সঞ্জীব মল্লিক, বাঁকুড়া, আপনজন: চাঁদা দেওয়ার বিরোধিতা করায় তৃণমূল অঞ্চল কার্যালয়ে ডেকে ব্যবসায়ী বাবার সামনে মানসিক অসুস্থ ছেলেকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল্ যদিও মারধর ও চাঁদা তোলার অভিযোগ অস্বীকার স্থানীয় অঞ্চল সভাপতির। ঘটনাটি ঘটেছে তালডাংরা ব্লকের বিবড়দা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে। অভিযোগ বিবড়দা বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাজ থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছিল প্রতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪০০-৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপরই সেই দাবি মতো স্থানীয় ব্যবসায়ী সুবীর কুমার মন্ডল ৪০০ টাকা দেয় আদায়কারীদের, পরবর্তী সময়ে তার ছেলে শুভঙ্কর মন্ডল এই চাঁদা দেওয়ার বিরোধিতা করেন। দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পর বিষয়টি আরো উঠে এলে সোমবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বিবড়দা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে ব্যবসায়ী সুবীর কুমার মন্ডল ও তার ছেলে শুভঙ্কর মণ্ডলকে ডেকে পাঠানো হয়। এরপরই কার্যালয়ে শুরু হয় একে অপরের বাকযুদ্ধ এবং উত্তেজিত হয়ে স্থানীয় ওই ব্যবসায়ীর ছেলে বিবড়দা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রবীর ঘোষের উপর চড়াও হয়। তৎক্ষণাৎ তৃণমূল কার্যালয়ে উপস্থিত সমর্থকরা এলোপাথাড়ি মারধর করে শুভঙ্কর মন্ডলকে বলে দাবি তার বাবার। ঘটনাস্থল থেকে তালডাংরা থানার পুলিশ উপস্থিত হয়ে আহত যুবককে তালডাংরা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে স্থানান্তর করা হয় বাঁকুড়ার সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে ছেলে বাড়ি ফিরে এলেও প্রচুর আতঙ্কিত দাবী ঐ ব্যবসায়ী সুবীর কুমার মন্ডলের।সুবীর কুমার মন্ডল এর দাবি তিনি সিমলাপাল থানার কড়াকানালি এলাকার বাসিন্দা। তালডাংরা ব্লকের বিবড়দা বাজার এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে একটি প্যাথলজি ল্যাব রয়েছে। সেই ল্যাবে চাঁদা আদায় করার ঘটনায় তার ছেলেকে মারধর বলে।
অন্যদিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিবড়দা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রবীর কুমার ঘোষ জানান গত দুদিন আগে এলাকার ব্যবসায়ি কে রাতে ফোন করে প্রচন্ড ডিস্টার্ব করছিল সুবীর কুমার মন্ডলের ছেলে শুভঙ্কর মন্ডল। তাই তাকে তৃণমূল কার্যালয়ে ডেকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল, কেন সে এমন করছিল। সেই সময়ে অতর্কিত সুবীরবাবুর ছেলে আমার উপর আক্রমণ করে এবং মাটিতে পড়ে যায়। তার উপর কোন আক্রমণ হয়নি এমনকি বিপর্যয় এলাকায় কোনরকম তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনদিনই চাঁদা তোলা হয়নি। এলাকার ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞেস করলে এটা প্রমাণ পাওয়া যাবে সমস্ত অভিযোগটাই ভিত্তিহীন।তবে এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য মধুময় প্রামানিক জানান একুশে জুলাই এর আগে কিছু ব্যবসায়ীকে সামনে রেখে তৃণমূল বিবর্ধা এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছিল। তার বিরোধিতা করায় সোমবার রাতে বিবরদা তৃণমূল পার্টি অফিসে ডেকে বেধরক মারধর করা হয় বাবা ও ছেলেকে ছেলে গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে তালডাংরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় পরে তাকে স্থানান্তর করা হয় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পাশাপাশি তিনি আরো জানান বিবড়দা এলাকায় একটি ব্যবসায়ীও শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছে না এই চাঁদা আদায়ের জন্য।সমস্ত বিষয়টি শোনার পর মারধরের ঘটনার কথা তার জানা নেই এবং একুশে জুলাই এর শহীদ দের প্রতি যে শ্রদ্ধা জানার অনুষ্ঠানে কলকাতায় যাওয়া হয় তার জন্য দলীয়কর্মীরাই পয়সা দিয়ে যায়। কোন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়নি কোনো স্পষ্ট জানালেন তালগ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তারাশঙ্কর রায়।এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী বুলবুল ঘোষ জানান এগুলো জোরপূর্বক চাঁদা নয় দলকে সাহায্য করা। গতকালের ঘটনা ওই ব্যবসায়ী ছেলে যেভাবে স্থানীয় অঞ্চল সভাপতি কে চড় মেরেছিল অন্য কেউ হল দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct