জাহির আক্রম বরা, আইজল, নাজিম আক্তার, রতুয়া, দেবাশীষ পাল, মালদা, আপনজন: মিজোরামের উদ্ধার কর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মিজোরামের সাইরাংয়ে রেলসেতু গার্ডার ধসের স্থান থেকে আরও চার শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজন শ্রমিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নিখোঁজ একটি মৃতদেহের সন্ধান এখনও চলছে, মিজোরাম পুলিশ ক্যানাইন ইউনিটের কুকুরগুলি তাদের খুঁজে পেতে সহায়তা করছে। দুর্ঘটনায় আহত তিন শ্রমিককে আইজলের দুর্তলাং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, সেতুটি ধসে পড়ার সময় ২৬ জন কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি ও ভারতীয় রেল এটি তদন্তের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। বুধবার সকালে বৈরাবি ও সাইরাং রেলস্টেশনের মধ্যে কুরুং নদীর ওপর ১৯৬ নং রেলসেতুটি ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি এবং ভারতীয় রেল এটি তদন্তের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। আইজলের পুলিশ সুপার রেক্স জারজোলিয়ানা ভানচাওং জানিয়েছেন, ২৩জন শ্রমিকের মৃত্যু হলেও পুলিশ ২২টি লাশের ময়নাতদন্ত শুরু করেছে। একজনের দেহ এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। তার খোঁজ চালানো হচ্ছে। মৃতদেহগুলি পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের কাছে স্থানান্তরিত করা হবে। অন্যদিকে, সেতু ভেঙে পড়ার খবর শুনে চৌদুয়া গ্রামের বাসিন্দারা নির্বাক হয়ে পড়েন। পরিযায়ী শ্রমিকদের অধ্যুষিত এই গ্রামের বাসিন্দা শেখ মতিউর বলেন, নিহতদের পরিবারের নারী ও শিশুদের কীভাবে সান্ত্বনা দেব জানি না। আমরা কল্পনাও করতে পারি না ভবিষ্যতে তারা কীভাবে বাঁচবে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য।
গ্রামবাসীদের অধিকাংশই খড়ের ছাদ সহ মাটির কুঁড়েঘরে বাস করেন এবং ভূমিহীন পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারগুলি উদ্বেগের সাথে অপেক্ষা করে যে তাদের প্রিয়জনরা অন্য রাজ্য থেকে ফিরে আসবে। মহম্মদ আরিফ নামে আরেক গ্রামবাসী বলেন, মিজোরামে যাওয়া এই সমস্ত শ্রমিকরা ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকার মধ্যে উপার্জন করছিলেন। বাংলায় শ্রম দিয়ে এত টাকা উপার্জন করা সম্ভব নয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনার একদিন পর বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান সরকারের অধীনে রেলওয়ের পারফরম্যান্সের জন্য কেন্দ্রের সমালোচনা করেন এবং নিহতদের পরিবারকে চাকরির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। মিজোরামে দুর্ঘটনায়, মৃত মালদার ২৪জন পরিযায়ী শ্রমিকের অসহায় পরিবারবর্গকে দুলক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। মিজোরামে। নির্মীয়মান রেল সেতু ভেঙে মালদার ২৪জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর মেলে। এরমধ্যে ১৬জনই রয়েছে রতুয়া-২নং ব্লকের। রতুয়া-২নং ব্লকের ১৬জন মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের মধ্যে শুধুমাত্র পুখুরিয়ার চৌদুয়ার গ্রামেই রয়েছেন ১৪জন। বৃহস্পতিবার সকালেনিহতদের পরিবারের বাড়িতে ছুটে যান রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, সাংসদ সামিরুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া, বিধায়ক সমর মুখার্জি, আব্দুর রহিম বক্সী প্রমুখ। তারা মৃতদের পরিবারবর্গের সঙ্গে দেখা করে তাদের সব ধরনের সরকারি সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি বলেন, করোনার সময় বহু শ্রমিক ভিন্ন রাজ্যে ছিল। এই রাজ্যে অর্থ কম, কাজ নেই। তাই শ্রমিকরা ভিন্ন রাজ্যে যাচ্ছে বলে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন অধীর।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct