আপনজন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়া চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়লেও তৃণমূল ও কংগ্রেস ‘ইন্ডিয়া’ জোটে কিন্তু অন্য সুর গাইতে চলেছে। বিদ্যমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও তৃণমূল, কংগ্রেস সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যান্য শরিকরা বিজেপিকে সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করার জন্য আসন্ন মুম্বাই বৈঠকে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদী। আগামী ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্সের (ইন্ডিয়া) তৃতীয় সম্মেলন।বর্তমান প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি দল- তৃণমূল, সিপিআই (এম) এবং কংগ্রেস স্বীকার করেছে যে কোনও পরিকাঠামো ছাড়া, নির্বাচনী সমন্বয়ের যে কোনও প্রচেষ্টা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। বিশেষ করে যখন বিজেপির বিরুদ্ধে ১:১ লড়াইয়ের জন্য তৃণমূলের প্রবণতা থাকলেও রাজ্যে বর্তমান বাম-কংগ্রেস জোটের বিপরীত অবস্থান সমস্যার মুখে ফেলতে পারে।এ বিষয়ে তৃণমূলের প্রবীণ সাঙসদ সৌগত রায সংসাবদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, যেসব রাজ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেখানেও ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করার জন্য কিছু কাঠামো তৈরি হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এবং কোনও নীতির অভাবে বাংলায় কংগ্রেস এবং সিপিআই (এম) এর সাথে কোনও ধরনের জোট করা অসম্ভব।’২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কথা উল্লেখ করে সৌগত রায় জোর দিয়ে বলেন, ‘কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা থাকলেও সিপিআই (এম)-এর সঙ্গে যে কোনও সমঝোতা একেবারেই হবে না। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য দীপা দাসমুন্সি বলেছেন, তিনি আশাবাদী যে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের জন্য একটি খসড়া কাঠামো মুম্বাই বৈঠকে উঠে আসবে।তিনি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘জাতিকে রক্ষার বৃহত্তর ও বৃহত্তর লক্ষ্যে আমরা সবাই জাতীয় পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে, দিল্লিতে এবং পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির সঙ্গে বেশ কিছু দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে ১:১ লড়াইয়ের জন্য কিছু কাঠামো তৈরি করা হবে।।
১:১ লড়াইয়ের ফর্মুলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দাসমুন্সি বলেন, গতবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যে ১৮টি লোকসভা আসন জিতেছিল, সেখানে ‘আই.এন.ডি.আই.আই.এ’ জোটের জন্য পরীক্ষা হতে পারে। কারণ, বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।সিপিআই (এম) নেতা হান্নান মোল্লা বলেন, জোটের বিভিন্ন দলের মধ্যে রাজ্যগুলির মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বিবেচনা করে বিজেপিকে প্রতিহত করার কৌশল তৈরি করা হবে।তিনি বলেন, ‘বিজেপি জানাতে চায় যে এই ইন্ডিয়া জোট বিভক্ত । কেরল, ত্রিপুরা, পশ্চিমবাংলা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় রাজনৈতিক সমীকরণ একই রকম নয়। কিন্তু বিজেপিকে পরাজিত করার নীতি এই দ্বন্দ্বগুলি মাথায় রেখেই উত্থাপিত হবে।এ রাজ্য থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ২৩টি লোকসভার সাংসদ রয়েছেন, কংগ্রেসের দুজন সাংসদ রয়েছেন। কিন্তু সিপিআইএমের একটিও আসন নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটও কোনও আসন জিততে ব্যর্থ হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস টানা তৃতীয় জয় লাভ করেছিল। আর বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠেছিল।সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলায় বিজেপির সংঙ্গে জোট বদ্ধ হওয়ার অভিযোগ এনে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “সিপিআই (এম) এবং কংগ্রেসের ভূমিকা দুর্ভাগ্যজনক এবং বিরোধী ঐক্যের জন্য ক্ষতিকারক। সিপিআই (এম) রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরো মহম্মদ সেলিম বলেন, কেন্দ্রে বিজেপিকে কীভাবে মোকাবেলা করা যায় সে সম্পর্কে ইন্ডিয়া জোট ভাবলেও নির্বাচনী সমন্বয় নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ভবিষ্যতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও সমঝোতার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।, তিনি বলেন, মুম্বাই বৈঠক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct