নায়ীমুল হক : রাজ্যের প্রান্তিক অঞ্চল হুগলি জেলার বেগমপুরে ছাত্র-ছাত্রীদের সুখ দুঃখের ভাগিদার হয়ে সুদীর্ঘ কুড়ি বছর পাশে ছিলেন যিনি, তিনি আর কেউ নন, বেগমপুর হাই স্কুলের সদ্য প্রাক্তন হওয়া প্রধান শিক্ষক অলোক কুমার মিত্র। তিনি যে ছাত্র-ছাত্রীদের কত আপন হয়ে উঠেছিলেন তা দেখতে পাওয়া গেল প্রধান শিক্ষকের অবসর গ্রহণ উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিচালিত বিদায় সম্ভাষণ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠান যেন শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের নয়, তার পরিধি বিস্তৃত হয়েছিল মানুষের ঘরে ঘরে। দুই-তিন প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা সজল নয়নে উপস্থিত হয়েছিল বিদ্যালয়ে তাদের প্রিয় শিক্ষকের আশীর্বাদ নিতে। আর তাঁর চেয়ারে দেখতে পাওয়া যাবে না, নিয়মের সুতোয় বিদায় জানাতেই হবে তাদের প্রিয় প্রধান শিক্ষককে। ১০৩ বছর বয়স্ক প্রতিবেশী মানুষটিও বসে থাকতে পারেন নি বাড়িতে । নাতনির হাত ধরে তিনিও উপস্থিত হলেন এই মহতী সভায়। একজন আদর্শ শিক্ষক যে ইট- কাঠ- পাথরের স্কুলের দেওয়ালের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়ে নিজ অবস্থান করে নিতে পারেন, আজও যে শিক্ষক- ছাত্র-অভিভাবক একটি সমবাহু ত্রিভুজ গঠন করে, তা এই সভায় উপস্থিত না থাকলে হয়তো বুঝতে অসুবিধা হ'ত।
অনেক বাধা পেরিয়ে, অনেক দুর্গমতাকে অতিক্রম করে আপন মহিমায় তিনি প্রত্যন্ত গ্রামের একটি স্কুলকে বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় সামিল করেছেন। নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক, এন সি সি -- কী ব্যবস্থা নেই এই স্কুলে!
পাঠভবন ডানকুনির প্রধান শিক্ষক ড. দেবব্রত মুখোপাধ্যায় ছিলেন এই অনুষ্ঠানের অন্যতম মুখ্য অতিথি। বন্ধুবর প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে ধরে আসে তাঁরও গলা, বলে ওঠেন,
তবুও যেতে দিতে হয়, হয়তো মন বলে "যেতে দিতে ইচ্ছে নাহি। "
অলোক স্যার, আপনি শিক্ষক সমাজের গর্ব, মানুষের মরমি মনের "দীনের দয়াল, কাঙালের ঠাকুর, ভক্তের ভগবান "। আপনি সত্যিই ফ্রেন্ড - ফিলোসফার- গাইড।
বলতে হয় না কাউকে, ঈশ্বরের নিকট হাত উঠে যায় উপস্থিত সকলের। তাদের প্রার্থনা, অবসর জীবন সুন্দর ও মঙ্গলময় হোক আমাদের প্রিয় হেড স্যারের, এটাই সকলের মানস কামনা। ছাত্র ছাত্রী দের মন থেকে আপনার অবসর কোনোদিনই সম্ভব নয়।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct