আব্দুস সামাদ মন্ডল, হুগলি, আপনজন: সংসদ অধিবেশনে চন্দ্রযান -৩ নিয়ে আলোচনা বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুড়ি বহুজন সমাজপার্টির সাংসদ দানিশ আলির উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। তাকে কাটুয়া, মোল্লা, মন্ত্রী বলে অভিহিত করায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও ওই বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরব হলেন। নওশাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি বেশ কয়েক বছর যাবত ভারতে ‘ঘৃণার ভাষণ’ বাড়ছে। এই ঘৃণার ভাষণ মূলত মুসলিম, দলিত, আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি করা হয়। লাইভ সম্প্রচারে দেখা গেল, সেটা এখন সংসদ চত্বরেও প্রবেশ করেছে। চন্দ্রযান ৩ মিশন নিয়ে আলোচনা চলাকালীন দক্ষিণ দিল্লির বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরি তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করে দিয়েছেন সংখ্যালঘু মুসলিমদের প্রতি সঙ্ঘ পরিবারের কুৎসিত মনোভাব। বিজেপি সাংসদ বিধুড়ি দানিশ আলি সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা অসংসদীয় ও ঘৃণ্য বলে সমালোচনায় মুখর হন নওশাদ। নওশাদ আরও বলেন, এটাও চোখে পড়ল পাশে বসে বিজেপি’র প্রবীণ নেতা হর্ষ বর্ধন ও রবিশঙ্কর প্রসাদ নির্লজ্জের মতন হাসছেন। আমি মনে করি রমেশ বিধুড়ির দ্রুত সাংসদ পদ খারিজ করা হোক এবং তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হোক। তিনি আরো বলেন, আমি আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি বিজেপি সাংসদের কটু মন্তব্যগুলি সংসদের রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখনও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, না সংসদ থেকে, না তার দলের তরফে। যদিও ঘটনাটি প্রিভিলেজ কমিটিতে পাঠানোর জন্য দানিশ আলি সহ বিরোধী সাংসদরা স্পিকারকে অনুরোধ করেছেন। নওশাদের ধারণা, বিজেপি’র কাছে এটা আশাও করা যায় না যে তারা দলীয় স্তরে রমেশ বিধুড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। একটা নামকাওয়াস্তে কারণ দর্শানোর নোটিস তারা যদিও এই সাংসদকে দিয়েছে। কিন্তু সেটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিজেপিও দলীয়ভাবে এই সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এবং সংসদে তার পদ খারিজের প্রস্তাবে সহমত জানাক বলে দাবি জানা নওশাদ। নওশাদের অভিযোগ,সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার চাষ করে, বিভেদের জাল বুনেই বিজেপি শাসন ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। প্রয়োজনে আমরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করব।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct