আপনজন ডেস্ক: হরিয়ানার নুহ জেলায় বজরং দলের এক ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সহিংসতা দ্রুত গুরুগ্রাম সহ রাজ্যের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে গেরুয়াপন্থী জনতা একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গুলি চালায় বলে অভিযোগ। খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় মসজিদের ইমাম মাওলানা সাদ নিহত হয়েছেন এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গুরুসেবক ও নীরজ নামে দুই হোমগার্ড এবং অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি রয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ডাকা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলের কাছেই একটি মন্দিরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ নারী-পুরুষ ও শিশু আশ্রয় নিয়েছে। গুরুগ্রামে ইন্টারনেটের সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় বড় ধরনের যেকোনো জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গুরুগ্রাম–সংলগ্ন নুহ এলাকায় একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা চলাকালে সহিংসতা শুরু হয়। ব্রিজ মন্ডল জালাভিষেক যাত্রা নামে এ শোভাযাত্রা বের করেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। শোভাযাত্রাটি গুরুগ্রাম–আলওয়ার জাতীয় মহাসড়কে উঠলে একদল তরুণ শোভাযাত্রা থামিয়ে দিয়ে পাথর ছুড়তে শুরু করেন। সহিংসতার মাত্রা বাড়তে শুরু করলে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বেশ কয়েকটি গাড়ি উন্মত্ত জনতার রোষের মুখে পড়ে। এ শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসা প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ মহাদেব মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের উদ্ধার করতে পুলিশ সেখানে পৌঁছেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজস্থানের ভরতপুরে গরু চোরাচালানের সন্দেহে দুই মুসলিম যুবককে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন বজরং দলের সদস্য মনু মানসার কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওতে দাবি করেছিলেন যে তিনি এবং তার দল এই শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন। মনু হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা নুহ সফরের বিরোধিতা করে বলেছিল যে এটি এই অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করবে। অনেকেই দাবি করেন, যাত্রার সময় তাদের সেখানে দেখা গেছে। আর তাতে স্থানীয়রা আপত্তি জাননোকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সমাজ কর্মী যোগেন্দ্র যাদব এক প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন, নুহ-এ ‘দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ’ বহুপ্রতীক্ষিত দাঙ্গা, যা বিজেপি এ অঞ্চলে তৈরি করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘শোভা যাত্রা’ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টির জন্য করা হয়েছিল। আর যখন সহিংসতা শুরু হয়, পুলিশ প্রশাসন অদৃশ্য হয়ে যায়। যদিও সোমবার রাতে পুলিশের পক্ষে শান্তি বৈঠক ডাকা হয়।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct