নাজিম আক্তার, হরিশ্চন্দ্রপুর, আপনজন: পুজোর যখন মেতে উঠেছে বাংলা, তখন বাংলায় কাজ করতে এসে চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালের বিছানায় রক্ত ক্ষরণে মৃত্যু হল বিহারের এক মহিলা মাখনা শ্রমিকের। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে।ডাক্তার বাবুদের সঠিক পরিসেবা না পাওয়ার কারণে মারা যান ওই গৃহবধূ বলে অভিযোগ পরিবারের।বাড়ি কিভাবে নিয়ে যাবেন এই চিন্তায় পড়েছিলেন ওই গৃহবধূর পরিবার।তাই সরকারি সাহায্যের আশায় সকাল থেকে মৃত বৌমার দেহ আগলে বসে ছিলেন বৃদ্ধা শ্বাশুড়ি।রাজ্যের এই বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা সুর চড়িয়েছেন।জানা গিয়েছে,মৃত ওই মহিলা শ্রমিকের নাম বিনীতা দেবি(৩০)।বাড়ি বিহার রাজ্যের দ্বারভাঙ্গা জেলার হাটি মোহনপুর এলাকায়।স্বামী ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছে।গত তিন মাস আগে দুই নাবালিকা সন্তানকে নিয়ে বৃদ্ধা শ্বাশুড়ির সঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুরে মাখনার এক ফড়িতে খই ফোটানোর কাজ করতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে পেটের ব্যাথা নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হন। অভিযোগ,ডাক্তার বাবুদের সঠিক পরিসেবা না পাওয়ার কারণে মুখে রক্ত উঠে বিনীতা দেবি মারা যান।এই ব্যাপারে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালের বি.এম.ও.এইচ এ.কে মন্ডলের সঙ্গে আমাদের সংবাদ প্রতিনিধি ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে বাইরে রয়েছি বলে ফোন কেটে দেন।মৃত বিনীতা দেবির শ্বাশুড়ি জানান,বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে বৌমাকে ভর্তি করান।ভর্তি করানোর সময় ডাক্তার বাবুরা শুধু একটি স্যালাইনের
বোতল ঝুলিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর আর কোনো খোঁজ নেননি। হাসপাতালে ভর্তি করানোর একদিন পর মুখে রক্ত উঠে হাসপাতালের বিছানায় মারা গেলেন।গত তিন বছর ধরে তার বৌমা টিবি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এর পূর্বে কোনোদিন মুখে রক্ত উঠেনি। অপরদিকে দেখা যাচ্ছে হাসপাতালের ডাক্তার বাবুরা হাসপাতালের ভিতরে রোগীদের ঠিকমতো পরিসেবা না দিয়ে হাসপাতালের বাইরে সরকারি কোয়ার্টারে ব্যক্তিগত চেম্বার খুলে টাকার বিনিময়ে শতশত রোগী দেখছেন।অথচ চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালে মারা গেলেন এক রোগী। এরজন্য দায়ী কে? উঠছে প্রশ্ন। হাসপাতালের অন্য এক রোগীর আত্মীয় খুশি দাস বলেন ‘হাসপাতালে ঠিক সময়ে চিকিৎসকদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। যখন ওই মহিলার মুখ দিয়ে রক্ত উঠে তখন আমি দৌড়ে এমার্জেন্সিতে ডাক্তার বাবুদের কে ডাকতে যায়।সেখানে কোন ডাক্তারবাবুর দেখা পাওয়া যায়নি।সিপিআইএম নেতা শেখ খলিলের অভিযোগ,রাজ্যের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনা সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলরাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা।প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক মোস্তাক আলমের বলেন ‘এই ঘটনা খুব নিন্দনীয়।এই সরকারের আমলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে।বিহারের মানুষের আমাদের রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে খুব খারাপ ধারণা হলো।সরকার কোন রকম পরিষেবা দিতে পারছে না।’
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct