ যোগ করলে ভারতের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের অন্যতম। তবে ১৯৭১ সালের পর থেকে ভারতের সংসদে ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় গৌড়বঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিদ্ধার্থ শংকর রায় ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর মন্ত্রীসভায় ১৯৭১ সালে রায়গঞ্জ থেকে নির্বাচিত হয়ে। ৮০ দশকে রেল ও ইমপ্লিমেন্টিং দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন আবুল বারকাত আতাউর গণি খান চৌধুরী। সেই থেকেই ভারতবাসী মালদাকে সাধারণত গণি খান চৌধুরীর নামে জানে। তবে মালদার কয়েকটি বিধানসভা রায়গঞ্জ লোকসভার অধীনে ছিল এবং শ্রী প্রীয়রঞ্জন দাশমুন্সি কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী ছিলেন। তার সুবাদে গৌড়বঙ্গের পরিচয় ভারতবর্ষজুড়ে। গৌড়বঙ্গের জনগণ তাবোড় তাবোড় নেতাদের আশীর্বাদ করলেও জনগণের কল্যাণে ও দুর্দশা দূরীকরণে গণি খান চৌধুরী ছাড়া তেমন কোনো নেতা ভূমিকা পালন করেনি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চল হলেও বিভিন্ন দলের নেতৃত্বের মাথায় সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রয়েছেন। গৌড়বঙ্গ শিক্ষা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে রাখা অঞ্চল এবং তা সমাধানের জন্য গনি খান চৌধুরী থেকে শুরু করে কোন নেতা শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা গ্রহণ করেনি। জনবহুল কয়েকটি জেলায় উচ্চ শিক্ষার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। তবে কয়েক দশক ধরে কয়েকটি কলেজ ছিল গৌড়বঙ্গের মানুষের একমাত্র উচ্চ শিক্ষার জন্য সম্বল। যদিও অধিকাংশ মহাবিদ্যালয় শহরকেন্দ্রিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছিল। গ্রাম বাংলার প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী কৃষক, গরিব, খেতমজুর, ছুতোর, কামার ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনসাধারণের জন্য শিক্ষা এক মরীচিকার মতো ছিল। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ ছিল না এবং আজও তুলনামূলক ভাবে নেই। মালদা রেলওয়ের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলেও তার পার্শ্ববর্ত্তী অধিকাংশ অঞ্চল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাংলার একমাত্র ভরসা ছিল মোষ ও বলদের গাড়ি। বিবাহ, অনুষ্ঠান, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ মানুষকে হসপিটালে পৌঁছানোর জন্য বা উৎসব ও আনন্দের দিনে বলদ ও মোষের গাড়ি সাজিয়ে যাতয়াত একমাত্র ভরসা ছিল । শুধু তাই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের মাল আদান-প্রদানের জন্য গ্রামগুলোর ভরসা ছিল বলদ ও মোষের গাড়ি। কৃষি প্রধান গৌড়বঙ্গে অশিক্ষিত মানুষের জন্য সরকারিভাবে উন্নয়নে আলাদা ভাবে ভূমিকা গ্রহণ করেনি কোন নেতা-নেত্রী। অথচ নেতারা রাজ্য- কেন্দ্রের দাপুটে ও ক্ষমতাশালী হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক মহলে। যদিও গণি খান কংগ্রেসের বঞ্চিত নেতা ও তার উন্নয়নের ইচ্ছে থাকলেও কংগ্রেস তাকে আড়াল করে দিয়েছিল ক্ষমতা থেকে। রেলের নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করলেও অধিকাংশটায় ছিল কলকাতা কেন্দ্রিক এবং গৌড়বঙ্গের জনসাধারণের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য রেল পথকে তেমনভাবে নজর দেননি। শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে বাস ও লোকাল ট্রান্সপোর্টের উপর অধিকাংশ মানুষ নির্ভরশীল। গণি খান ১৯৮০ থেকে ২০০৬ সাল সাংসদ থাকলেও গৌড়বঙ্গের জনসাধারণের জন্য কোন লোকাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেননি-যার উপর নির্ভর করে জনসাধারণ কাজ কর্মের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন যাতায়াত করবে। মালদা অবস্থানগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাথে সংযুক্ত ও দূরপাল্লার ট্রেন মালদা টাউন হয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু মালদা টাউন থেকে জেলার বিভিন্ন ব্লকে ও গৌড়বঙ্গে যাতায়াত করার জন্য তেমনভাবে কোন রেলওয়ে ব্যবস্থা নেই। মালদা টাউন থেকে নতুন কোন ট্রেন চালু করতে ব্যর্থ হয়। যদিও মালদা থেকে দিল্লিগামী ফারাক্কা এক্সপ্রেস চালু হয়েছিল ১৯৬৩ সালে। আধুনিকমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ব্যর্থ হয় তার ফলে বিভিন্ন ব্লক ও গ্রামীণ এলাকা অন্ধকারে থেকে যায়। বিশেষ করে উত্তর মালদার চাঁচল মহাকুমা, উত্তর দিনাজপুর উন্নয়নের নিরিখে ছায়া অঞ্চলে পরিণত হয়। যদিও চাঁচল ও সামসিতে কলেজ স্থাপিত হয় ১৯৬৮ ও ১৯৬৯ সালে। আজও কলেজগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু পড়াশোনা করার সুযোগ নেই। কয়েক দশক ধরে কয়েকটি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি দেওয়া হয় এবং সামসীতে আজও বিজ্ঞান পড়ানোর ব্যবস্থা নেই। শিক্ষক-শিক্ষিকা হাতে গোনা। দীর্ঘ ৫৫ বছর পরেও কলেজে বিজ্ঞান ও কমার্স থেকে শুরু করে বর্তমানে নানা কর্মমুখী বিষয়ে পড়ানোর কোন সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়নি গৌড়বঙ্গের অধিকাংশ কলেজে সরকারি তরফে। শুধু তাই নয় মাত্র কয়েকটা বিষয়ে স্নাতক পড়ানো হয় মাত্র কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা দিয়ে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীকে। ১৯৫২ সালে সুরেন্দ্র মোহন ঘোষ, পরবর্তীতে রেনুকা রায়, উমা রায়, দীনেশচন্দ্র জোয়ারদারদের মত নেতাদের গড় ছিল গৌড়বঙ্গ। তাদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তেমন ভূমিকা চোখে পড়ার মত নয়। এছাড়া আবু হাশেম খান, মৌসুম নূর থেকে সকলেই গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজের নজির গড়ে তুলতে পারেনি। । রায়গঞ্জ থেকে সিদ্ধার্থ শংকর রায় ১৯৭১ সালে নির্বাচিত হয়ে ভারত সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হন ও পরবর্তীতে মালদা বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন পশ্চিমবাংলার। অথচ মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুরে কোন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ভালো স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে কোনো উন্নত মানের পড়াশোনার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শুধু তাই নয়, উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে তেমনভাবে রাস্তাঘাটের ব্যবস্থাও করেনি। অথচ এই সমস্ত নেতারা দক্ষিণবঙ্গের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। পার্শ্ববর্তী জেলা মুর্শিদাবাদের কাহিনী একই রকম। মূর্খ, দরিদ্র, অসহায় জনসাধারণ প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মত ব্যক্তিকে সংসদে পাঠান ও পরবর্তীকালে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়। তিনি ভারতরত্ন সম্মানে সম্মানিত হন কিন্তু মুর্শিদাবাদের জনগণের ভোটের কোন মূল্য দেয়নি। তাই মালদা ও তার পার্শ্ববর্তী তিনটা জেলা একাধিক প্রভাবশালী নেতার নির্বাচন কেন্দ্র হওয়া সত্বেও ভারতবর্ষের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার তালিকায় রয়ে গেছে। জনসাধারণকে মূর্খ, দরিদ্র, অসচেতন রেখে নিজেদের ভোটার হিসাবে ব্যবহার করেছেন।
দেশের রাষ্ট্রপতি ও কংগ্রেসের চাণক্য নামে পরিচিত প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মালদা ও মুর্শিদাবাদের ভূমিতে নির্বাচনক্ষেত্র। কংগ্রেসের একাধিক পদ, মন্ত্রিত্ব ও পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন তিনি। তবুও জনসাধারণের জন্য কিছু করেনি। প্রিয় রঞ্জন দাস মুন্সী রাজনৈতিক গত ভাবে কংগ্রেসের শক্তিশালী নেতা ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অল ইন্ডিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি থাকলেও এই অঞ্চলে ফুটবলের উন্নয়ন হয়নি । আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরি হয়নি। খেলার জন্য কোন মাঠ করা হয়নি। নির্বাচনী ক্ষেত্র রায়গঞ্জের অধিকাংশ বিধানসভা দেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চল ও সংখ্যালঘু তপশিলি জাতি এবং তপশিলি উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল। শুধু তাই নয়, একাধিক বার মন্ত্রিত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও তেমনভাবে উন্নয়ন চোখে পড়ে না। যদিও রায়গঞ্জে প্রস্তাবিত অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু উত্তরবঙ্গের স্বপ্ন ও তার প্রচেষ্টায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জল ঢেলে দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের কল্যাণীতে স্থানান্তরিত করেন। রায়গঞ্জ লোকসভার অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ সেলিম কিন্তু কেন্দ্রে বিজেপি সরকার থাকায় তেমন ভাবে কোন কাজ করতে পারিনি। এছাড়া দীপা দাশমুন্সি রায়গঞ্জ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন ও মন্ত্রিত্ব লাভ করেন। তবু ও রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য কাজের খতিয়ান নেই। সিদ্ধার্ত শংকর রায় ১৯৭২ সালে মুখ্যমন্ত্রী হলে তার স্ত্রী মায়া রাই রায়গঞ্জ লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়। একই সময় মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচন ক্ষেত্র ও তার স্ত্রী নির্বাচন কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও তেমন কাজের নজির চোখে পড়ে না। তবে সেচদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করা হয় এবং বন্যার হাত থেকে বহু এলাকা রক্ষা পায়। আবু হাসেম খান চৌধুরী গণি খান চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকে সাংসদ ও তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পায়। । তারও কাজের খতিয়ান নেই মালদা ও পশ্চিমবাংলার উন্নয়নে। অধীর রঞ্জন চৌধুরী রাজ্য ও কেন্দ্র রাজনীতিতে দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত। সংখ্যালঘু ভোটের আশীর্বাদে নির্বাচিত কয়েকবার। দেশের বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেল প্রতীমন্ত্রী। কিন্তু উন্নয়নের নিরিখে রাস্তাঘাট ও কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া অধীর বাবুর ভূমিকা অত্যন্ত নগণ্য। রাজনৈতিক পরিবেশ গরমাগরম করা ছাড়া তেমন উল্লেখযোগ্য কাজের খতিয়ান খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি এবং তার নেতৃত্বে পার্টির অবক্ষয় অব্যাহত। মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা করলে সহজে অনুমেয় এখান থেকে বহু কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতার নির্বাচনক্ষেত্র। কিন্তু তারা এলাকার উন্নয়নে মনোনিবেশ করেনি গণি খান চৌধুরী ব্যতীত। সকলেই জনসাধারণকে হীরক রাজার দেশে রেখে ভোট লুটপাট করে নিজেদের স্বার্থ কায়েম করেছেন। রাজনৈতিক দিক থেকে মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদের অবস্থা প্রদীপের তলার মত অন্ধকারে থেকে গেছে এবং নেতারা নির্বাচনী ক্ষেত্রকে বঞ্চিত করে সারা বাংলার ও ভারতের উন্নয়নে মননিবেশ করেছেন। গৌড়বঙ্গ বর্তমানে পশ্চিমবাংলার সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা এবং নেই কোন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা। শুধু তাই নয়, গৌড়বঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান করছে, দেশের বিভিন্ন বিপদজনক ঝুঁকিপূর্ণ কাজের শ্রমিক সরবরাহের কেন্দ্র হিসাবে। গৌড়বঙ্গ ও মুর্শিদাবাদ অদক্ষ শ্রমিক ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন ঠিকাদারি সংস্থার মাধ্যমে অত্যন্ত সুলভে। তাদের জীবনহানির জন্য কোন ক্ষতিপূরণ লাগে না এবং তারা কি কাজ করছে? কোথায় কাজ করছে? তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয় তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার-পরিজনেরা। অথচ ভোটের বাজারে নেতাদের আস্ফালন ও গরিব মানুষদের টাকার বিনিময়ে ভোট ম্যানেজ করেন অতি সহজে। এই অঞ্চলের ভোটারেরা জানে না তাদের নেতাদের প্রশ্ন করতে। কেন তাদের কর্মসংস্থান নেই? কেন তাদের এলাকার উন্নয়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই? বংশপরম্পরা ভাবে শ্রমিকের কাজ করছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের সাথে বলতে হয় রাজ্যে অসংখ্য সরকারি কলেজ থাকলেও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদে আজও কোন সরকারি মহাবিদ্যালয় নেই। শুধু তাই নয়, ২০০৪ সালের পূর্বে গৌড়বঙ্গ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় কোন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা ছিল না। চিকিৎসার জন্য যেতে হয় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যে এবং পড়াশোনার জন্য যেতে হতো কলকাতা, দিল্লী, আলিগড় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। জনসাধারণ ও দরিদ্র সীমার মধ্যে বসবাসকারী মানুষের কাছে পড়াশোনা করানো ছিল এক স্বপ্ন দেখার মত এবং চিকিৎসার অভাবে আজও মারা যায় বহু মানুষ। যদিও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতা ও নানা রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের। খাদ্য সন্ধানের জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাড়ি দিচ্ছে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শ্রমিক। এছাড়া দরিদ্র সীমায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা জাতীয় ও রাজ্যস্তরের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী মহাশয়া মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী। অথচ বিভিন্ন সরকারি হিসেব অনুসারে বাল্যবিবাহ ও শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেশি গৌড়বঙ্গে। শুধু তাই নয়, মহিলাদের অধিকাংশ বিড়ি শ্রমিকের কাজে নিযুক্ত যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার ফলে শ্রমিকদের স্বাস্থা হানি হয় ও তার প্রভাব সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের উপর পড়ে। শুধু তাই নয়, মহিলাদের কর্মসংস্থান ও সাক্ষরতার হার কম জাতীয় ও রাজ্যের তুলনায়। গৌড়বঙ্গে শিশু মৃত্যুর হার ও গর্ভবতী মহিলা মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষার অভাবে বাড়িতে সন্তান প্রসবের হার বেশি। শিশুরা অপুষ্টি জনিত সমস্যার সম্মুখীন ও মহিলারা রক্তাল্পতায় ভোগেন। অথচ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলোচনা করলে উন্নত হওয়া উচিত ছিল কারণ ভারতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি মন্ত্রিত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন গৌড়বঙ্গের সাংসদেরা। তা সত্ত্বেও এই অঞ্চল উন্নয়নের নিরিখে ছায়া অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। আজও মালদা ও মুর্শিদাবাদের একাংশ নদী ভাঙনের শিকার এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমি নদী ভাঙ্গনের ফলে জলে তলিয়ে যাচ্ছে। তারা সবকিছু হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে। অথচ সরকারি তরফে তাদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। তবে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রান তহবিলের টাকা নেতা-নেত্রীরা ভাগ বন্টন করে নিচ্ছে। অর্থাৎ দুর্নীতির নিরিখে মাত্রা অতিক্রম করেছে ও উন্নয়নের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে নানাভাবে কাজকর্ম না করে।
(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct