দেবাশীষ পাল, মালদা, আপনজন: গভীর রাতে ধাবার সামনে চলছে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গালাগালি, ধস্তাধস্তি এবং মারপিট। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন মালদার এক তৃণমূল নেতা। অপরদিকে একজন মহিলা মোবাইলে সেই গোলমালের ঘটনার ছবি ক্যামেরাবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দিয়েছে। আর তাতেই তুমুল শোড়গোল পড়ে গিয়েছে মালদায়।এখন প্রশ্ন উঠেছে, গভীর রাতে পুরাতন মালদা থানার নারায়ণপুর সংলগ্ন জাতীয় সড়কের ধারে ওই ধাবা সারারাত খোলার অনুমতি পুলিশ প্রশাসন দেয় কিভাবে? যদিও দূরপাল্লার বিভিন্ন যানবাহন চালক, খালাসী এবং যাত্রীদের জন্যই গভীর রাত পর্যন্ত ধাবা খুলে রাখার কথা। একথা একবাক্যে স্বীকার করেছে পুরাতন মালদা থানার এক পুলিশ কর্তা। কিন্তু নারায়ণপুর এলাকার নামকরা ওই ধাবার খাবারের মূল্য এতোটাই যে সেখানে সাধারণ গাড়ির চালক বা যাত্রীদের পক্ষে কিনে খাওয়াটা সম্ভব নয়। ফলে রাত বাড়তেই ওই ধাবাতে বাইরে থেকে মদ্যপান করে এসে উল্লাস বিনোদনে করছে একশ্রেণীর মানুষ বলে অভিযোগ। সারারাত ধাবা খুলে রাখার অনুমতি কিভাবে পাওয়া যায়। সে সম্পর্কে জানাতে পারেনি পুলিশ এবং প্রশাসনের একাংশ কর্তারা। এদিকে সোমবার গভীর রাতের গোলমালের ঘটনার পর ওই ধাবার মালিক রাধে সরকার অদ্ভুদ যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ২৫ বছরের পুরনো ধাবা। আমার এখানে পানশালা নেই। কাজেই কোনো রকম বাজে কাজ হয় না। সারারাত ধাবা খোলা থাকে। এটা প্রথম থেকে হয়ে আসছে। সারারাত ধাবা খোলার ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নিতে হয় কিনা সেটাও জানা নেই। কিন্তু রাতের বেলায় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কিনা তার উত্তর কে দেবে? সেই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে, ওই ধাবার মালিক। পুরাতন মালদা থানা আইসি হীরক বিশ্বাস বলেন, সারারাত ধাবা খোলা থাকবে কিনা সেটা লাইসেন্সে উল্লেখ থাকবে। কিন্তু কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ যথেষ্ট নজরদারি চালাচ্ছে। এখন কোথায় কি ধরনের গোলমাল হচ্ছে সেটা বলতে পারব না। একটা ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে পুলিশের নজরদারি সর্বত্রই রয়েছে। আর সারারাত ধাবা খেলার ব্যাপারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বলতে পারবেন।উল্লেখ্য, সোমবার গভীর রাতে বাইরের জেলার বাইক রাইডার দুই ফ্যামিলির সঙ্গে মালদার এক তৃণমূল নেতার তুমুল বচসা শুরু হয় নারায়ণপুর এলাকার একটি নামকরা ধাবার সামনে। আর সেই গোলমালটি দেখা যায় কখনো ধাবার ভিতরে চলছে। আবার কখনো ধাবার সামনে চলছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি থেকে দেখা যাচ্ছে মালদার জনৈক তৃণমূল নেতা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছেন, এমনকি দুই পক্ষের হাতাহাতিও চলে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যম থেকে জানা গিয়েছে, গোলমালের সূত্রপাত ওই তৃণমূল নেতার চার চাকা একটি গাড়ি অপরদিকে স্ট্যান্ড করে থাকা কয়েকটি মোটরবাইকে ধাক্কা মারে। যে মোটরবাইক নিয়ে দুই ফ্যামিলি, বাইরে থেকে এসেছিলেন। পিউ রায় দাস নামক একজন মহিলা সমস্ত ঘটনার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ভাইরাল করেছেন।সেখানে দেখা যাচ্ছে রীতিমতো মাটিতে লুটোপুটি করছে ওই তৃণমূল নেতা এবং জনৈকও আরেক ব্যক্তি।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct