কত আশা ও কত প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে ছিল এক নতুন ভোরের আশায়। কয়েকদিন ধরে চর্চার ঝলকে ছিল পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন।কর্ণাটক জয়ের পর রাজনৈতিক দলগুলো স্বপ্নে বিভোর ছিল নতুন গোধুলী আকাশের।সকল বিজেপি বিরোধীরা বলতে শুরু করে ছিল এবার শেষ বিজেপি। মিডিয়া ও বুধ ফেরত সমীক্ষা ও তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু হলো না, জনগণের রায় আর একবার বিজেপির সাথে রইল। লিখেছেন ড.মুহাম্মদ ইসমাইল।
কত আশা ও কত প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে ছিল এক নতুন ভোরের আশায়। কয়েকদিন ধরে চর্চার ঝলকে ছিল পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন।কর্ণাটক জয়ের পর রাজনৈতিক দলগুলো স্বপ্নে বিভোর ছিল নতুন গোধুলী আকাশের। সকল বিজেপি বিরোধীরা বলতে শুরু করে ছিল এবার শেষ বিজেপি। মিডিয়া ও বুধ ফেরত সমীক্ষা ও তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু হলো না, জনগণের রায় আর একবার বিজেপির সাথে রইল। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল কে সেমিফাইনাল হিসাবে হিসেবে তকমা দিয়েছিল অনেকে। কিন্তু হাতছাড়া হলো কংগ্রেসের শাসনাধীন রাজ্য।তবে কংগ্রেসের হারানোর মাঝে ও নতুন করে প্রাপ্তি তেলেঙ্গানা। আর মিজোরামের মত ছোটখাটো রাজ্যের ক্ষমতা দখল নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব নেই বললেই চলে। তবে ভারতবর্ষে বিজেপি বিরোধী জনগণ কয়েক দিন যে আশার আলো নিয়ে প্রহর গুনছিলেন তার অবসান হলো। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মোদি ঝড়ের অবসান হবে এমনটাই আশা করেছিল। কিন্তু বারবার পরাজয়ের কারণে হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের কর্মী ও সমর্থকেরা।পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয় রাজনৈতিক গতভাবে মাইলস্টোন রচনা হল তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। শুধু তাই নয়, রাহুল গান্ধীর ভারত জড়ো যাত্রার ফলাফল প্রাথমিক ভাবে প্রশ্নচিহ্নের সম্মুখীন হল। তার সময় অপচয় ও নানা প্রতিশ্রুতি ভারতীয় জনমানসে আঁচড় কাটতে পারেনি তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হল বিভিন্ন মহলে। নিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক জনগণ রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাস্ত করার জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিল ও দেখানো হয়েছিল তা বাস্তবায়িত হলো না এবং অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো। আগামী ২০২৪ সালের নির্বাচন অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ল এবং মোদির সরকার হালে পানি পেল নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে। কর্ণাটক জয়ের পর কংগ্রেসের নতুন আশা ও নতুনভাবে মহাজোট তৈরির প্রস্তুতি ধাক্কা খাবে।বিরোধীরা মনে করেছিল টানা ১০ বছর ধরে কেন্দ্রে একটি সরকার শুধু সাম্প্রদায়িক উসকানি ও মেরুকরণের রাজনীতি করে টিকে আছে তাদের অবসান ঘটবে। তবে কংগ্রেসের ব্যর্থতার পেছনে অনেক কারণ আছে। কংগ্রেসের কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের অহংকার, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক দাবিদাওয়া ও ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে তেমনভাবে গুরুত্ব না দিয়ে একতরফাভাবে বিভিন্ন নির্বাচনে উদ্ধত প্রকাশ করে থাকেন।এছাড়া কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নীতি বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং রাজ্য নেতৃত্বের উপর জোর করে চাপানো হয় নানা সিদ্ধান্ত। তার ফলে ভোটার সংগ্রহকারী নেতাদের জবাবদিহি ও জনগণের কাছে হেনস্তা হতে হয় নানা বিষয় নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে। এছাড়া বর্তমানে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ক্ষমতা দখলের জন্য এতটা অন্ধ হয়ে গিয়েছে, যে তারা যে কোনো দলের সঙ্গে একত্রিত হয়ে আগামী নির্বাচন জয়লাভ করতে চায় কোনো বাচ্য বিচার ও রাজনৈতিক মতাদর্শ ছাড়া। তাই বহু দুর্নীতি পরায়ণ ও পরোক্ষভাবে সাম্প্রদায়িক দলকেও ইন্ডিয়া জোটে শামিল করেছেন।তেমনি ভাবে, বহু সংখ্যালঘু নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি। ফলে একদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থিত দল হিসেবে বিজেপি তকমা পায়। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধী জোটকে হিন্দু বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে তুলে ধরতে সমর্থক হয় বিজেপির নেতা-নেত্রী ও সাধারণ কর্মীরা। তার ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বিজেপির পক্ষে মতামত দেন। এছাড়া ইন্ডিয়া জোটে শামিল বহু রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে জনমানসে। তারা প্রয়োজনে পালটি খেয়ে বিজেপিকে সমর্থন করবে বলে ভোটারদের একাংশ মনে করেন। দুর্নীতিতে ডুবে থাকা দলকে কংগ্রেস ইন্ডিয়া জোটে আশ্রয় দিয়েছে যা অনেকেই বিজেপি থেকে খারাপ সরকার হবে বলে আশা করছেন। তারপরে এনডিএ মত একমত সম্পন্ন ও একই আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধা পাচ্ছে। ভোটের শতাংশ যে ভাবেই বিচার করা হোক না কেন, সরকারে না আসতে পারলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোন গুরুত্ব নেই। ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতিতে নানা প্রকল্প ও সুযোগ সুবিধার জন্য ক্ষমতাসীন দলের ও নেতা-নেত্রীদের দরজায় নাড়া দিতে হয় যা জনগণ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে । তাই চট করে স্রোতের বিরুদ্ধে মতামত দিতে পারছে না। এছাড়া বিজেপি শুধু নয়, সমস্ত রাজনৈতিক দল জাতপাত ও ধর্ম কে কেন্দ্র করে রাজনীতি করছে তা সকলের কাছে পরিষ্কার। লালু,নীতীশ, অখিলেশ, মায়াবতী, মমতা থেকে শুরু করে সকলেই বিভাজনের রাজনীতিতে ভর করে আছে সকলের জ্ঞাত। তাই বর্তমানে বিজেপির নানা জুলুম, অত্যাচার, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, বেসরকারিকরণ, ইতিহাস পরিবর্তন কোন কিছুতেই জনগণ মাথা দিচ্ছেন না। রাজনৈতিক দলের দুর্নীতির কথা মনে করে ধর্মের মোড়কে আটকে পড়ে বিজেপির সাথে রয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ।সকলেই অবগত, রাজনীতি এখন সমাজ ও দেশের সেবা নয়, নিজেদের স্বার্থ ও আখের গোছানোর পালা। তাই ধর্মপ্রাণ ভারতীয়রা বিজেপিকে আঁকড়ে ধরেছে শক্ত করে। তবে সত্যি কথা,আগামী লোকসভা নির্বাচনে যারা ভাবছেন বিজেপিকে পরাস্ত করা যাবে তাদের আর বেশি করে মাঠে ময়দানে নামতে হবে রাজনৈতিক সমীকরণ জানতে। ফেসবুক,হোয়াটসঅ্যাপ,টুইটার বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বসে তর্ক করে ও শীতল ঘরে বসে পোস্ট করে জনমত জানা ও গঠন করা সম্ভবপর নয়। সাধারণ মানুষের মতামত জানতে হলে মাঠে ময়দানে নামতে হবে।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির মত জোটকে মোকাবিলা করার জন্য কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলের কৌশল ও ব্যবস্থাপনা নেই। অন্যদিকে ২০২৪ সালের লোকসভা বৈতরণি পার করার জন্য অযোধ্যার মন্দির উদ্বোধন ও কয়েকটি নতুন ধর্মীয় সুড়সুড়ি যথেষ্ট বিজেপির জন্য। শুধু তাই নয়, আগামী কয়েক বছর বিজেপির সাথে বসবাস করতে হবে আমাদের এবং আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন করতে হলে সকলকে একত্রিত হতে হবে।
লেখক অধ্যাপক, দেওয়ান আব্দুল গণি কলেজ
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct