নাজিম আক্তার, হরিশ্চন্দ্রপুর, আপনজন: মানসিক সমস্যা ছিল আগে থেকেই।স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর সম্পূর্ণ মানসিক ভারসাম্য হয়ে পড়েন মেয়ে।থাকতেন বাবার বাড়িতেই।দিনমজুর পরিবারের অতি কষ্টে মেয়ের চিকিৎসা করাতেন মা। যখন তখন মেয়ে এদিক-ওদিক চলে যেত তাই বেঁধে রাখতেন শেকল দিয়ে। কিন্তু শেকল দিয়ে বাঁধলে মেয়ের কান্না দেখতে পারতেন না মা। তাই খুলে দিয়েছিলেন শেকল। তারপরেই ওষুধের দোকান যাওয়ার কথা বলে হঠাৎই মায়ের অলক্ষে বেরিয়ে পড়ে মেয়ে। সেই যে বেরোনো দশ দিন হয়ে গেলেও নেই কোন খোঁজ।হন্নে হয়ে চারিদিকে খোঁজার পর এবার থানার দারস্থ মা। মেয়ের তো মাথাটা ঠিক নেই ও ঠিক আছে তো প্রশ্ন মায়ের? মেয়েকে খুঁজে পেতে পুলিশের কাছে কাতর আর্জি। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ডুমরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তাজকেরা বিবি। তাজকেরা বিবির মেয়ে রাকেয়া খাতুনের তিন বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। সেই বিচ্ছেদের জেরেই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন রাকেয়া। তাজকেরা বিবির স্বামী দিনমজুর। সংসারে অর্থাভাব।আরো ছেলেমেয়েরাও রয়েছে।তাও কষ্টের মধ্যেই মেয়ের চিকিৎসা করাতেন মা। কিন্তু তাতেও মানসিক সমস্যা খুব একটা দূর হয়নি। অনেক সময় মেয়ে কাউকে না বলে বাড়ির বাইরে চলে যেত।তাই বাধ্য হয়েই ২৫ বছর বয়সী যুবতী মেয়েকেও শেকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হতো।কিন্তু বেঁধে রাখলে আর্তনাদ করতো মেয়ে। মায়ের মন মানতো না। গত মাসের কুড়ি তারিখ মেয়ের শেকল খুলে দিয়েছিল মা। ওষুধ নিতে দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় রাকেয়া। তারপর থেকে আর ফিরে নি বাড়িতে। মা ভেবেছিল হয়তো এদিক-ওদিক গেছে ঠিক চলে আসবে। কিন্তু ১২ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও মেয়ের কোন খোঁজ নেই।চারিদিকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়েছে।তারপর ওই রবিবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাজকেরা বিবি। মেয়ের দুশ্চিন্তায় ব্যাকুল মা। শুধু একটাই প্রশ্ন মেয়ে ঠিক আছে তো? তাজকেরা বিবি জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ায় বাড়িতে আটকে রাখার জন্য শেকল বন্দি করে রাখতাম। কিন্তু খুব চিৎকার করত। কুড়ি তারিখ দুপুর বেলার দিকে শেকল খুলে দিয়েছিলাম। সেই যে বেরোলো আর কোন খোঁজ নেই। ওর তো মাথার ঠিক নেই হয়তো এদিক ওদিক চলে গেছে। পুলিশ যাতে খুঁজে দেয় আমার মেয়েকে এটাই আবেদন করব।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct