সাদ্দাম হোসেন, জলপাইগুড়ি, আপনজন: মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধূপগুড়ি মহাকুমা পাস হতেই উৎসবের মেজাজে ধূপগুড়িতে। কথা দিয়ে কথা রাখল তৃণমূল, গতকাল ধূপগুড়িকে মহকুমা ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহাকুমা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি পাস হয়েছে যা ভার্চুয়ালি পূজা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঘোষনা করেন মূখ্যমন্ত্রী। তাই আবীর খেলায় মাতলেন শহর বাসী থেকে তৃণমূল কর্মীরা। মিষ্টি বিলি ,লাড্ডু বিতরণের পাশাপাশি গোলাপ ফুল তুলে দেওয়া হলো পথ চলতি মানুষের হাতে।ধূপগুড়ি বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারে এসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ধূপগুড়িবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ধূপগুড়িবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে চলতি বছরই ধূপগুড়ি মহকুমায় উন্নীত হবে। সেই ঘটনার ছয় সপ্তাহেরও কম সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস তার প্রতিশ্রুতি পালন করল। সেই খুশিতে আজ ধূপগুড়ি শহরে তৃণমূল নেতৃত্ব ও কর্মীরা উৎসবে মেতে উঠলেন। ঢাক বাজিয়ে নাচ, পথ চলতি মানুষকে লাড্ডু ও গোলাপ ফুল বিলি করে।
পাশাপাশি ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চের দাবি তারাই প্রথম এই মহাকুমার দাবি তোলেন এবং গত দশ বছর থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল যার ফলেই আজ ধূপগুড়ি মহকুমাতে পরিণত হলো, তবে এখনই তারা কোন সেলিব্রেশন করবেন না যতদিন না গেজেট নোটিফিকেশনের কাগজ হাতে পাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের দাবি শুধু মহকুমা ঘোষণা করলেই হবে না পরিকাঠামো ঠিকঠাক তৈরি করতে হবে, পাশাপাশি ধূপগুড়ি স্বাস্থ্য পরিসেবার উন্নত করতে হবে। কারন বর্তমানে সামন্য কিছু হলেই পেশেন্টকে রেফার করা হয় জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে। ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মী ও চিকিৎসক। যার কারনে সঠিক পরিষেবা পাচ্ছেন না ধূপগুড়ি এবং বানারহাট ব্লকের মানুষ।ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের উপরে নির্ভরশীল ২৭টি চা বাগান, ৮টি বনবস্তি, ১৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং একটি পুরসভার বাসিন্দা।ধূপগুড়ি পৌরসভার প্রশাসক বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস কথা দিলে কথা রাখে। উপনির্বাচনের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে গিয়েছিলেন ধূপগুড়ি মহাকুমা করা হবে। সেই কথামতো নির্বাচনের পরেই ঘোষণা হয় এবং বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা পাশ হয়েছে। এখন গেজেট নোটিফিকেশন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাই খুশিতে আজ ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা আবীর খেলায় মেতে ছিলেন। লাড্ডু ও গোলাপ ফুল বিতরণ করেছি সাধারণ মানুষের মধ্যে।ধূপগুড়ির বাসিন্দা সুমনা দাস বলেন, আমরা দারুণ খুশি ধূপগুড়িকে মহাকুমা ঘোষণা করা হয়েছে। তাই আমাদের আনন্দটাকে সাধারণ মানুষের সাথে ভাগ করে নিলাম। পথ চলতি মানুষকে মিষ্টিমুখ করিয়েছি, আবির খেলেছি নিজেরা। তবে মহকুমা ঘোষনা হয়েছে যেমন তেমনি ধূপগুড়ি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা আশা করছি এই মহকুমার সাথে হাসপাতালে পরিকাঠামো উন্নত হবে এবং চিকিৎসার জন্য মানুষকে আর জলপাইগুড়ি ছুটে যেতে হবে না।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct