সারিউল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ, আপনজন: দেখতে দেখতে এক বছর অতিক্রান্ত। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসের ৩০ তারিখে শুরু হয়েছিল থমকে থাকা নসিপুর-আজিমগঞ্জ রেল সেতুর বাকি অংশের কাজ। এক বছরে কাজ এগিয়েছে দ্রুত গতিতে। কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলাবাসী সহ পূর্ব ভারতের কাছে প্রশ্ন, এখন কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে নসিপুর-আজিমগঞ্জ রেলব্রিজের কাজ? কতদিন লাগবে ট্রেন চলাচলের জন্য?সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ স্টেশন থেকে আজিমগঞ্জ জংশন পর্যন্ত নতুন রেললাইন পাতার কাজ শেষ। চলছে রেললাইন ঝালাইয়ের কাজ। ইতিমধ্যে ব্রিজ রং করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রেললাইনে পাথর ফেলার কাজও শেষ। সিগনাল লাগানোর কাজ চলছে এক্সপ্রেসের গতিতে। এখন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া বাকি রয়েছে। আর হয়তো মাত্র কিছুদিন, তারপরেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে ট্রায়াল রান শুরু হয়ে যাবে। সেতু পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শেষ হলেই নতুন বছরে এই সেতু দিয়ে গড়াতে পারে রেলের চাকা।গত ২৯শে জুলাই পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার অমরপ্রকাশ দ্বিবেদী রেলব্রিজের কাজ সরজমিনে পরিদর্শনে করেন। সেদিন সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই কাজ প্রায় শেষ হয়ে যাবে এবং নতুন বছরেই ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ সেইমতো কিছুটা কাজ বাকি রয়েছে যেটি সম্পন্ন হলেই রেলের ট্রায়াল রান শুরু হবে।
ব্রিজ চালু হলেই পূর্ব ভারতের পর্যটন থেকে বাণিজ্যিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন আসবে। ভারতীয় রেল গড়বে নতুন ইতিহাস।প্রসঙ্গত, ১৮৭২ সালে নলহাটি-আজিমগঞ্জ রেললাইন পাতা হয় এবং সেটি বহরমপুর পর্যন্ত প্রশস্ত করতে আজিমগঞ্জ ও জিয়াগঞ্জের মধ্যবর্তী স্থানে একটি রেলসেতু নির্মাণ করা হয় ব্রিটিশ আমলে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি মালগাড়ি সহ কাঠের রেল সেতুটি ভেঙে পড়ে ভাগীরথী নদীতে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ভাগীরথীর পূর্বপাড়ের সঙ্গে পশ্চিম পাড়ের। পুরনো ব্রিজের ধ্বংসাবশেষের পিলার এখনো পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে জিয়াগঞ্জ শ্মশান ঘাটের পাশেই। ১৯৯৫ সালে প্রাক্তন সেনাকর্তা আব্দুর রউফ খান পুরনো ব্রিজের স্থানে গিয়ে নারকেল দড়ি ও মাছ ধরার তগি দিয়ে ভাগীরথীর গভীরতা মাপতে শুরু করেন। মুর্শিদাবাদ জেলা রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন নামের সংগঠন তৈরি করে চলতে থাকে আন্দোলন-চিঠি প্রদান। অবশেষে ২০০১ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকাকালীন রেল প্রকল্পের প্রস্তাব পাস হয়। ২০০৪ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর রেল সেতুর শিলান্যাস করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব। ২০০৬ সালে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়, ২০১০ সালে কাজ শেষ হয়ে এপ্রিল মাসে উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ভাগীরথীর পশ্চিম পাড়ে আজিমগঞ্জের দিকে চর মহিমাপুর ও মাহিনগর দিয়াড় মৌজায় সাড়ে সাত একর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়, থমকে যায় নসিপুর রেলব্রিজের কাজ। দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অবশেষে ২০২২ সালের ৩০ শে নভেম্বর জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে পুনরায় কাজ শুরু করে ভারতীয় রেল। দেখতে দেখতে কাজ শুরু হওয়ার এক বছর পার। আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা, তারপরেই শুরু হবে নসিপুর আজিমগঞ্জ রেল ব্রিজের উপর দিয়ে ট্রেন চলাচল।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct