আপনজন ডেস্ক: স্বস্তি পেল রাজধানী দিল্লির ধৌলা কুঁয়া এলাকায় শতবর্ষ পুরনো কাঙাল শাহ মসজিদ, মাদ্রাসা এবং কবরস্থান। দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর দ্বারা গঠিত ধর্মীয় কমিটির আদেশ অনুসরণ করে দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ডিডিএ-র প্রস্তাবিত পদক্ষেপ স্থগিত করেছে। গত ২০ অক্টোবর নগর সরকারের ধর্মীয় কমিটির সভা অনুযায়ী মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশঙ্কা করে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ফুজাইল আহমেদ। সেই মামলায় বৃহস্পতিবার ১০০ বছরের পুরনো শাহী মসজিদ, কবরস্থান এবং ধৌলা কুঁয়ার একটি মাদ্রাসা ভাঙতে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি প্রতীক জালান একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করে দিল্লি সরকারের ধর্মীয় কমিটি, কেন্দ্র এবং ডিডিএ-সহ অন্যান্যদের কাছ থেকে জবাব চেয়েছেন যে মসজিদ এবং পাবলিক কবরস্থান ভেঙে ফেলা হতে পারে। আদালত কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের জবাব দাখিল করতে বলেছে। সেই সঙ্গে বিচারপতি বলেছেন, এই কাঠামোগুলি ১০০ বছরের পুরানো হওয়ায় মামলার পরবর্তী শুনানির দিন অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কাঠামোগুলির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।শুনানির সময় আদালত জানতে চান, অদূর ভবিষ্যতে কোনো কর্মপরিকল্পনা আছে কি না। এই বিষয়ে, ধর্মীয় কমিটি এবং এসডিএম-এর প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাডভোকেট অরুণ পাওয়ার বলেছেন যে জমির মালিকানাধীন সংস্থা ডিডিএ, তাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ মূলত জমিতে কেবল একটি মসজিদ ছিল। কিন্তু মসজিদের পক্ষে আইনজীবী বলেন, সৌধটি ব্যক্তিগত জমিতে হওয়ায় তা ধর্মীয় কমিটির এখতিয়ারের বাইরে। পিটিশনে বলা হয়েছে, মসজিদ কমিটি দিল্লি কর্তৃপক্ষের “স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ”-এ বিরক্ত। কারণ ব্যক্তিগত জমি হিসাবে স্বীকৃত হওয়া সত্ত্বেও ভুলভাবে মসজিদ, দরগা, কবরস্থান ও মাদ্রাসাগুলিকে অননুমোদিত ঘোষণা করেছে। আবেদনকারীকে কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠু শুনানির কোনো সুযোগ দেয়নি। দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডও মসজিদ কমিটির পক্ষ নেয়। মসজিদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ফাজিল আইয়ুবী, পরমবীর সিং, আসলাম আহমেদ, রইস আহমেদ এবং ড. আকানশা।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct