রঙ্গিলা খতুন, বড়ঞা, আপনজন: মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার বিপ্রশেখর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাপড়দহ গ্রামে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী আমির শেখ (৪৮) খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতরা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। দু’জনেরই বাড়ি পাপড়দহ গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তিদের নাম সাফিরুল বাসার (৫৮) এবং বিরাজ আলম (২৪)। সোমবার ধৃত দু’জনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করে কান্দি কোর্টে পেশ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে দু’ দল গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পাপড়দহ গ্রামে বিবাদ চলছিল। এরই মধ্যে রবিবার সন্ধেবেলায় আমির যখন স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন সেই সময় কিছু দুষ্কৃতী তাকে লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়তে থাকে। বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন আমির এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। গ্রামে বোমাবাজির ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়ে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হন। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মাহে আলম বলেন, ‘আমিরকে যারা মেরেছে তারা এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী। দুষ্কৃতীদের কোনও রাজনৈতিক পরিচয় হয় না। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য।’যদিও গ্রেপ্তার হওয়ার পর কোর্টে যাওয়ার পথে বিরাজ আলম বলেন, ‘আমরা খুনের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাকে এবং আমার বাবাকে মিথ্যে মামলাতে ফাঁসানো হয়েছে। ‘অন্যদিকে বোমাবাজির জেরে তৃণমূল কর্মী খুন হওয়ার পর রবিবার সারা রাত পাপড়দহ গ্রামে তল্লাশি চালায় পুলিশ। নিহতের আত্মীয় মোমিলা বিবির অভিযোগ, ‘যতক্ষণ ও না মরেছে ততক্ষণ বোমা মেরেছে। ঘটনাস্থলেই ওর মৃত্যু হয়েছিল। তারপরেও বেমাা মেরে গেছে। ও তৃণমূল করত। তৃণমূলের লোকেরাই মারল।’ এদিকে, রবিবার সন্ধেয় পাঁপড়দহ গ্রামে বোমাবাজির পর সোমবার সকালেও এলাকার পরিস্থিতি ছিল যথেষ্ট থমথমে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে। ইতিমধ্যে বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে উদ্ধার হাওয়া বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য খবর দেওয়া হয়েছে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct