সাদ্দাম হোসেন, ধূপগুড়ি, আপনজন: পৌর অফিসে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন সাধারণ মানুষেরা, অভিযোগ পেয়েই সরব হলেন পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের সদস্য প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অরূপ দে। কর্মচারীদের কাজের গাফিলতি ফাঁকিবাজি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই ক্ষুব্ধ পৌর কর্মচারীরা। অরূপ বাবুকে চাপে ফেলতে এবং নিজেদের স্বচ্ছ দেখাতে পৌর কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে পেন ডাউন করলেন পুরসভার কর্মীদের একাংশ। যাকে ঘিরে সরগরম জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি পুরসভা। অভিযোগ, ধূপগুড়ি পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্রীমতি রায় একমাস আগে তার স্বামী দিলীপ রায় প্রয়াত হন। এরপরেই মৃতের পরিবার লিখিত আকারে সমস্ত নথি দিয়ে পৌরসভায় আবেদন জানান মৃত শংসাপত্রের জন্য। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা সেই শংসাপত্র পান না। নানানভাবে তাদের হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন মৃতের পরিবার। নিরুপায় হয়ে পৌরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান তথা প্রশাসক বোর্ডের বর্তমান সদস্য অরূপ বাবুকে গোটা ঘটনা জানান। অভিযোগ পেয়েই সরব হন অরূপ দে। দায়িত্বে থাকা পৌর কর্মচারীকে ডেকে জানতে চান কি কারনে দীর্ঘদিন থেকে ঘুরতে হচ্ছে সামান্য মৃত্যু শংসাপত্রের জন্য। কেন একটা সরকারি দপ্তরে এসে হয়রানির শিকার হতে হবে মানুষকে, এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর থেকেই গন্ডগোলের সূত্রপাত। পৌর কর্মচারীরা অভিযোগ তোলেন যে তাদের সঙ্গে অবভ্য আচরণ করা হয়েছে। আর তার প্রতিবাদে কাজে যোগ না দিয়ে পেন ডাউন কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপার্সন ভারতী বর্মন পৌর কর্মচারী দের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকের পরে কর্মবিরতি তুলে নেন কর্মচারীরা। এই ঘটনা থেকে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে - সরকারি অফিসে এসে কেন হয়রানির শিকার হবেন সাধারণ মানুষ? এই টেবিল থেকে ওই টেবিল, এই দপ্তর থেকে ওই দপ্তরে কেনো ঘোরানো হবে সাধারণ মানুষদের? একটি মৃতের শংসাপত্র পাবার জন্য কেন এতদিন ঘুরতে হবে? সাধারণ মানুষের হয়রানি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কি পৌর কর্মচারীরা পেন ডাউন করতে পারেন? প্রশ্ন তুলছেন অরূপ বাবু।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct