সারিউল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ: আপনজন: নিজের বিয়ে রুখতে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলো নাবালিকা। ঘটনায় শোরগোল মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার বলরামপুর টুলটুলিপাড়া এলাকায়। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সাগরদিঘী থানার দস্তুরহাট এলাকার ১২ বছরের বড়ো এক পাত্রের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে ওই নাবালিকার পরিবার। ১৪ বছর বয়সী ভগবানগোলা থানার সারফিয়া হাই মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ওই মেধাবী ছাত্রী সেই বিয়েতে রাজী না থাকায় জোর করে তার বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। আর তাই বুধবার গভীর রাতে ভগবানগোলার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকে ওই নাবালিকা। খবর পেয়ে ভগবানগোলা থানার পুলিশ ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে। পরে পুলিশ এবং বিডিও অফিসের আধিকারিকরা রীতিমতো মুচলেকা লিখিয়ে নেয় ওই নাবালিকার পরিবারের কাছ থেকে।
ওই নাবালিকার দাবি, ‘এর আগেও আমার বিয়ে ঠিক করেছিল কিন্তু আমি রাজি না থাকায় বিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার আমার কোনো কথা শোনেনি বরং বিয়েতে আমাকে জোর করা হচ্ছিল। তাই বিয়ে রুখতে আমি পালিয়ে যায় আত্মীয়ের বাড়িতে।’
মেধাবী ওই ছাত্রী অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। তার ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে।
নাবালিকার মা ঝুমা বিবি বলেন, কোথাও ওর বিয়ে ঠিক হয়নি, ও কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মিথ্যে বলছে। দরকারে আমরা ওকে হোমে রাখবো কিন্তু পড়াশোনা করতে দেবো না।’ অন্যদিকে সারফিয়া হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাল্যবিবাহের খবর আমাদের নজরে আসলে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা আটকে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। এর বেশি আমার কিছু জানা নেই।’
পড়াশোনা করতে চেয়ে নিজের বিয়ে ভাঙার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে নজির গড়ল ভগবানগোলা থানার বলরামপুর টুলটুলিপাড়া এলাকার ১৪ বছরের ওই নাবালিকা। এই ঘটনায় বিশিষ্ট মহল রীতিমতো সাধুবাদ জানিয়েছে ওই নাবালিকাকে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct