আপনজন ডেস্ক: মণিপুর থেকে রাহুল গান্ধির ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা শুরু করার একদিন আগে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস বাংলায় ইন্ডিয়া জোটের অংশ হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে কোনও আসন ভাগাভাগি থেকে সরে এসেছে। এআইসিসি পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর শনিবার কলকাতায় আসেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং অন্যান্য পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠক করতে। এই বৈঠক প্রসঙ্গে এক কংগ্রেস নেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর আমাদের হাজার হাজার কর্মী ও সমর্থককে বাড়ি থেকে বের করে বিধান ভবনে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। আমরা মীরকে বলেছি, কীভাবে তৃণমূল ভোট লুট করেছে। আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম, হাইকমান্ড যদি তৃণমূলের সঙ্গে জোটের জন্য চাপ দেয়, তাহলে আমরা এই লোকদের কী বলব? বলটি তাই হাইকমান্ডের কোর্টে রয়েছে।
তাই প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের আর্জি কংগ্রেস হাইকমান্ডের কাছে, দয়া করে যেন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক না রাখা হয় বাংলায়।রাজ্য কংগ্রেস নেতারা বলেছেন, তৃণমূলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা চাপিয়ে দেওয়ার যে কোনও প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে হ্রাস প্রাপ্ত ভোটারদের পছন্দ হবে না এবং শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে রাজ্যে তার অবস্থান সুসংহত করতে সহায়তা করবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং বামেরা ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। যদিও তারা একটি আসনও জিততে ব্যর্থ হয়েছিল। শুধুমাত্র আইএসএফ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙ্গড় একটি আসন দখল করেছিল।পুরুলিয়ার এক কংগ্রেস নেতা বলেন, তৃণমূল নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের টার্গেট করেছে, তা সে পঞ্চায়েত সদস্য হোক বা বিধানসভা। তাই জোর পূর্বক জোট হলে ভোট বিজেপির দিকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না,” বলেছেন।তিনি বলেন, পুরুলিয়ার ঝালদায় পৌরসভায় জয়ী কংগ্রেস হলেও দলবদল করে তৃণমূল দখল করে নেয়। একইভাবে, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির একমাত্র কংগ্রেস বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস, যিনি উপ-নির্বাচনে জিতেছিলেন, গত বছর তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।২০২৩ সালের জুন মাসে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির বিরুদ্ধে জোট গঠনের জন্য সারা দেশের বিরোধী দলগুলির প্রথমবারের মতো একত্রিত হয়েছিল। নির্বাচনী সমঝোতার ক্ষেত্রে খুব কম অগ্রগতি হয়েছে। কারণ অনেক জোটসঙ্গী নির্দিষ্ট রাজ্যে চরম প্রতিদ্বন্দ্বী। বাম দলগুলি, বিশেষত সিপিএমও প্রার্থী নির্বাচনের জন্য জমি তৈরি করার আগে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস কোন দিকে ঝুঁকে পড়ে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।
অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল একাই বাংলায় লড়বে। একইভাবে, তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বাম দলগুলিও বাংলার শাসক দলগুলির সাথে কোনও সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। শনিবার সকালে জোটের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকেও যোগ দেননি মমতা।অপরদিকে, মীর এবং চৌধুরী রবিবার মণিপুরে যাবেন। সেখান থেকে ভারত জোডো ন্যায় যাত্রা শুরু হবে। বাংলার মোট সাতটি জেলা দিয়ে যাবে রাহুলের ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’। বাংলার পাঁচ দিনের যাত্রার প্রথম দু’দিনের সবিস্তার কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। শেষ তিন দিনের সূচি চূড়ান্ত নয়। অধীর পাঁচ দিনই থাকবেন রাহুলের সঙ্গে।যাত্রার প্রথম পর্যায়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি কোচবিহার থেকে বাংলায় প্রবেশ করবেন। বিহারে প্রস্থানের আগে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি যাবেন। পরে কংগ্রেসের ঘাঁটি মুর্শিদাবাদ থেকে পুনরায় যাত্রা শুরু করবেন। ন্যঅয় যাত্রার তালিকায় থাকবে উত্তর দিনাজপুর, মালদহ জেলাও।গত রবিবারের বৈঠকে অবশ্য অধীর চৌধুরি দার্জিলিং পাহাড়কে সফরসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অধীর বলেন, দার্জিলিংয়ের সঙ্গে কংগ্রেস ও নেহরু-গান্ধী পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। নেহরু এসেছিলেন, তার নাতি এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধিও এসেছিলেন। যদিও গত ১৫ বছর ধরে বিজেপি এই আসনটি দখল করে রেখেছে, কিন্তু মোদী কখনও দার্জিলিং যাননি। পার্বত্য অঞ্চলে রাহুলের যাত্রা সমর্থন জোগাড় করতে সহায়তা করতে পারে,” বৈঠকে উপস্থিত এক কংগ্রেস নেতা বলেছেন। গত মাসে রাহুল বিজেপির মিত্র গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের সদস্য এবং হামরো পার্টির অজয় এডওয়ার্ডস সহ বেশ কয়েকজন পাহাড়ি নেতার সাথে দেখা করেছিলেন।কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা মনে করেন, যাত্রা সূচির তালিকায় কলকাতাকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct