উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পলাশীর প্রান্তর চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতার দাস্তান। ২৬৬ বছর পূর্বে, নবাবের প্রায় ৫০ হাজার সেনাবাহিনীর বিপরীতে ক্লাইভের মাত্র ৩ হাজার সৈন্য নিয়ে অসম লড়াই এবং জয়লাভ ইতিহাসের পাতায় কৃতঘ্নতার অটুট বুননের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সেই ঐতিহাসিক পলাশী দিবস দিনকয়েক আগে নীরবে পেরিয়ে গেল। স্মৃতির সারণী বেয়ে ইতিহাসের ঝুল বারান্দায় উঁকি দিলেন ওহিদ রেহমান...
‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্র’ পরিভাষার চর্চা বিশ্বজুড়ে। যেখানে রাজা-রাজরাদের রাজসিক বৈভবশালী প্রাসাদ, সেখানেই স্বভাবজাত অনুসঙ্গ হয়ে ছলে বলে কৌশলে কড়া নেড়েছে শয়ে শয়ে ষড়যন্ত্র। আসলে, রাজতন্ত্রে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে প্রাসাদ। তাই তো, সিংহাসনের মোহে কখনো পিতা পুত্রকে আবার কখনো পুত্র পিতাকে ক্ষমতাচ্যুত এমনকি হত্যা করতেও দ্বিধা করেননি। গ্রীক পৌরানিক গাঁথা থেকে আমরা জানতে পারি, জিউস (আকাশ এবং বজ্রের দেবতা) দেবতাদের রাজা হয়েছিলেন তার পিতা ক্রোনাসকে হত্যা করে। আর ক্রোনাস ঠিক একইভাবে তার পিতা ইউরেনাসকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেবকুলের কুলপতি হয়েছিলেন। দেবকুল ছাড়িয়ে মানুষের সভ্য সমাজেও ষড়যন্ত্রনামা যথাবিহিত ফ্রন্টফুটে বুকচিতিয়ে খেলেছে এবং খেলছে। রোমান সম্রাট বীর সিজার বলি হয়েছিলেন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের। তিনি নিহত হন তার অন্তরঙ্গ আস্থাভাজন বন্ধু ব্রুটাসের হাতে। অন্যদিকে, তুর্কি সাম্রাজ্যের দৌড়দন্ডপ্রতাপ বাদশাহ সোলেমানের জীবদ্দশায় তারই নিজ প্রাসাদে একাধিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। আমাদের দেশ ভারতবর্ষেও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের একাধিক দৃষ্টান্ত বিরাজমান। মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের তৃতীয় পুত্র শাহজাহান পরবর্তী বাদশাহী তখত নিষ্কন্টক করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন। তিনি তার দুই ভাইকে নির্মমভাবে অন্ধ করেন। শুধু তাই নয়, জ্যেষ্ঠ ভাই খসরুকে অন্ধ করার পর তাকে হত্যা ও করেন। ঠিক একইভাবে, সম্রাট শাহজাহানের সন্তানেরাও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত চিত্রায়ণ করে। ১৬৫৮ সালে সম্রাট শাহজাহানের অসুস্থতার প্রেক্ষাপটে সিংহাসন নিয়ে তাঁর চার পুত্রের মধ্যে সংঘর্ষ দানা বাঁধে। সম্রাট শাহজাহানের তৃতীয় পুত্র আওরঙ্গজেব তার দুই ভাইকে হত্যা, অপরজনকে বার্মায় বিতাড়নের মধ্যে দিয়ে বাদশাহী তখতে অধিষ্ঠিত হন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পুত্র আওরঙ্গজেবের হাতে আগ্রার দুর্গে নজরবন্দী হন বৃদ্ধ পিতা শাহজাহান। অন্যদিকে, একবিংশ শতকের শুরুতেই প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের নিষ্ঠুরতম নমুনা আমরা লক্ষ্য করি নেপালে। দেশটিতে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কারণেই প্রাণ দিতে হয় সেই দেশের তুমুল জনপ্রিয় রাজা বীরেন্দ্রকে। শোনা যায়, কাঠমান্ডুতে ২০০১ সালের ওই রাতে মদ্যপ যুবরাজ দীপেন্দ্রের হাতে থাকা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে তার মা-বাবা, ভাই-বোনসহ আরো পাঁচ আত্মীয় নির্মমভাবে নিহত হয়। পরবর্তী পর্যায়ে যুবরাজ দীপেন্দ্র নিজেও আত্মহত্যা করেন। ব্যাক টু মোদ্দাকথা, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার মর্মান্তিক পরাজয়ের নেপথ্যে ছিল এমনই প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের উৎকৃষ্ট চিত্রায়ন। পলাশীর ষড়যন্ত্র ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে যে অধ্যায়ের চূড়ান্ত সমাপতন তার সূচনা নিঃসন্দেহে সূচিত হয়েছিল পারিবারিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে। এই ষড়যন্ত্রের প্রধান মুখ ছিলেন নবাব আলীবর্দীর বড় মেয়ে তথা সিরাজের আপন বড় খালা (মাসি) মেহেরুন্নেসা যিনি ঘষেটি বেগম নামেই সমাধিক পরিচিত ছিলেন। ঢাকার নায়েবে নাজিম (শাসনকর্তা) নওয়াজিশ মুহম্মদ খানের এই সহধর্মিণীর সম্পদের প্রাচুর্য ছিল উভয় তরফেই। খুব সঙ্গতকারণেই ইংরেজদের সঙ্গে তার সহজ সখ্যতা গড়ে ওঠে। তিনি চেয়েছিলেন বাংলার মসনদে বসুক তার আস্থাভাজন সওকাত জঙ্গ। সঙ্গতকারণেই, সিরাজের আপন খালাতো ভাই পূর্ণিয়ার নায়েব নাজিম (শাসনকর্তা) সওকাত জঙ্গ ও সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে সামিল হয়েছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে নবাব দরবারের বিশ্বাসঘাতক ধনকুবের মাহতাব চাঁদ ওরফে জগৎশেঠ, আগ্রার অধিবাসী মদ ও আফিম ব্যবসায়ী সুদখোর উমিচাঁদ, জমিদার রাজবল্লভ, সেনাপতি রায় দুর্লভ, নবাবের নানার সৎ ভগ্নিপতি মীরজাফর আলী খান এবং সুবিধাবাদী রাজন্যবর্গের একটি বৃহৎ অংশ নবাবের বিরুদ্ধে একত্রিত হতে থাকে। ১৭৫৭ সালের ১৯ মে ঘষেটি বেগমের প্রাসাদ সাংহীদালানে (যা জনমানসে মতিঝিল প্রাসাদ নামেই সমাধিক খ্যাত ছিল) সিরাজ বিরোধী প্রায় সকলেই গোপন বৈঠকে মিলিত হন। সেই গোপন বৈঠকেই মীরজাফর আলী খানকে আগামীর নবাব প্রতিপন্ন করা হয়। তিনি নবাবের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার চূড়ান্ত রূপকার হিসেবে কাজ করেন (যদিও তিনি হাতে পবিত্র কুরআন শরীফ নিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, নবাবের অনুগত থাকবেন)। এই প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কারণেই বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়েও মীরজাফর, ইয়ার লতিফ আর রায় দুর্লভ ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে দেশ ও জাতির প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে। অন্যদিকে, এই ষড়যন্ত্র সফল করতে জগৎশেঠ ভ্রাতৃদ্বয় বিপুল পরিমাণ অর্থ সরবরাহের মাধ্যমে ইংরেজদের সাহায্য করেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই সাংহীদালান এবং কাশিমবাজার কুঠি। এছাড়াও মীরজাফর আলী খানের জাফরাগঞ্জ প্রাসাদেও সিরাজ বিরোধী একাধিক নীল নকশা রচনা করা হয়েছিল। জাফরগঞ্জ প্রাসাদের একটি বিশেষ কক্ষে মীরজাফরের পুত্র মীরণের নির্দেশে মহাম্মদী বেগ সিরাজকে হত্যা করে। সেই সময় থেকেই প্রাসাদটি ‘নামাক হারাম দেউড়ি’ নামে কুখ্যাত হয়ে গেছে। পরবর্তী পর্যায়ে নবাবের অধিকাংশ আত্মীয় পরিজনদের খুন এবং গুম করে দেওয়া হয় কখনো মীরণের নির্দেশে আবার কখনো মীরজাফরের অঙ্গুলি হেলনে। একমাত্র সিরাজ জায়া লুৎফুন্নেসা এমন বর্বর আক্রমন থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।
পলাশী ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে বাংলার তরুন নবাব সিরাজউদ্দৌলার (১৭৩৩-১৭৫৭) ধারাবাহিক কিছু পদক্ষেপ ইন্ধন জুগিয়েছিল নিঃসন্দেহে। তরুণ নবাব সিরাজ তার শাসনামলের শুরু থেকেই বাংলার শাসনব্যবস্থার সামগ্রীক পরিবর্তন সাধনে উদ্যগী হয়েছিলেন। সেনাপ্রধানের পদ থেকে মীর জাফরের অপসারণ, ক্ষমতার অলিন্দে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হুকুম বেগকে দেশ থেকে বিতাড়ন, রাজা মানিকচাঁদের কারাদণ্ড সামগ্রীকভাবে দেশীয় রাজন্যবর্গের ললাট লিখন স্পষ্ট করে ফলে। অন্যদিকে, নবাব শাসনকার্যে মীরমদন, মোহনলাল, আব্দুল হাদীদের সামনের সারিতে নিয়ে আসেন। ২৩ বছর বয়সী নবাবের বার্তা স্পষ্ট ছিল- ব্যক্তিস্বার্থ চলবে না, গোষ্ঠী স্বার্থ চলবে না। অন্যদিকে, ইংরেজদের এই দেশে অবাধ বাণিজ্যের ঘোর বিরোধী ছিলেন সিরাজ। তদানীন্তন বাংলার সুবেদার শাহ সুজা মাত্র তিন হাজার টাকা বার্ষিক রাজস্বের বিনিময়ে তাদেরকে বাংলায় বাণিজ্যের অনুমতি দিয়েছিলেন। এই অধিকার বলেই তারা ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে হুগলিতে প্রথম কুঠি স্থাপন করে এবং বাংলার বিভিন্ন বন্দরে বিনাশুল্কে অবাধ বাণিজ্যের সূত্রপাত করে। পরবর্তীতে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজারে তারা আবারও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ইত্যাবসারে, কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ নির্মাণ, দস্তকের চূড়ান্ত অপব্যবহার, অর্থ তছরুপে অভিযুক্ত ঢাকার দেওয়ান রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস কে ইংরেজ কর্তৃক কলকাতায় আশ্রয়দান সামগ্রীকভাবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। ধীরে ধীরে শস্য শ্যামলা, সমৃদ্ধ বাংলা প্রহসনের যুদ্ধের দিকে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চললো। একথা বললে সত্যের অপলাপ হবেনা যে, সিরাজের ১৪ মাসের শাসনামলে, তিনি প্রজাবান্ধব শাসকের ভুমিকা পালন করার চেষ্টা করছেন নিঃসন্দেহে। অথচ, তৎকালীন ইংরেজদের তাবেদার এবং সুবিধাবাদী কলমচিদের অধিকাংশ সিরাজের চরিত্র হননের হীন চেষ্টা করেছেন। জনৈক ইংরেজ হলওয়েল সিরাজের বিরুদ্ধে ‘অন্ধকূপ হত্যা’র (The Black Hole Tragedy) অভিযোগ উত্থাপন করেন। বলা বাহুল্য, সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ঘটনাটি পুরোপুরি সেই ইংরেজ কর্মচারীর কল্পনাপ্রসূত। এই প্রসঙ্গে শ্রীমতি অ্যানি বেসন্ত বলেছেন, “Geometry disproving arithmetic gave lie to the story.” অধ্যাপক সুশীল চৌধুরী, রজতকান্ত রায়, নিখিলনাথ রায়, অক্ষয়কুমার মৈত্রদের মতো প্রথিতযশা মানুষেরা নবাবের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ চিত্রায়নের চেষ্টা করেছেন। শেষমেশ, পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের যুদ্ধ পলাশীর প্রান্তরে ঘটে গেল। মীর মদন এবং মোহনলাল বীরবিক্রমে লড়লেন কিন্তু শেষরক্ষা করা গেল না। বাংলা তথা দেশের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল প্রহসনের খন্ডযুদ্ধে (a mere skirmish)। পলাশীর ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে, সারা দেশজুড়ে ইংরেজ আধিপত্য বিস্তার লাভ করে। ইতিহাসের বাঁক বদলকারী এই ঘটনা নিয়ে গবেষণা, আলোচনার অন্ত নেই। আধুনিক সময়ের একাধিক ঐতিহাসিকদের অভিমত, পলাশী ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে নবাবের নিকটাত্মীয় এবং দেশীয় রাজন্যবর্গের ভুমিকা সর্বাধিক। অধ্যাপক সুশীল চৌধুরীর মতে,- পলাশী ষড়যন্ত্রের পিছনে ব্রিটিশদের সেই অর্থে ‘পূর্বনির্ধারিত ষড়যন্ত্র’ এর পরিকল্পনা ছিল না। এক্ষেত্রে সুবার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কন্টকাকীর্ণ পরিস্থিতি এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে অবশ্যম্ভাবী ভুমিকা পালন করে। তাই, তরুণ নবাব সিরাজদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে দেশীয় রাজন্যবর্গের অতি উৎসাহী মনোভাব ব্রিটিশদের সাম্রাজ্যবাদী অভিপ্সা চাগিয়ে তুলে এবং তারা ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে অন্যতম কুশীলব রূপে আবির্ভূত হন। সেই সময় বিশিষ্ট ইংরেজ কূটনীতিক ওয়াটস সমগ্র ঘটনাপ্রবাহের উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেছিলেন। দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণ যথেষ্টই প্রনিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, “ তারা (ষড়যন্ত্রকারীরা) নিরপেক্ষভাবে অবস্থান গ্রহণ করবে এবং যুদ্ধের জন্য অপেক্ষা করবে। আমরা সফলতা লাভ করলে, তারা লাভবান হবে। অন্যথায় তারা আমাদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন প্রমান করে পূর্বের ন্যায় তাদের কূটকৌশল চালিয়ে যাবে।” আবার, ঐতিহাসিক এস.সি.হিল এবং ব্রিজিন গুপ্ত এই মর্মে সহমত হয়েছেন যে, জগৎশেঠ এবং তার অনুগামীদের সিরাজ বিরোধী ষড়যন্ত্র ছিল তৎকালীন হিন্দু সমাজের স্বৈরতান্ত্রিক মুসলমান শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার ফলশ্রুতি। ইংরেজ ঐতিহাসিক সি.এ.বেইলি বিষয়টি সমর্থন করেছেন। তবে একথা সত্যি যে, পলাশী ষড়যন্ত্র কখনোই দুই শিবিরের (Binary Conflict) দ্বন্দ্ব ছিল না। এখানে একাধিক স্বার্থ মিলেমিশে তৈরি হয় একটি ধুম্রজাল। একজন অসহায় নবাব এবং চতুর ইংরেজ সমর্থিত বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের কারসাজি পলাশী ষড়যন্ত্রের সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ নয়। বাংলা তথা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এই ষড়যন্ত্র একটি বহুবিধ আঙ্গিকের অবতরণা করে। সেই বিপর্যয় ছুঁয়ে গেছে ভারতবর্ষের প্রতিটি প্রান্ত। ইতিহাসের পথ ধরে, একসময়ের চমকপ্রদ শহর মুর্শিদাবাদ আজ বিস্মৃতির অতলান্তে তলিয়ে গেছে। নবাব শিবিরের সবাই ঐক্যবদ্ধ ও একাট্টা থাকলে পলাশীর প্রান্তরে ক্ষুদ্র ইংরেজ বণিকগণ ধূলিসাৎ হয়ে যেতো সেইদিন। ক্লাইভ নিজেই স্বীকার করেছেন, “ নবাব সিরাজউদ্দৌলার মৃতদেহ হাতির পিঠে বহন করে যখন ইংরেজেরা বিজয়োল্লাসে মুর্শিদাবাদ শহর প্রদক্ষিণ করছিল তখন ইচ্ছে করলে মুর্শিদাবাদের জনতা শুধু লাঠি আর পাথর মেরে এই নতুন বিজেতাদেরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারত।”
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct