আপনজন ডেস্ক: ২০২১-২২ সালে দেশের ৭টি রাজ্যে মাধ্যমিক স্তরে স্কুল ছাড়ার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থার রিপোর্টে উঠে এসেছে এই তথ্য। সরকার নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে স্কুল স্তরে মোট ভর্তির হার ১০০ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্যে স্কুল ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকেই প্রধান বাধা হিসাবে দেখছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গুজরাত, বিহার, কর্নাটক, আসাম এবং পাঞ্জাব এমন সাতটি রাজ্যের মধ্যে রয়েছে যেখানে মাধ্যমিক স্তরে স্কুল ছাড়ার হার ২০২১-২২ সালে জাতীয় গড় ১২.৬ শতাংশের চেয়ে বেশি ছিল।২০২৩-২৪ সালের জন্য সমগ্র শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প অনুমোদন বোর্ডের (পিএবি) সভার কার্যবিবরণী থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। উল্লেখ্য চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে স্কুল পর্যায়ে ১০০ শতাংশ গ্রস এনরোলমেন্ট রেট (জিইআর) অর্জনের পথে স্কুল ছেড়ে দেওয়াকে প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে সরকার। পিএবি বৈঠকের কার্যবিবরণীথেকে জানা যায়, ২০২১-২২ সালে মাধ্যমিক স্কুল ছাড়ার হার বিহারে ২০.৪৬ শতাংশ, গুজরাতে ১৭.৮৫ শতাংশ, আসামে ২০.৩ শতাংশ, অন্ধ্রপ্রদেশে ১৬.৭ শতাংশ, পাঞ্জাবে ১৭.২ শতাংশ, মেঘালয়ে ২১.৭ শতাংশ এবং কর্নাটকে ১৪.৬ শতাংশ। যদিও পশ্চিমবঙ্গে ২০২০-২১ থেকে ২০২১-২২ সালের মধ্যে স্কুল ছুট হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবুও বিশেষত প্রাথমিক স্তরে স্কুল ছেড়ে যাওয়ার হার কমাতে এবং মাধ্যমিক স্তরেও যাতে স্কুল ছুট আরো কমে তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়।কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দিল্লিতে প্রচুর স্কুল রয়েছে যেখানে মাধ্যমিক স্তরে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রদেশে মাধ্যমিক স্তরে স্কুল ছেড়ে দেওয়ার হার ২০২০-২১ সালের ২৩.৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২১-২২ সালে ১০.১ শতাংশ হয়েছে। এই রাজ্যটি প্রতি বছর একটি মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে কেন্দ্রীভূত পরিবার সমীক্ষার মাধ্যমে একটি বিশেষ তালিকাভুক্তি অভিযান পরিচালনা করে।তথ্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে মাধ্যমিক স্তরে বার্ষিক গড়ে স্কুল ছেড়ে দেওয়ার হার ২০২০-২১ সালের ১১.২ শতাংশ থেকে কমে ২০২১-২০২২ সালে ১০.৭ শতাংশ হয়েছে। তবে রাজ্যের পাঁচটি জেলায় ১৫ শতাংশ বা তার বেশি। উত্তর প্রদেশের স্কুল ছেড়ে দেওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন জেলায় বিশেষত বস্তি (২৩.৩ শতাংশ), বুদাউন (১৯.১ শতাংশ), ইটাওয়া (১৬.৯ শতাংশ), গাজিপুর (১৬.৬ শতাংশ), ইটাহ (১৬.২ শতাংশ), মাহোবা (১৫.৬ শতাংশ), হরদোই (১৫.৬ শতাংশ) এবং আজমগড় (১৫ শতাংশ) জেলায় বার্ষিক গড়ে স্কুল ছেড়ে দেওয়ার হার “খুব বেশি”।রাজস্থানে স্কুল ছাড়ার হার ক্রমাগত কমছে, তবে তফসিলি উপজাতি (৯ শতাংশ) এবং মুসলিম (১৮ শতাংশ) মাধ্যমিক স্তরে স্কুল ছাড়ার হার এখনও “খুব বেশি”।গত বছর জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) এক সমীক্ষায় বলা হয়, ভারতে ৩৩ শতাংশ মেয়ে গৃহস্থালি কাজের কারণে স্কুল ছাড়ে। অনেক জায়গায় দেখা গেছে, স্কুল ছাড়ার পর শিশুরা পরিবারের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে শুরু করে বা মানুষের ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করতে শুরু করে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct