বাবলু প্রমাণিক ও আসিফা লস্কর, গঙ্গা সাগর, আপনজন: সোমবার গঙ্গাসাগর মেলার ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে সাগরে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাগরে এসে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, গঙ্গাসাগর মেলা হল বিশ্বের সেরা মেলা। যদিও ভারত সরকার ও ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে কুম্ভ মেলা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই গঙ্গা সাগরমেলাকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি প্রদান করুক। স্বাভাবিকভাবে ৪ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত কুম্ভ মেলার সমস্ত খরচ ভারত সরকার দেয়। কিন্তু, গঙ্গাসাগর মেলার খরচ দেওয়া দূরস্ত, কোনও স্বীকৃতি পায়নি ভারত সরকারের তরফে। যা নিয়ে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কুম্ভ মেলায় কেন্দ্র সাহায্য করে। কিন্তু, গঙ্গাসাগর মেলা আরও বড়। কারণ ওখানে (কুম্ভমেলা) বাস-ট্রেনের ব্যবস্থা, এখানে জল পেরিয়ে আসতে হয়। বিশ্বের সেরা মেলা এটা। বিহার, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, গুজরাট, পঞ্জাব-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে মানুষ এখানে আসে। ৮০-৯০ লক্ষ মানুষ আসে। তারা পুণ্যস্নান করে। কেন ভারত সরকার এটিকে স্বীকৃতি দিল না জানি না। গঙ্গাসাগর মেলার জন্য কেন্দ্র কোনও অর্থ সাহায্য দেয় না, রাজ্য প্রশাসনই করে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কেন্দ্রের সাহায্য না পেলেও গঙ্গাসাগর মেলায় নিরাপত্তা-সহ সবরকম সুবিধা দিতে তাঁর সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এপ্রসঙ্গে সাগরব্লকে পানীয় জল প্রকল্প, পাথরপ্রতিমায় গঙ্গা সেতু, নামখানায় ফুটব্রিজ, হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীসেতু প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এদিন একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন। যার মধ্যে আছে সাগর ব্লকে ছয়টি পানীয় জল প্রকল্প। যাতে উপকৃত হবে ব্লকের ৮৪৯৫ টি পরিবার। দু’কোটি একাত্তর লক্ষ টাকা ব্যয়ে নামখানা ব্লকের সীমা বাঁধ ফুট ব্রিজ সেতু। পাথর প্রতিমা ব্লকের বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গঙ্গা সেতু। ব্যয় সাত কোটি ৫০ হাজার টাকা। মোহনপুর ও দক্ষিণ দুর্গাপুর মৌজার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে এই ব্রিজটি। যার ফলে উপকৃত হবেন এলাকার পঞ্চাশ হাজার মানুষ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে সবাই বলত সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার। কিন্তু, এখন বলা হয়, গঙ্গাসাগরও বারবার।” কারণ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান এখানে তীর্থযাত্রীদের সুবিধার জন্য ৩টি হেলিপ্যাড স্টেশন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, লেজার শো, ১০ হাজার শৌচালয়, কপিলমুনির আশ্রম প্রাঙ্গনে গেস্ট হাউস, ২১টি জেটি, আড়াই হাজার বাস, ৬টি বার্জ, ৩২টি ভেসেল, ১০০টি লঞ্চ, অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব বাস, লঞ্চ, ভেসেলে জিপিএস সিস্টেম থাকবে। মেলাপ্রাঙ্গণে এসে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসারও বন্দোবস্ত করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণেই চিকিৎসার ব্যবস্থা থেকে নার্স, প্যারামেডিক্যাল থাকবেন। এমনকি, প্রয়োজনে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে গ্রিন করিডর করে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া গঙ্গাসাগর মেলা ‘ইকো ফ্রেন্ডলি’ করে তোলা লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তীর্থযাত্রীদের বিশেষ সুবিধার পাশাপাশি গঙ্গাসাগরে কর্তব্যরত পুলিশ, ভলান্টিয়ারদের জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন হেলিকপ্টার যোগে মুখ্যমন্ত্রী সাগরে পৌছন। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে এলাকার মহিলা শিশু কিশোরদের ভিড় জমে হেলিপ্যাডে। মুখ্যমন্ত্রী কপিলমুনি মন্দির দর্শন করেন। হেমন্ত মহারাজকে পাশে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দেখা করেন মোহন্ত জ্ঞানদাস মহারাজের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্রম প্রাঙ্গণে জানান যে মেলাকে সার্থক করে তুলতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সাগর মেলায় “আলোর বর্ণমালা” তৈরি হয়ে যাওয়ার কথাও জানান। এই মেলায় শুধু আলোক সজ্জায় খরচ হয়েছে ৮ কোটি টাকা। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সাগর সফরে উপস্থিত ছিলেন মুখসচিব বি পি গোপালিকা, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা, সাগরের বিধায়ক বঙ্কিম চন্দ্র হাজরা, জেলা সভাধিপতি নীলিমা বিশাল মিস্ত্রি, পুলিশ আধিকারিক স্মৃদ্ধিনাথ গুপ্তা, ডিজি রাজীব কুমার , জ্ঞানবন্থ সিং, আকাশ মেঘড়িয়া প্রমুখ। গঙ্গাসাগর মেলা ৯ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ১৫-১৬ তারিখ হবে মকর স্নান।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct