সাদ্দাম হোসেন, জলপাইগুড়ি, আপনজন: আপনি কি জানেন রাতারাতি বদলে যাচ্ছে জমির মালিকানা! এমনকি এটাও হতে পারে যে আপনার যেই বাড়িটিতে আপনি ঘুমোচ্ছেন সকালে উঠে দেখলেন সেই বাড়িটাই আপনার নয়। কি অবাক হচ্ছেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে এমনই ঘটনা ঘটেছে। ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমাড়ী ২নং অঞ্চলের বাসিন্দা নীলারানি রায়, বীরেন্দ্র নাথ রায়, সুরেন্দ্র নাথ রায়, চিলেশ্বরী রায় ও গোপাল রায়ের ২০ ডেসিমল জায়গা রয়েছে ধূপগুড়ির মাগুরমারী দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জলঢাকা সংলগ্ন এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ নং সড়কের পাশে । সেই জমি তাদের অজান্তেই অন্য এলাকার দলিলের সাহায্যে কেটে বাদ দিয়ে অন্য একজনের নামে রেকর্ড করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর এই ঘটনা নিয়েই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বারবার বিএলআরও অফিসে ঘুরেও মিলছে না ন্যায় বিচার তাই বাধ্য হয়ে ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তারপরেও হয়নি সুরাহা। তাই এবার বাধ্য হয়ে সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ অসহায় পরিবার।
অভিযোগ ধূপগুড়ি বিএলআরও অফিসের দালালদের হাত ধরে বীরেন্দ্রনাথ রায়দের জমি মেঘা রায়দের নামে করে দেওয়া হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে বদল হচ্ছে একজনের জমি আরেকজনের নামে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য আপনজন পত্রিকার হাতে। অভিযোগ ২০১৭ সালে জমির আসল মালিক চন্দ্রনাথ রায় দের বিএলআরও দপ্তরের তরফে নোটিশ করা হয় তাদের খতিয়ান থেকে জমি কাটা হবে অর্থাৎ বাদ দেওয়া হবে। সেই নোটিশ পাওয়া মাত্রই উনারা ছুটে আসেন ধূপগুড়ি ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক এর দপ্তরে। লিখিত আকারে অভিযোগ জানান যে কোনোভাবেই তাদের জমি কাটা যাবে না। কারণ জমির বৈধ কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। এরপর ভূমি রাজস্ব দপ্তর তাদের আশ্বস্ত করলে তারা বাড়ি ফিরে যায়। এই পর্যন্ত সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। তবে ঘটনা প্রকাশ্যে আছে ২০১৯ সালে, যখন বীরেন্দ্রনাথ রায়ের পরিবারের লোকেরা প্রয়োজনের তাগিদে অনলাইনে নিজেদের জমির তথ্য দেখছিলেন ঠিক সেই সময় নজরে আসে নিজেদের নামে আর রেকর্ড নেই জমি। এরপর আবারও ছুটে আসেন ধূপগুড়ি বিএলআরও অফিসে সেখান থেকে পাঠানো হয় জমি রেজিস্ট্রি অফিসে। কখনো এই অফিস কখনো ওই অফিস এই ভাবেই তাদেরকে ঘোরানো হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ জানান তারা। তারপরেও মেলেনি জমি ফেরত। পদক্ষেপ নেয়নি বিএলএলআর অফিস। তাই ন্যায় বিচারের আশায় সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরলেন তাদের সমস্যার কথা ও প্রতারণার কথা। ধূপগুড়ি ব্লকেরই অপর আরেক অঞ্চল সাকোয়াঝোড়া ২নং অঞ্চলের নিত্যলাল দাসের দলিল দিয়ে মাগুরমাড়ী ২নং অঞ্চলের মেঘা রায় জাল দলিলের সাহায্যে দানপত্র করে দেয় প্রদীপ রায় ও ফনীন্দ্রনাথ রায়ের নামে, বর্তমানে যাদের নামে সরকারি রেকর্ড করা হয়েছে। জমির খতিয়ান নম্বর - ১৪৩, ১৭৯, ৪৪৩ ও ৬১৪. LR নম্বর - ৩৫০১. RS - 2211 আর JL - 77. জমির আসল ওয়ারিশদের হাতে বৈধ দলিল থাকলেও সরকারি ওয়েবসাইটে অর্থাৎ রেকর্ডে আলাদা মানুষের নামে। আর এতেই তৈরী হয়েছে ঝামেলা। যার জমি তিনি টের পেলেন কোর্টের নোটিশে। তিনি জানতেন ও না যে রাতারাতি তার জমির মালিকানা অন্য কারও নামে হয়েছে। কিন্তু এর পেছনে কার হাত? জমির মালিক অভিযোগ করেন, মোটা টাকার বিনিময়ে কিছু অসাধু দালাল একজনের জমি আরেকজনের নামে রেকর্ড করে দিচ্ছে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকদের মদতে। বিএলআরও অফিসে গেলে বলেন দেখছি, দেখবো কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও কোনো হেলদোল নেই।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct