আপনজন ডেস্ক: ইরানের প্রেসিডেন্ট আবারও বিশ্ব নেতাদের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বিশ্বের সব দেশকে ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এক ঘরে করার দাবি জানিয়েছেন। এই উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, কাজাখস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া এবং জর্ডানসহ ৫০ দেশের নেতাদের চিঠি লিখেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২০ নভেম্বর) তিনি রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে এই চিঠি পাঠান। চিঠিতে ইব্রাহিম রাইসি উল্লেখ করেছেন, ‘সরকার (ইসরায়েল) স্বেচ্ছায় তার অপরাধ বন্ধ করবে না। তাই আমাদের এই গণহত্যা বন্ধ করতে বাধ্য করা দরকার। তিনি বলেন, ইসরায়েলি নৃশংসতার অবসান ঘটাতে বিশ্বের দেশগুলোর উচিত তাদের সব উপায় অবলম্বন করা।’ রাইসি ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে পশ্চিমাদের দ্বৈত নীতির কথা তুলে ধরেন বলেন, পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোও মূলত ইসরায়েলি অপরাধে জড়িত।
কারণ তারা অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, “এটি প্রত্যাশিত যে স্বাধীনতাকামী এবং স্বাধীন দেশগুলো, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলো কূটনৈতিক মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করবে এবং ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। যাতে ইসরায়েল ফিলিস্তিনে গণহত্যা এবং হামলা বন্ধ করে।” এই মাসের শুরুর দিকে আরব-ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনে ১০টি তাৎক্ষণিক সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবগুলোর উদ্দেশ্য ছিল, খুব দ্রুত গাজা সংকটের সমাধান করা। শীর্ষ সম্মেলনের সময় প্রেসিডেন্ট রাইসি অংশগ্রহণকারীদের ইসরায়েলের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন এবং এর পণ্য বয়কট করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া ইসলামী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া। অপরাধের বিচারের জন্য তেল আবিব এবং ওয়াশিংটনকে একটি ‘ন্যায্য আদালতে’ দাঁড়া করানোর কথাও বলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপকূলীয় অঞ্চল পুনর্গঠনের জন্য একটি তহবিল গঠন এবং সেখানে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মানবিক কনভয় পাঠানোরও প্রস্তাব দেন।৭ অক্টোবর থেকে গাজায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct